রফিকুল ইসলাম, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি :
কুষ্টিয়ায় সোহাগ (২৪) ও সাইফুল (৩৫) নামের দুই যুবককে অপহরণ করে একটি বাসায় আটকে রেখে মারধর ও মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
রোববার (১৭ মে) ভিকটিম সোহাগের পিতা আবু হানিফ বাদী হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ জানায়, শনিবার (১৬ মে) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শহরের কালিশংকরপুর সোনার বাংলা রোড এলাকার একটি বাসা থেকে দুই ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়। একই সময় অপহরণে জড়িত তিনজনকে আটক করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানার ঘোনাপাড়া এলাকার মোসলেম মোল্লার ছেলে এনামুল মোল্লা (৩২), কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার বেড় কালোয়া এলাকার মিজানুর রহমানের ছেলে ইমরান হোসেন ওরফে রাসেল (৩১) এবং কুষ্টিয়া শহরের কালিশংকরপুর এলাকার ইউনুস আলীর ছেলে নুহাশ হাসান (২০)।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন মাতুব্বরের নেতৃত্বে এসআই কামরুল ইসলাম, এসআই মো. সামসুল আলম ও এসআই আব্দুল আলিমসহ পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম সোহাগ ও তার বন্ধু সাইফুল শনিবার বিকেলে পটুয়াখালী থেকে বাসযোগে কুষ্টিয়ার মজমপুর গেটে পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আসামিরা তাদের অপহরণ করে। পরে নুহাশ হাসানের কালিশংকরপুরের বাসায় নিয়ে আটকে রেখে মারধর করা হয় এবং পরিবারের কাছে ফোন করে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
এ সময় সোহাগের বিকাশ নম্বর থেকে ১৭ হাজার টাকা ক্যাশ আউট করা হয় এবং পরিবারের কাছ থেকে আরও ১০ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর আরও টাকার জন্য দুই যুবকের ওপর নির্যাতন চালানো হয়।
ঘটনার পর ভিকটিমদের পরিবার পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে মির্জাগঞ্জ থানা পুলিশ কুষ্টিয়া মডেল থানাকে অবহিত করলে মোবাইল নম্বর ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে ভিকটিমদের উদ্ধার এবং তিন অপহরণকারীকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আরও কয়েকজন জড়িত থাকলেও পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালিয়ে যায়। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি মো. কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, “মির্জাগঞ্জ থানার তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ভিকটিমদের উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”
Reporter Name 






















