Dhaka ০৪:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ইতমিনান পরিচালক কর্মশালা সফলভাবে সম্পন্ন বগুড়ায় ডিবির সাঁড়াশি অভিযান: আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার, উদ্ধার স্বর্ণালংকার-মোটরসাইকেল পুলিশ বাবা করলেন অপহরণের মামলা, লাইভে এসে মিথ্যা দাবি মেয়ের!! নরসিংদীর শিবপুরে বিশ্ব পরিবেশ দিবসে র‌্যালি, বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কুয়েত-বাহরাইনকে লক্ষ্য করে ৭টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান সিরাজদিখানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত মাদকের বিরুদ্ধে ফুটবল টুর্নামেন্ট মানিকগঞ্জ, দৌলতপুরের চরকাটারীতে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ইতমিনান পরিচালক কর্মশালা সফলভাবে অনুষ্ঠিত জাতীয় ফল কাঁঠালের সমারোহে মুখর উঠোন, শিশুদের উচ্ছ্বাস চট্টগ্রামের রাজনীতিতে সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্ব: বাস্তবতা, প্রত্যাশা ও সাংগঠনিক সমীকরণ
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

পরিবর্তনের রাজনীতি না প্রতীকী উদ্যোগ

  • Reporter Name
  • সময়: ০৯:৫৫:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৫৮ Time View

 

অ্যাড. মোঃ কামরুজ্জামান ভূঁইয়া,


বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন বহু মুহূর্ত এসেছে, যখন নেতৃত্ব গ্রহণ মানেই ছিল সংকটের ভার কাঁধে তুলে নেওয়া। সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপটে Tarique Rahman–এর নেতৃত্ব গ্রহণ নিয়ে জনমনে নানা আলোচনা, সমালোচনা ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে—তিনি কি প্রস্তুত ছিলেন, নাকি পরিস্থিতিই তাকে সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে?

একটি বিষয় স্পষ্ট—তিনি কোনো অলৌকিক প্রতিশ্রুতি নিয়ে আসেননি। দেশের অর্থনৈতিক চাপ, প্রশাসনিক জটিলতা, রাজনৈতিক বিভাজন এবং জনগণের আস্থাহীনতার প্রেক্ষাপটে দায়িত্ব গ্রহণ করা সহজ কাজ নয়। বরং এটি এক ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ রাজনৈতিক অঙ্গীকার। সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রাথমিক পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে একটি বার্তা দেয়—অপেক্ষা নয়, কাজের সূচনা।

 

অ্যাড. মোঃ কামরুজ্জামান ভূঁইয়া

নেতৃত্বের চরিত্র অনেক সময় ছোট ছোট আচরণে প্রকাশ পায়। বিরোধী রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের বাসায় গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করা নিছক প্রটোকল নয়, এটি রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ হতে পারে। বিভক্ত রাজনীতিতে সংলাপের ইঙ্গিত সবসময় ইতিবাচক। গণতন্ত্রে বিরোধী দল শত্রু নয়; তারা রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ার অপরিহার্য অংশ।

প্রটোকল কমানো, সীমিত গাড়ি বহর ব্যবহার, নির্দিষ্ট সময়ে অফিস শুরু করা, এমনকি ছুটির দিনেও প্রশাসনিক কার্যক্রম চালু রাখা—এসব উদ্যোগ জনমনে প্রতীকী প্রভাব ফেলে। জনগণ দেখতে চায় শাসক শ্রেণি কতটা আত্মসংযমী এবং দায়িত্বশীল। ট্রাফিক সিগন্যালে দাঁড়ানো কিংবা সচিবালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি—এসব আচরণ প্রশাসনের ভেতরে শৃঙ্খলা এবং বাইরে বার্তা, উভয় ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ।

রাজনীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মানবিকতা। অসুস্থ বিরোধী নেতার খোঁজ নেওয়া রাজনৈতিক মতভেদের ঊর্ধ্বে এক ধরনের সামাজিক সৌজন্য। আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এই মানবিক দিকটি অনেক সময় অনুপস্থিত থাকে। তাই এমন উদ্যোগ ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দেয়।
তবে বাস্তবতা হলো, প্রতীকী পরিবর্তন আর কাঠামোগত পরিবর্তন এক নয়। একটি দেশকে স্থিতিশীল অবস্থায় আনতে প্রয়োজন প্রশাসনিক সংস্কার, অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, আইনের শাসন নিশ্চিতকরণ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা। কেবল ব্যক্তিগত শৃঙ্খলা বা সদিচ্ছা যথেষ্ট নয়; তা নীতিগত ধারাবাহিকতায় রূপ নিতে হবে।

আরও পড়ুনঃ  ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ইতমিনান পরিচালক কর্মশালা সফলভাবে অনুষ্ঠিত

 


জনগণেরও একটি দায়িত্ব রয়েছে। গণতন্ত্রে সমালোচনা থাকবে, সেটিই স্বাভাবিক। কিন্তু অন্ধ বিরোধিতা যেমন ক্ষতিকর, তেমনি অন্ধ সমর্থনও অনুচিত। সময় দেওয়া মানে প্রশ্নহীন সমর্থন নয়; বরং যুক্তিসংগত মূল্যায়নের সুযোগ দেওয়া।রাষ্ট্র পরিচালনা কোনো একক দলের একার যাত্রা নয়। এটি একটি যৌথ প্রক্রিয়া, যেখানে সরকার, বিরোধী দল, প্রশাসন এবং জনগণ—সবাই অংশীদার। রাজনৈতিক সংস্কৃতির উন্নয়ন ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।

আজকের প্রশ্ন তাই ব্যক্তি নয়, সংস্কৃতি। আমরা কি সংঘাতের রাজনীতি থেকে সংলাপের রাজনীতিতে যেতে পারব? নেতৃত্ব কি প্রতীকী উদ্যোগকে নীতিগত রূপ দিতে পারবে?

আর জনগণ কি ধৈর্য ও দায়িত্বশীল সমালোচনার মাধ্যমে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবে?সময়ের সঙ্গে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর স্পষ্ট হবে। নেতৃত্বের আন্তরিকতা প্রমাণিত হয় ধারাবাহিকতায়। যদি ব্যক্তিগত পরিবর্তন প্রশাসনিক কাঠামোতে প্রভাব ফেলতে পারে, তবে সেটিই হবে প্রকৃত পরিবর্তনের সূচনা।

ধন্যবাদ জানাই,
অ্যাড মোঃ কামরুজ্জামান ভূঁইয়া

লেখক, গবেষক ও কলামিস্ট

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ইতমিনান পরিচালক কর্মশালা সফলভাবে সম্পন্ন

পরিবর্তনের রাজনীতি না প্রতীকী উদ্যোগ

সময়: ০৯:৫৫:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

অ্যাড. মোঃ কামরুজ্জামান ভূঁইয়া,


বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন বহু মুহূর্ত এসেছে, যখন নেতৃত্ব গ্রহণ মানেই ছিল সংকটের ভার কাঁধে তুলে নেওয়া। সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপটে Tarique Rahman–এর নেতৃত্ব গ্রহণ নিয়ে জনমনে নানা আলোচনা, সমালোচনা ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে—তিনি কি প্রস্তুত ছিলেন, নাকি পরিস্থিতিই তাকে সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে?

একটি বিষয় স্পষ্ট—তিনি কোনো অলৌকিক প্রতিশ্রুতি নিয়ে আসেননি। দেশের অর্থনৈতিক চাপ, প্রশাসনিক জটিলতা, রাজনৈতিক বিভাজন এবং জনগণের আস্থাহীনতার প্রেক্ষাপটে দায়িত্ব গ্রহণ করা সহজ কাজ নয়। বরং এটি এক ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ রাজনৈতিক অঙ্গীকার। সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রাথমিক পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে একটি বার্তা দেয়—অপেক্ষা নয়, কাজের সূচনা।

 

