
আফজাল হোসেন চাঁদ, ঝিকরগাছা (যশোর) প্রতিনিধি:
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার যদুনাথপুর-দেউলী-পাঁচপোতা-কোমরচাঁন্দা (জেডিপিকে) মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (গ্রন্থাগারিক) মো. তসলিম আরিফ সবুজের বিরুদ্ধে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা, মাদক ব্যবসা ও অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত থাকার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, গত ২০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ওই শিক্ষক তার নিজ পরিবারের সম্পর্কে ভাতিজি এবং একই বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয় লোকজন তাকে হাতেনাতে ধরে গণপিটুনি দেয়। এ ঘটনার পর থেকে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, মো. তসলিম আরিফ সবুজ দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন, মাদক ব্যবসা এবং অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত। এর আগে তিনি ৪ হাজার পিস ইয়াবাসহ শার্শা থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিলেন এবং বর্তমানে জামিনে আছেন। একাধিকবার সালিশ-দরবার হলেও তিনি নিজেকে সংশোধন করেননি বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এই বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বরাবর গত ২৩ এপ্রিল স্মারকলিপি প্রদান করেন এলাকাবাসী ও অভিভাবকবৃন্দ। স্মারকলিপিতে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. নুরুজ্জামান, মো. আক্তারুজ্জামানসহ আরও অনেকে স্বাক্ষর করেন। এছাড়াও বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীদের পক্ষ থেকেও ২৮ এপ্রিল একটি আবেদন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়।
আবেদনে অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করে তদন্ত সাপেক্ষে চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষক মো. তসলিম আরিফ সবুজের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি একাধিকবার ফোন কেটে দেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল আজিজ বলেন, “সবুজ প্রতিনিয়ত সিম পরিবর্তন করে।”
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সাফফাত আরা সাঈদ বলেন, “অভিযোগের কপি পেয়েছি। বিধি মোতাবেক তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
Reporter Name 

























