Dhaka ০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
ব্রাহ্মণপাড়ায় তাহেরিয়া বখশীয়া দরবার শরীফের ৩৮ তম বাৎসরিক ওরশ অনুষ্ঠিত পঞ্চগড়-২ আসনে আটজনের মধ্যে জামানত হারালেন ৬ জন পদ প্রার্থী রাজশাহীতে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদকদ্রব্য উদ্ধার নড়াইলে তাল গাছের স্বল্পতা অস্তিত্বের লড়াইয়ে বাবুই পাখির ৩০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট সহ ০৩ জন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক ডিবিপুলিশ এক নজরে জনাব সাঈদ আল নোমান  চট্টগ্রাম-১১-এ ধানের শীষের বিজয় ঘিরে তৃণমূলের শক্ত অবস্থান,দোয়া মাহফিল শেষে বিএনপি নেতাদের ফুলেল সংবর্ধনা,ঐক্যের বার্তা তেতুলিয়ায় মোটরসাইকেল ধাক্কায় একজন পথচারীর মৃত্যু আরোহী আশাংখাজনক দানবীর আলহাজ্ব বশির আহমদ এর মৃত্যুতে হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকীর শোক মরিচ্যা চেকপোস্টে বাসে লুকানো ১০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার, চালক আটক
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

নড়াইলে তাল গাছের স্বল্পতা অস্তিত্বের লড়াইয়ে বাবুই পাখির

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:৫৭:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১০ Time View

 

উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:


নড়াইলে তাল গাছের স্বল্পতা অস্তিত্বের লড়াইয়ে বাবুই পাখির। কবি রজনীকান্ত সেনের ভাষায়, ‘বাবুই পাখিরে ডাকি বলিছে চড়াই, কুঁড়ে ঘরে থেকে কর শিল্পের বড়াই।’ আবহমান গ্রামবাংলার বাসা তৈরির যে নিখুত কারিগর, কবির কালজয়ী ‘স্বাধীনতার সুখ’ কবিতার নায়ক সেই বাবুই পাখি শিল্পের বড়াই করতেই পারে। উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি জানান, তবে তাল গাছের সল্পতা আর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে বাবুই পাখি নিজেই আজ অস্তিত্ব সংকটে। কালের বিবর্তনে নেই শিল্পের বড়াই। তাই আর কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত হয় না গ্রামবাংলার জনপদ।
অথচ মাত্র কবছর আগেও গ্রাম্য মেঠো পথ কিংবা প্রতিটি বাড়ির আনাচে-কানাচে তাল গাছের পাতায় পাতায় উুঁকি দিত মন ভুলানো বাবুই পাখি ও দৃষ্টিনন্দন বাসা। তবে এখন চিরচেনা সেই ছায়া সুনিবিড় গ্রামাঞ্চলেই বাবুই পাখি চোখে মেলানো ভার। মেঠোপথ বেয়ে মাইলের পর মাইল হাঁটলেও চোখে পড়েনা ঐতিহ্যের বাহক বাবুই পাখি।
দেশের অন্যান্য অঞ্চলের ন্যায় নড়াইল জেলা থেকেও বাবুই পাখি আজ বিলুপ্ত প্রায়। বহুদিন চোখে পড়েনা তাল গাছের পাতায় পাতায় ঝুলে থাকা নিপুণ কারিগর বাবুই পাখির বাসা। আর তরুণ প্রজন্ম যেন থমকে আছে বইয়ের পাতায়। নাম শুনলেও অধিকাংশেরই পাওয়া হয়নি চোখে দেখার সাধ।

১৪-১৫ বছর আগেও এ অঞ্চলের প্রায় প্রতিটি বাড়ির উঠান কিংবা রাস্তার ধারের প্রতিটি তাল গাছ আর খেজুর গাছেও দেখা যেত দৃষ্টিনন্দন বাবুই পাখির বাসা।

অভিজ্ঞ জনদের ধারণা, বছরের পর বছর নির্বিচারে তালগাছ নিধনে পাখির বসবাস উপযোগী পরিবেশ সংকট, ফসলি জমিতে অবাধে কীটনাশক প্রয়োগ, পাখি শিকারিদের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি আর জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব এ অঞ্চল থেকে বাবুই পাখি বিলুপ্তির কারণ।

