Dhaka ০৬:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ইতমিনান পরিচালক কর্মশালা সফলভাবে সম্পন্ন বগুড়ায় ডিবির সাঁড়াশি অভিযান: আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার, উদ্ধার স্বর্ণালংকার-মোটরসাইকেল পুলিশ বাবা করলেন অপহরণের মামলা, লাইভে এসে মিথ্যা দাবি মেয়ের!! নরসিংদীর শিবপুরে বিশ্ব পরিবেশ দিবসে র‌্যালি, বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কুয়েত-বাহরাইনকে লক্ষ্য করে ৭টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান সিরাজদিখানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত মাদকের বিরুদ্ধে ফুটবল টুর্নামেন্ট মানিকগঞ্জ, দৌলতপুরের চরকাটারীতে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ইতমিনান পরিচালক কর্মশালা সফলভাবে অনুষ্ঠিত জাতীয় ফল কাঁঠালের সমারোহে মুখর উঠোন, শিশুদের উচ্ছ্বাস চট্টগ্রামের রাজনীতিতে সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্ব: বাস্তবতা, প্রত্যাশা ও সাংগঠনিক সমীকরণ
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

কুড়িগ্রাম-১ আসন অভ‍্যন্তরীন কোন্দলে বিএনপির হার সাংগঠনিক অদক্ষতায় জামায়াত হারালো ৩ জন

  • Reporter Name
  • সময়: ০৭:৫০:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৯৩ Time View

মোঃ রাহিজুল ইসলাম, ভূরুঙ্গামারী ( কুড়িগ্রাম ) প্রতিনিধি:


সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-১ আসনে ৬ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও বিএনপির শক্তিশালী প্রার্থী সাইফুর রহমান রানাকে হারিয়ে জাতীয় পার্টির দূর্গ দখলে নেন জামায়াত মনোনীত মো. আনোয়ারুল ইসলাম। তিনি প্রথমবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ১ লাখ ৪১ হাজার ৯০ ভোট পেয়ে কুড়িগ্রাম-১ আসনে বিজয়ের হাসি হাসেন। তার নিকটম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপির প্রার্থী পান ১ লাখ ২৩ হাজার ২৫ ভোট। এদিকে আসনটি দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় পার্টির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এবং ৪ বারের এমপি একেএম মোস্তাফিজুর রহমান এবার লাঙল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পেয়েছেন ৫০ হাজার ৭২৭ ভোট।

অপরদিকে সাংগঠনিক দূর্বলতা ও অদক্ষতার কারণে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামানত হারিয়েছেন ৩ প্রার্থী। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী কোনো প্রার্থী যদি মোট প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পান তবে তিনি জামানত হারাবেন। জামানত হারানো প্রার্থীরা হলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হারিসুল বারি রনি, জাকের পার্টির আব্দুল হাই ও গণঅধিকার পরিষদের বিন ইয়ামীন মোল্লা।

প্রকাশিত ফলাফল সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম-১ আসনে মোট বৈধ ভোট গণনা হয়েছে ৩ লাখ ৫৩ হাজার ৭৮৭টি। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হাতপাখা প্রতীকে ৩৮ হাজার ৮০৭ ভোট পেয়েছেন। জাকের পার্টির প্রার্থী গোলাপ ফুল প্রতীকে ২ হাজার ৯০৭ ভোট পেয়েছেন। গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী ট্রাক প্রতীকে ২৩১ ভোট পেয়েছেন। যদিও গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী নির্বাচনের দুই দিন আগে জামায়াত প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সড়ে দাঁড়ান।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ভূরুঙ্গামারী – নাগেশ্বরী উপজেলা নিয়ে গঠিত কুড়িগ্রাম-১ আসনে এবার বিএনপির প্রত্যাশা ছিল অনেক বড়। প্রচারণায় সরব উপস্থিতি, কেন্দ্রভিত্তিক এজেন্ট নিয়োগ, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সব মিলিয়ে দলীয় শিবিরে আত্মবিশ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। স্থানীয়ভাবে অনেকে ধরে নিয়েছিলেন, জাতীয় পার্টির দীর্ঘদিনের দুর্গ এবার বিএনপির দখলে যাচ্ছে। কিন্তু ফল ঘোষণার পর পাল্টে যায় হিসাব-নিকাশ। জয় পায় জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা। অভিযোগ উঠেছে দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল, নেতৃত্বের অদক্ষতা, গ্রুপিং, বিতর্কিত ব্যক্তিদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্তি, ভোট সমীকরণের জটিল হিসাব ও স্থানীয় সমন্বয়হীনতার কারণেই নির্বাচনে পরাজয় হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  নরসিংদীর শিবপুরে বিশ্ব পরিবেশ দিবসে র‌্যালি, বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ

বিএনপির তৃণমূলের একাধিক নেতাকর্মীর ভাষ্য, প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই দলে সমন্বয়ের ঘাটতি স্পষ্ট হয়। ভূরুঙ্গামারী ও নাগেশ্বরী উপজেলার একাংশ নেতা সক্রিয় থাকলেও অন্য অংশ নীরব ছিলেন। ইউনিয়ন পর্যায়ে বিএনপির অঙ্গসংগঠনের একাধিক কমিটি থাকলেও কার্যকর মাঠ-সমন্বয় দেখা যায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভূরুঙ্গামারী উপজেলা বিএনপির একাধিক যুগ্ম আহবায়ক বলেন, ‘প্রচারণা ছিল, কিন্তু ঐক্য ছিল না। ভেতরের দ্বন্দ্বই শেষ পর্যন্ত ক্ষতি করেছে।’