অ্যাড. মোঃ কামরুজ্জামান ভূঁইয়া

নেতৃত্বের চরিত্র অনেক সময় ছোট ছোট আচরণে প্রকাশ পায়। বিরোধী রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের বাসায় গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করা নিছক প্রটোকল নয়, এটি রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ হতে পারে। বিভক্ত রাজনীতিতে সংলাপের ইঙ্গিত সবসময় ইতিবাচক। গণতন্ত্রে বিরোধী দল শত্রু নয়; তারা রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ার অপরিহার্য অংশ।

প্রটোকল কমানো, সীমিত গাড়ি বহর ব্যবহার, নির্দিষ্ট সময়ে অফিস শুরু করা, এমনকি ছুটির দিনেও প্রশাসনিক কার্যক্রম চালু রাখা—এসব উদ্যোগ জনমনে প্রতীকী প্রভাব ফেলে। জনগণ দেখতে চায় শাসক শ্রেণি কতটা আত্মসংযমী এবং দায়িত্বশীল। ট্রাফিক সিগন্যালে দাঁড়ানো কিংবা সচিবালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি—এসব আচরণ প্রশাসনের ভেতরে শৃঙ্খলা এবং বাইরে বার্তা, উভয় ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ।

রাজনীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মানবিকতা। অসুস্থ বিরোধী নেতার খোঁজ নেওয়া রাজনৈতিক মতভেদের ঊর্ধ্বে এক ধরনের সামাজিক সৌজন্য। আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এই মানবিক দিকটি অনেক সময় অনুপস্থিত থাকে। তাই এমন উদ্যোগ ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দেয়।
তবে বাস্তবতা হলো, প্রতীকী পরিবর্তন আর কাঠামোগত পরিবর্তন এক নয়। একটি দেশকে স্থিতিশীল অবস্থায় আনতে প্রয়োজন প্রশাসনিক সংস্কার, অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, আইনের শাসন নিশ্চিতকরণ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা। কেবল ব্যক্তিগত শৃঙ্খলা বা সদিচ্ছা যথেষ্ট নয়; তা নীতিগত ধারাবাহিকতায় রূপ নিতে হবে।

আরও পড়ুনঃ  জাহাজভাঙা শিল্পে নিরাপত্তাহীনতা রয়ে গেছে

 


জনগণেরও একটি দায়িত্ব রয়েছে। গণতন্ত্রে সমালোচনা থাকবে, সেটিই স্বাভাবিক। কিন্তু অন্ধ বিরোধিতা যেমন ক্ষতিকর, তেমনি অন্ধ সমর্থনও অনুচিত। সময় দেওয়া মানে প্রশ্নহীন সমর্থন নয়; বরং যুক্তিসংগত মূল্যায়নের সুযোগ দেওয়া।রাষ্ট্র পরিচালনা কোনো একক দলের একার যাত্রা নয়। এটি একটি যৌথ প্রক্রিয়া, যেখানে সরকার, বিরোধী দল, প্রশাসন এবং জনগণ—সবাই অংশীদার। রাজনৈতিক সংস্কৃতির উন্নয়ন ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।

আজকের প্রশ্ন তাই ব্যক্তি নয়, সংস্কৃতি। আমরা কি সংঘাতের রাজনীতি থেকে সংলাপের রাজনীতিতে যেতে পারব? নেতৃত্ব কি প্রতীকী উদ্যোগকে নীতিগত রূপ দিতে পারবে?

আর জনগণ কি ধৈর্য ও দায়িত্বশীল সমালোচনার মাধ্যমে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবে?সময়ের সঙ্গে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর স্পষ্ট হবে। নেতৃত্বের আন্তরিকতা প্রমাণিত হয় ধারাবাহিকতায়। যদি ব্যক্তিগত পরিবর্তন প্রশাসনিক কাঠামোতে প্রভাব ফেলতে পারে, তবে সেটিই হবে প্রকৃত পরিবর্তনের সূচনা।

ধন্যবাদ জানাই,
অ্যাড মোঃ কামরুজ্জামান ভূঁইয়া

লেখক, গবেষক ও কলামিস্ট