
আমির হোসাইন,
স্টাফ রিপোর্টার:
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার জাদুকাটা নদীতে দীর্ঘদিন পর আবারও কর্মচাঞ্চল্য ফেরার আশা তৈরি হয়েছে। আগামী শনিবার থেকে নদীতে কাজ করার সুযোগ পাবেন হাজারো শ্রমিক—এমন খবর ছড়িয়ে পড়েছে শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে। শুক্রবার থেকে নদী খোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া গেলে সিদ্ধান্তটির বিষয়টি আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে।
জাদুকাটা নদী তাহিরপুর উপজেলার হাজারো শ্রমিকের জীবিকা নির্বাহের অন্যতম প্রধান অবলম্বন। নদীকে কেন্দ্র করে বালু-পাথর উত্তোলন, নৌকা পরিচালনা ও পরিবহনসহ বিভিন্ন কাজে যুক্ত রয়েছেন বহু শ্রমজীবী মানুষ। এসব কাজের আয়ের ওপর নির্ভর করে চলে তাঁদের পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয়।
দীর্ঘদিন নদীর কার্যক্রম বন্ধ থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েন নদীনির্ভর অনেক শ্রমিক। এতে তাঁদের পরিবার-পরিজন নিয়ে সংসার চালাতে নানা সংকটের সৃষ্টি হয়। নিয়মিত কাজের অভাবে আয় কমে যাওয়ায় অনেক পরিবারকে আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে জাদুকাটা নদী পুনরায় খুলে দেওয়ার খবর শ্রমিকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। শনিবার থেকে কাজ শুরু করা সম্ভব হলে অনেক শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি নদীকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও গতি ফিরতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
নদীনির্ভর শ্রমিকদের কাছে জাদুকাটা শুধু একটি নদী নয়, বরং তাঁদের জীবন-জীবিকা ও পরিবারের ভরণপোষণের অন্যতম উৎস। তাই নদী চালুর খবরে শ্রমিকদের পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও স্বস্তি ফিরে আসার প্রত্যাশা দেখা দিয়েছে।
তবে নদীতে কাজ শুরুর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা, আইনগত বিধিনিষেধ এবং পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি। শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মসংস্থান ও জীবিকার সুযোগ তৈরির পাশাপাশি নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
এখন হাজারো শ্রমিকের অপেক্ষা—কবে ফিরবে জাদুকাটা নদীর চেনা কর্মব্যস্ততা, কবে আবার নিয়মিত কাজের আয়ে স্বস্তি ফিরবে তাঁদের পরিবারে। নদী খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের কর্মহীনতা কাটিয়ে নতুন করে জীবিকা শুরুর সুযোগ তৈরি হতে পারে তাঁদের সামনে।
Reporter Name 






