কুড়িগ্রাম-১ আসন বিএনপির প্রার্থী সাইফুর রহমান রানা পরাজয়ের জন্য সরাসরি জেলা নেতৃত্বকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার হারার পেছনে জেলা আহ্বায়কের সরাসরি ভূমিকা আছে। নাগেশ্বরী ও ভূরুঙ্গামারী উপজেলা কমিটিকে আমাকে হারাতে ইন্ধন দেওয়া হয়েছে। শুধু আমার আসন নয়, কুড়িগ্রামের চারটি আসনেই অদক্ষ নেতৃত্বের কারণে ভরাডুবি হয়েছে।’

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ইতমিনান পরিচালক কর্মশালা সফলভাবে সম্পন্ন

কুড়িগ্রাম-১ আসন অভ‍্যন্তরীন কোন্দলে বিএনপির হার সাংগঠনিক অদক্ষতায় জামায়াত হারালো ৩ জন

সময়: ০৭:৫০:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মোঃ রাহিজুল ইসলাম, ভূরুঙ্গামারী ( কুড়িগ্রাম ) প্রতিনিধি:


সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-১ আসনে ৬ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও বিএনপির শক্তিশালী প্রার্থী সাইফুর রহমান রানাকে হারিয়ে জাতীয় পার্টির দূর্গ দখলে নেন জামায়াত মনোনীত মো. আনোয়ারুল ইসলাম। তিনি প্রথমবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ১ লাখ ৪১ হাজার ৯০ ভোট পেয়ে কুড়িগ্রাম-১ আসনে বিজয়ের হাসি হাসেন। তার নিকটম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপির প্রার্থী পান ১ লাখ ২৩ হাজার ২৫ ভোট। এদিকে আসনটি দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় পার্টির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এবং ৪ বারের এমপি একেএম মোস্তাফিজুর রহমান এবার লাঙল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পেয়েছেন ৫০ হাজার ৭২৭ ভোট।

অপরদিকে সাংগঠনিক দূর্বলতা ও অদক্ষতার কারণে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামানত হারিয়েছেন ৩ প্রার্থী। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী কোনো প্রার্থী যদি মোট প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পান তবে তিনি জামানত হারাবেন। জামানত হারানো প্রার্থীরা হলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হারিসুল বারি রনি, জাকের পার্টির আব্দুল হাই ও গণঅধিকার পরিষদের বিন ইয়ামীন মোল্লা।

প্রকাশিত ফলাফল সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম-১ আসনে মোট বৈধ ভোট গণনা হয়েছে ৩ লাখ ৫৩ হাজার ৭৮৭টি। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হাতপাখা প্রতীকে ৩৮ হাজার ৮০৭ ভোট পেয়েছেন। জাকের পার্টির প্রার্থী গোলাপ ফুল প্রতীকে ২ হাজার ৯০৭ ভোট পেয়েছেন। গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী ট্রাক প্রতীকে ২৩১ ভোট পেয়েছেন। যদিও গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী নির্বাচনের দুই দিন আগে জামায়াত প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সড়ে দাঁড়ান।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ভূরুঙ্গামারী – নাগেশ্বরী উপজেলা নিয়ে গঠিত কুড়িগ্রাম-১ আসনে এবার বিএনপির প্রত্যাশা ছিল অনেক বড়। প্রচারণায় সরব উপস্থিতি, কেন্দ্রভিত্তিক এজেন্ট নিয়োগ, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সব মিলিয়ে দলীয় শিবিরে আত্মবিশ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। স্থানীয়ভাবে অনেকে ধরে নিয়েছিলেন, জাতীয় পার্টির দীর্ঘদিনের দুর্গ এবার বিএনপির দখলে যাচ্ছে। কিন্তু ফল ঘোষণার পর পাল্টে যায় হিসাব-নিকাশ। জয় পায় জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা। অভিযোগ উঠেছে দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল, নেতৃত্বের অদক্ষতা, গ্রুপিং, বিতর্কিত ব্যক্তিদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্তি, ভোট সমীকরণের জটিল হিসাব ও স্থানীয় সমন্বয়হীনতার কারণেই নির্বাচনে পরাজয় হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  চট্টগ্রামের রাজনীতিতে সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্ব: বাস্তবতা, প্রত্যাশা ও সাংগঠনিক সমীকরণ

বিএনপির তৃণমূলের একাধিক নেতাকর্মীর ভাষ্য, প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই দলে সমন্বয়ের ঘাটতি স্পষ্ট হয়। ভূরুঙ্গামারী ও নাগেশ্বরী উপজেলার একাংশ নেতা সক্রিয় থাকলেও অন্য অংশ নীরব ছিলেন। ইউনিয়ন পর্যায়ে বিএনপির অঙ্গসংগঠনের একাধিক কমিটি থাকলেও কার্যকর মাঠ-সমন্বয় দেখা যায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভূরুঙ্গামারী উপজেলা বিএনপির একাধিক যুগ্ম আহবায়ক বলেন, ‘প্রচারণা ছিল, কিন্তু ঐক্য ছিল না। ভেতরের দ্বন্দ্বই শেষ পর্যন্ত ক্ষতি করেছে।’

কুড়িগ্রাম-১ আসন বিএনপির প্রার্থী সাইফুর রহমান রানা পরাজয়ের জন্য সরাসরি জেলা নেতৃত্বকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার হারার পেছনে জেলা আহ্বায়কের সরাসরি ভূমিকা আছে। নাগেশ্বরী ও ভূরুঙ্গামারী উপজেলা কমিটিকে আমাকে হারাতে ইন্ধন দেওয়া হয়েছে। শুধু আমার আসন নয়, কুড়িগ্রামের চারটি আসনেই অদক্ষ নেতৃত্বের কারণে ভরাডুবি হয়েছে।’