প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নাম ও ছবি ব্যবহার করে পরিচালিত ১৩৭টি ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, পেজ ও গ্রুপ শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে শেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী অনুপস্থিত থাকায় তার পক্ষে এসব তথ্য তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।
ইয়াসের খান চৌধুরী জানান, প্রধানমন্ত্রীর নাম ও ছবি ব্যবহার করে পরিচালিত ভুয়া অ্যাকাউন্ট শনাক্তের পাশাপাশি সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের অনুকরণে অপতথ্য ও প্রোপাগান্ডা ছড়ানো ১৬টি ওয়েবসাইটও শনাক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের সঙ্গে জড়িত ৩০০টির বেশি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট এবং ১০০টি এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করা হয়েছে।
গুজব ঠেকাতে সার্বক্ষণিক নজরদারি
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য শনাক্ত করতে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) মাধ্যমে সমন্বিত ফ্যাক্টচেকিং ও তথ্য যাচাই কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে।
পিআইডির প্রধান কার্যালয়ে গঠিত ‘ফ্যাক্ট চেকিং ও গুজব প্রতিরোধ কমিটি’ সার্বক্ষণিকভাবে কাজ করছে। কমিটির নির্দেশনায় পিআইডির প্রধান কার্যালয় এবং বিভাগীয় শহরগুলোর আঞ্চলিক তথ্য অফিস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে।
কোনো অপতথ্য বা গুজব শনাক্ত হলে সরকারি ফ্যাক্টচেক বার্তা ও স্পষ্টীকরণ বিজ্ঞপ্তি ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং গণমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বাংলাফ্যাক্টের ৮৬০ ফ্যাক্টচেক
সংসদে দেওয়া তথ্যে বলা হয়, প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) ফ্যাক্টচেকিং ইউনিট ‘বাংলাফ্যাক্ট’ এ পর্যন্ত ৮৬০টি ফ্যাক্টচেক, বিশ্লেষণ, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এবং ভিডিও বা রিল প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ৩০৬টি ফ্যাক্টচেক সম্পন্ন হয়েছে।
বর্তমানে বাংলাফ্যাক্ট প্রতিদিন গড়ে তিন থেকে পাঁচটি দাবির সত্যতা যাচাই করে প্রতিবেদন ও ভিডিও কনটেন্ট প্রকাশ করছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত মনিটরিংও জোরদার করা হয়েছে।
প্রশিক্ষণ পেয়েছেন ৬,৭৭৪ সাংবাদিক
ভুয়া অ্যাকাউন্ট ও অপতথ্য শনাক্তের পাশাপাশি সাংবাদিকদের দক্ষতা বাড়াতেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংসদে জানানো হয়।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশের ৬৪ জেলায় ১৪১টি প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করেছে পিআইবি। এসব কর্মশালায় মোট ৬ হাজার ৭৭৪ জন সাংবাদিক প্রশিক্ষণ পেয়েছেন।
বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০টি প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশ নিয়েছেন ৭৩৯ জন সাংবাদিক। এর মধ্যে ১৪টি কর্মশালা ছিল ডিজিটাল সাংবাদিকতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ফ্যাক্টচেকিং বিষয়ে।
Reporter Name 




