সাধারণত বাবুই পাখির অর্ধেক বাসা তৈরির পর স্ত্রী সঙ্গীর সম্মতি নিয়ে ৪ থেকে ৫ দিনে সম্পূর্ণ বাসা প্রস্তুতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে দৃষ্টিনন্দন বাসা তৈরি করে থাকে। শুরুতেই তারা বাসার নিচের অংশে দুটি গর্ত রাখে। আর বাসা প্রস্তুত সম্পূর্ণ হলে এক দিকের গর্ত বন্ধ করে সেখানে ডিম রাখার উপযোগী করে তোলে। আর অপর দিকের গর্তটি দিয়ে বাসার ভেতরে যাতায়াত করে।

তবে স্ত্রী সঙ্গীর বাসা অপছন্দ হলে অর্ধেক কাজ ফেলে রেখে নতুন করে বাসা তৈরি করে। এদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, রাতে ঘর আলোকিত রাখতে জোনাকি ধরে নিয়ে বাসায় রাখে। সকাল হলেই তা আবার ছেড়ে দেয়।
একটি পুরুষ বাবুই পাখি মৌসুমে সর্বোচ্চ ৬টি বাসা তৈরি করতে পারে। এ কাজে তারা খড়, ঝাউ, তালপাতা, কাশ ও লতাপাতা ব্যবহার করে। ধান ঘরে ওঠার মৌসুম বাবুই পাখির প্রজননের সময়। স্ত্রী বাবুই পাখির তা দেওয়ার দু’ সপ্তাহের মধ্যে ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়।

তবে তিন সপ্তাহের মাথায় বাবুই পাখির বাচ্চা বাসা ছেড়ে উঁড়ে যায়। বিশ্বে ১১৭ প্রজাতির বাবুই পাখির দেখা মিললেও বাংলাদেশে দেশি, দাগি এবং বাংলাসহ মাত্র ৩ প্রজাতির দেখা মেলে। এর মধ্যে আবার দাগি এবং বাংলা এ দুই প্রজাতির বাবুই পাখি বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে। তবে দেশি বা বাংলা বাবুই এখনো দেশের কিছু কিছু অঞ্চলে চোখে পড়ে।
স্থানীয়রা মনে করেন, জেলায় আবহমান গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের বাহক বাবুই পাখির শৈল্পিক নিদর্শনের অস্তিত্ব রক্ষায় জরুরি উদ্যোগ গ্রহণ সময়ের দাবি। বাবুই পাখির অস্তিত্ব রক্ষায় উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি ওই সকল পাখি শিকারিদের আইনের আওতায় নিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানান তারা।

নড়াইল গ্রেমের বিএনপির নেতা টিপু মোল্লা জানান, সচেতনতা ছাড়া পাখি তথা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সম্ভব নয়। তাই সম্মিলিতভাবে নিজ নিজ এলাকায় সে ব্যাপারে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করে পাখির বসবাস উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টিতে সকলের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি। উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় নিউজ

ব্রাহ্মণপাড়ায় তাহেরিয়া বখশীয়া দরবার শরীফের ৩৮ তম বাৎসরিক ওরশ অনুষ্ঠিত

নড়াইলে তাল গাছের স্বল্পতা অস্তিত্বের লড়াইয়ে বাবুই পাখির

Update Time : ০৫:৫৭:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:


নড়াইলে তাল গাছের স্বল্পতা অস্তিত্বের লড়াইয়ে বাবুই পাখির। কবি রজনীকান্ত সেনের ভাষায়, ‘বাবুই পাখিরে ডাকি বলিছে চড়াই, কুঁড়ে ঘরে থেকে কর শিল্পের বড়াই।’ আবহমান গ্রামবাংলার বাসা তৈরির যে নিখুত কারিগর, কবির কালজয়ী ‘স্বাধীনতার সুখ’ কবিতার নায়ক সেই বাবুই পাখি শিল্পের বড়াই করতেই পারে। উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি জানান, তবে তাল গাছের সল্পতা আর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে বাবুই পাখি নিজেই আজ অস্তিত্ব সংকটে। কালের বিবর্তনে নেই শিল্পের বড়াই। তাই আর কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত হয় না গ্রামবাংলার জনপদ।
অথচ মাত্র কবছর আগেও গ্রাম্য মেঠো পথ কিংবা প্রতিটি বাড়ির আনাচে-কানাচে তাল গাছের পাতায় পাতায় উুঁকি দিত মন ভুলানো বাবুই পাখি ও দৃষ্টিনন্দন বাসা। তবে এখন চিরচেনা সেই ছায়া সুনিবিড় গ্রামাঞ্চলেই বাবুই পাখি চোখে মেলানো ভার। মেঠোপথ বেয়ে মাইলের পর মাইল হাঁটলেও চোখে পড়েনা ঐতিহ্যের বাহক বাবুই পাখি।
দেশের অন্যান্য অঞ্চলের ন্যায় নড়াইল জেলা থেকেও বাবুই পাখি আজ বিলুপ্ত প্রায়। বহুদিন চোখে পড়েনা তাল গাছের পাতায় পাতায় ঝুলে থাকা নিপুণ কারিগর বাবুই পাখির বাসা। আর তরুণ প্রজন্ম যেন থমকে আছে বইয়ের পাতায়। নাম শুনলেও অধিকাংশেরই পাওয়া হয়নি চোখে দেখার সাধ।

