মো. গোলাম কিবরিয়া, রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি:
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফরকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে উসকানিমূলক মন্তব্য ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার যুবক আবু বকর সিদ্দিককে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের এসআই ইয়াছিন পাইক আসামিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান এ আদেশ দেন।
আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, দেশের অখণ্ডতা, সংহতি ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চক্রান্ত এবং রাষ্ট্রপ্রধানের ওপর হামলার উসকানির ঘটনায় জড়িত অন্য অজ্ঞাত আসামিদের তথ্য উদ্ঘাটনে আবু বকর সিদ্দিককে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসামি জামিনে মুক্তি পেয়ে আলামত নষ্ট বা আত্মগোপন করতে পারেন—এমন আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে তাঁর জামিনের বিরোধিতা করা হয়।
মামলার সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজশাহী সফরে যান। এ সময় বিমানবন্দর থেকে মাদ্রাসা মাঠে যেতে তিনি রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) একটি কোস্টার বাসে যাতায়াত করেন।
গত ২১ অক্টোবর ডিবি সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের অর্গানাইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারির সময় ‘THE BEAUTY OF RAJSHAHI’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে ‘Maisa Anjum’ নামের একটি আইডি থেকে পোস্ট করা প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বাসের ছবি দেখতে পায়।
ওই পোস্টের মন্তব্যে ‘MD Abu Bokor Siddique’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে লেখা হয়, ‘ইস একটা বড় সুযোগ ছিলো, শুধু একটা স্নাইপার এর অভাব ছিলো।’
মন্তব্যটি নজরে আসার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করে ডিবি পুলিশ। পরে ২১ অক্টোবর বিকেলে ‘এসআরবি-৫’ অভিযান চালিয়ে রাজশাহীর পবা থেকে আবু বকর সিদ্দিক ও তাঁর বাবা আয়নাল হককে আটক করা হয়।
অভিযানের সময় আবু বকর সিদ্দিকের কাছ থেকে একটি স্মার্টফোন উদ্ধার ও জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজের ব্যবহৃত ফেসবুক আইডি থেকে ওই মন্তব্য করার কথা স্বীকার করেন বলে মামলার সূত্রে জানা গেছে। তবে তাঁর বাবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা সংশ্লিষ্ট ঘটনা সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে তাঁকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় ঢাকা মহানগর ডিবির অর্গানাইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের এসআই মানিক হোসেন বাদী হয়ে রাজধানীর রমনা মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন।
এ বিষয়ে আরও তদন্ত চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
Reporter Name 






















