Dhaka ০২:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
খুলনায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে শোভাযাত্রা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান মহিষখলা উচ্চ বিদ্যালয়ে মাদক, বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিং প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা হরিণাকুণ্ডুতে ২৪ পিস ইয়াবাসহ দুইজন গ্রেপ্তার ভাঙ্গুড়ায় আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন বিদেশে উচ্চশিক্ষার নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার ওমর নেওয়াজ জেলহাজতে প্রাথমিক শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই —এটিএম কামরুল ইসলাম বুড়িচংয়ে ভাঙারির আড়ালে চোরাই পণ্যের বেচাকেনা, বাড়ছে অপরাধ ফোবানার ৪১তম সম্মেলনের স্বাগতিক শহর ওয়াশিংটন ডিসি পটুয়াখালীতে দেশীয় অস্ত্রসহ আলিম গ্রেপ্তার
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

‘গণতন্ত্রের মানসপুত্র’ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ৬৩তম স্মৃতি বার্ষিকী ৫ ডিসেম্বর

  • Reporter Name
  • সময়: ০৭:১৪:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫ Time View

হাকিকুল ইসলাম খোকন, বাপসনিউজ


‘গণতন্ত্রের মানসপুত্র’ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ৬৩তম স্মৃতি বার্ষিকী আগামী ৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার। গণতন্ত্রের মানসপুত্র, উপমহাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ, ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা এবং মহান স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক পিতা হিসেবে সুপরিচিত হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ৬৩তম স্মৃতি বার্ষিকী এটি।

তিনি ১৯৬৩ সালের ৫ ডিসেম্বর লেবাননের বৈরুতে একটি হোটেল কক্ষে নিঃসঙ্গ অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ঢাকার সুপ্রিম কোর্টের পাশে তিন নেতার মাজারে তাঁর সমাধি রয়েছে। খবর আইবিএননিউজ।

১৮৯২ সালের ৮ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুরের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তাঁর জন্ম। তিনি কলকাতা হাইকোর্টের খ্যাতনামা বিচারক স্যার জাহিদ সোহরাওয়ার্দীর কনিষ্ঠ সন্তান।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী পাকিস্তানের সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রকামী মানুষের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকে তিনি মুসলিম লীগ সরকারের একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ভূমিকা পালন করেন। তিনি শুধু একজন রাজনৈতিক নেতাই নন, ছিলেন একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়কও।

তাঁর প্রচেষ্টায় ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান প্রণীত হয়। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পর বাঙালির যে জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ঘটেছিল, তার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। তাঁর রাজনৈতিক দূরদর্শিতার ফল ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট ও অবিস্মরণীয় বিজয়। গণতান্ত্রিক রীতি ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকায় সুধীসমাজ তাঁকে ‘গণতন্ত্রের মানসপুত্র’ বলে আখ্যায়িত করে।

দিবসটি উপলক্ষে সাবেক রাষ্ট্রপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণীতে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

সাবেক রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে বলেন, গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী ছিলেন প্রতিভাবান রাজনীতিক, আইনজ্ঞ, বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক সভা ও গণপরিষদের সদস্য এবং অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রীসহ তৎকালীন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকালে তিনি শ্রমজীবীসহ এতদঞ্চলের অবহেলিত মুসলিম সম্প্রদায়ের স্বার্থরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি স্বল্প সময়ের মধ্যে নাবিক, রেলকর্মচারী, পাটকল ও সুতাকল কর্মচারী, রিকশাচালক, গাড়িচালকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মেহনতি মানুষের স্বার্থরক্ষায় বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন গড়ে তোলেন।

আরও পড়ুনঃ  রংপুরে চার খুন সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে : ত্রাণমন্ত্রী

অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ বলেন, সোহ্‌রাওয়ার্দী আমৃত্যু আইনের শাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছেন। গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী গণতন্ত্রের বিকাশসহ এতদঞ্চলের জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে যে অবদান রেখে গেছেন, জাতি তা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। তাঁর জীবন ও কর্ম আগামী প্রজন্মকে গণতান্ত্রিক চিন্তা-চেতনা ও জনগণের সার্বিক কল্যাণে উদ্বুদ্ধ করবে।

এদিকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে বলেন, হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী ছিলেন একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক। একজন প্রতিভাবান রাজনৈতিক সংগঠক হিসেবে তাঁর দক্ষ পরিচালনায় গণমানুষের সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আরও বিকশিত হয়। তাঁর সুযোগ্য উত্তরসূরি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্ব পাকিস্তান সরকারের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের দীর্ঘ ২৩ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় আমাদের মহান স্বাধীনতা।

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী উপমহাদেশের মেহনতি মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় আজীবন সংগ্রাম করেছেন। তিনি ছিলেন একজন উদার ও প্রাজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রীসহ তৎকালীন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার পথিকৃৎ এবং সাধারণ মানুষের প্রতি তাঁর ছিল অকৃত্রিম মমত্ববোধ।

তিনি বলেন, ‘১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকে হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের গণবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে এদেশের মানুষকে সোচ্চার ও সংগঠিত করেছিলেন। গণতান্ত্রিক রীতি ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে ‘গণতন্ত্রের মানসপুত্র’ বলে আখ্যায়িত করা হয়।’

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক বিবৃতিতে মরহুম হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, তিনি গণতন্ত্রের জন্য আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। তাঁর নেতৃত্বের অসাধারণ বলিষ্ঠতা, দৃঢ়তা ও গুণাবলি জাতিকে সঠিক পথের দিকনির্দেশনা দিয়েছে। গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তিনি অসামান্য অবদান রেখেছেন।

আরও পড়ুনঃ  বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট নিয়ে দুঃখ প্রকাশ, সমাধানে সময় চাইলেন তারেক রহমান

বিবৃতিতে তিনি গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকী যথাযথ মর্যাদায় পালন করার জন্য আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনসমূহের সব স্তরের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

এছাড়াও দিবসটি উপলক্ষে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এদিন সকাল ৯টায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট সংলগ্ন হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দীর মাজারে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

আমেরিকা-বাংলাদেশ অ্যালায়েন্সের প্রেসিডেন্ট ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এমএ সালাম এক বিবৃতিতে মরহুম হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দীর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, তিনি গণতন্ত্রের জন্য আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। তাঁর নেতৃত্বের অসাধারণ বলিষ্ঠতা, দৃঢ়তা ও গুণাবলি জাতিকে সঠিক পথের দিকনির্দেশনা দিয়েছে। গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তিনি অসামান্য অবদান রেখেছেন।

বিবৃতিতে তিনি গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকী যথাযথ মর্যাদায় পালন করার জন্য আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনসমূহসহ অন্যান্য সব স্তরের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।

যুক্তরাষ্ট্রেও অনেক সংগঠন দিবসটি পালন করবে। যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলো যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে ৬১তম স্মৃতি বার্ষিকী পালন করবে।

এ উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্র সোহরাওয়ার্দী স্মৃতি পরিষদ, শিরি শিশু সাহিত্য কেন্দ্র, বঙ্গবন্ধু প্রচার কেন্দ্র ও সমাজকল্যাণ পরিষদ, বনলতা শিল্পী, সাহিত্যিক ও সাংবাদিক গোষ্ঠী এবং শেখ হাসিনা মঞ্চসহ বিভিন্ন সংগঠন বিশেষ আলোচনা সভা ও প্রার্থনার আয়োজন করেছে।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

খুলনায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে শোভাযাত্রা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান

‘গণতন্ত্রের মানসপুত্র’ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ৬৩তম স্মৃতি বার্ষিকী ৫ ডিসেম্বর

সময়: ০৭:১৪:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হাকিকুল ইসলাম খোকন, বাপসনিউজ


‘গণতন্ত্রের মানসপুত্র’ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ৬৩তম স্মৃতি বার্ষিকী আগামী ৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার। গণতন্ত্রের মানসপুত্র, উপমহাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ, ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা এবং মহান স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক পিতা হিসেবে সুপরিচিত হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ৬৩তম স্মৃতি বার্ষিকী এটি।

তিনি ১৯৬৩ সালের ৫ ডিসেম্বর লেবাননের বৈরুতে একটি হোটেল কক্ষে নিঃসঙ্গ অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ঢাকার সুপ্রিম কোর্টের পাশে তিন নেতার মাজারে তাঁর সমাধি রয়েছে। খবর আইবিএননিউজ।

১৮৯২ সালের ৮ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুরের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তাঁর জন্ম। তিনি কলকাতা হাইকোর্টের খ্যাতনামা বিচারক স্যার জাহিদ সোহরাওয়ার্দীর কনিষ্ঠ সন্তান।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী পাকিস্তানের সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রকামী মানুষের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকে তিনি মুসলিম লীগ সরকারের একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ভূমিকা পালন করেন। তিনি শুধু একজন রাজনৈতিক নেতাই নন, ছিলেন একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়কও।

তাঁর প্রচেষ্টায় ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান প্রণীত হয়। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পর বাঙালির যে জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ঘটেছিল, তার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। তাঁর রাজনৈতিক দূরদর্শিতার ফল ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট ও অবিস্মরণীয় বিজয়। গণতান্ত্রিক রীতি ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকায় সুধীসমাজ তাঁকে ‘গণতন্ত্রের মানসপুত্র’ বলে আখ্যায়িত করে।

দিবসটি উপলক্ষে সাবেক রাষ্ট্রপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণীতে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

সাবেক রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে বলেন, গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী ছিলেন প্রতিভাবান রাজনীতিক, আইনজ্ঞ, বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক সভা ও গণপরিষদের সদস্য এবং অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রীসহ তৎকালীন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকালে তিনি শ্রমজীবীসহ এতদঞ্চলের অবহেলিত মুসলিম সম্প্রদায়ের স্বার্থরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি স্বল্প সময়ের মধ্যে নাবিক, রেলকর্মচারী, পাটকল ও সুতাকল কর্মচারী, রিকশাচালক, গাড়িচালকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মেহনতি মানুষের স্বার্থরক্ষায় বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন গড়ে তোলেন।

আরও পড়ুনঃ  সামরিক স্থাপনা থেকে দূরে থাকার আহ্বান, হামলার ছবি-ভিডিও ধারণ ও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশে নিষেধ

অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ বলেন, সোহ্‌রাওয়ার্দী আমৃত্যু আইনের শাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছেন। গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী গণতন্ত্রের বিকাশসহ এতদঞ্চলের জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে যে অবদান রেখে গেছেন, জাতি তা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। তাঁর জীবন ও কর্ম আগামী প্রজন্মকে গণতান্ত্রিক চিন্তা-চেতনা ও জনগণের সার্বিক কল্যাণে উদ্বুদ্ধ করবে।

এদিকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে বলেন, হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী ছিলেন একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক। একজন প্রতিভাবান রাজনৈতিক সংগঠক হিসেবে তাঁর দক্ষ পরিচালনায় গণমানুষের সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আরও বিকশিত হয়। তাঁর সুযোগ্য উত্তরসূরি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্ব পাকিস্তান সরকারের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের দীর্ঘ ২৩ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় আমাদের মহান স্বাধীনতা।

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী উপমহাদেশের মেহনতি মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় আজীবন সংগ্রাম করেছেন। তিনি ছিলেন একজন উদার ও প্রাজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রীসহ তৎকালীন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার পথিকৃৎ এবং সাধারণ মানুষের প্রতি তাঁর ছিল অকৃত্রিম মমত্ববোধ।

তিনি বলেন, ‘১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকে হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের গণবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে এদেশের মানুষকে সোচ্চার ও সংগঠিত করেছিলেন। গণতান্ত্রিক রীতি ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে ‘গণতন্ত্রের মানসপুত্র’ বলে আখ্যায়িত করা হয়।’

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক বিবৃতিতে মরহুম হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, তিনি গণতন্ত্রের জন্য আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। তাঁর নেতৃত্বের অসাধারণ বলিষ্ঠতা, দৃঢ়তা ও গুণাবলি জাতিকে সঠিক পথের দিকনির্দেশনা দিয়েছে। গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তিনি অসামান্য অবদান রেখেছেন।

আরও পড়ুনঃ  সমঝোতার রাজনীতিতে আসার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

বিবৃতিতে তিনি গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকী যথাযথ মর্যাদায় পালন করার জন্য আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনসমূহের সব স্তরের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

এছাড়াও দিবসটি উপলক্ষে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এদিন সকাল ৯টায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট সংলগ্ন হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দীর মাজারে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

আমেরিকা-বাংলাদেশ অ্যালায়েন্সের প্রেসিডেন্ট ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এমএ সালাম এক বিবৃতিতে মরহুম হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দীর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, তিনি গণতন্ত্রের জন্য আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। তাঁর নেতৃত্বের অসাধারণ বলিষ্ঠতা, দৃঢ়তা ও গুণাবলি জাতিকে সঠিক পথের দিকনির্দেশনা দিয়েছে। গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তিনি অসামান্য অবদান রেখেছেন।

বিবৃতিতে তিনি গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকী যথাযথ মর্যাদায় পালন করার জন্য আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনসমূহসহ অন্যান্য সব স্তরের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।

যুক্তরাষ্ট্রেও অনেক সংগঠন দিবসটি পালন করবে। যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলো যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে ৬১তম স্মৃতি বার্ষিকী পালন করবে।

এ উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্র সোহরাওয়ার্দী স্মৃতি পরিষদ, শিরি শিশু সাহিত্য কেন্দ্র, বঙ্গবন্ধু প্রচার কেন্দ্র ও সমাজকল্যাণ পরিষদ, বনলতা শিল্পী, সাহিত্যিক ও সাংবাদিক গোষ্ঠী এবং শেখ হাসিনা মঞ্চসহ বিভিন্ন সংগঠন বিশেষ আলোচনা সভা ও প্রার্থনার আয়োজন করেছে।