১৪-১৫ বছর আগেও এ অঞ্চলের প্রায় প্রতিটি বাড়ির উঠান কিংবা রাস্তার ধারের প্রতিটি তাল গাছ আর খেজুর গাছেও দেখা যেত দৃষ্টিনন্দন বাবুই পাখির বাসা।

অভিজ্ঞ জনদের ধারণা, বছরের পর বছর নির্বিচারে তালগাছ নিধনে পাখির বসবাস উপযোগী পরিবেশ সংকট, ফসলি জমিতে অবাধে কীটনাশক প্রয়োগ, পাখি শিকারিদের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি আর জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব এ অঞ্চল থেকে বাবুই পাখি বিলুপ্তির কারণ।

সাধারণত বাবুই পাখির অর্ধেক বাসা তৈরির পর স্ত্রী সঙ্গীর সম্মতি নিয়ে ৪ থেকে ৫ দিনে সম্পূর্ণ বাসা প্রস্তুতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে দৃষ্টিনন্দন বাসা তৈরি করে থাকে। শুরুতেই তারা বাসার নিচের অংশে দুটি গর্ত রাখে। আর বাসা প্রস্তুত সম্পূর্ণ হলে এক দিকের গর্ত বন্ধ করে সেখানে ডিম রাখার উপযোগী করে তোলে। আর অপর দিকের গর্তটি দিয়ে বাসার ভেতরে যাতায়াত করে।

তবে স্ত্রী সঙ্গীর বাসা অপছন্দ হলে অর্ধেক কাজ ফেলে রেখে নতুন করে বাসা তৈরি করে। এদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, রাতে ঘর আলোকিত রাখতে জোনাকি ধরে নিয়ে বাসায় রাখে। সকাল হলেই তা আবার ছেড়ে দেয়।
একটি পুরুষ বাবুই পাখি মৌসুমে সর্বোচ্চ ৬টি বাসা তৈরি করতে পারে। এ কাজে তারা খড়, ঝাউ, তালপাতা, কাশ ও লতাপাতা ব্যবহার করে। ধান ঘরে ওঠার মৌসুম বাবুই পাখির প্রজননের সময়। স্ত্রী বাবুই পাখির তা দেওয়ার দু’ সপ্তাহের মধ্যে ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়।

তবে তিন সপ্তাহের মাথায় বাবুই পাখির বাচ্চা বাসা ছেড়ে উঁড়ে যায়। বিশ্বে ১১৭ প্রজাতির বাবুই পাখির দেখা মিললেও বাংলাদেশে দেশি, দাগি এবং বাংলাসহ মাত্র ৩ প্রজাতির দেখা মেলে। এর মধ্যে আবার দাগি এবং বাংলা এ দুই প্রজাতির বাবুই পাখি বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে। তবে দেশি বা বাংলা বাবুই এখনো দেশের কিছু কিছু অঞ্চলে চোখে পড়ে।
স্থানীয়রা মনে করেন, জেলায় আবহমান গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের বাহক বাবুই পাখির শৈল্পিক নিদর্শনের অস্তিত্ব রক্ষায় জরুরি উদ্যোগ গ্রহণ সময়ের দাবি। বাবুই পাখির অস্তিত্ব রক্ষায় উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি ওই সকল পাখি শিকারিদের আইনের আওতায় নিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানান তারা।

নড়াইল গ্রেমের বিএনপির নেতা টিপু মোল্লা জানান, সচেতনতা ছাড়া পাখি তথা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সম্ভব নয়। তাই সম্মিলিতভাবে নিজ নিজ এলাকায় সে ব্যাপারে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করে পাখির বসবাস উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টিতে সকলের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি। উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি।