Dhaka ০১:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
চমেক হাসপাতালের ২৪ সদস্য বিশিষ্ট নতুন ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন রামপালে স্বস্তির বৃষ্টি, থেকে থেকে অব্যাহত থাকতে পারে কয়েকদিন নবীগঞ্জের ৩টি ক্ষুদ্র দৃ:গোষ্ঠির শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ- শিক্ষার্থীরা শিক্ষা সামগ্রী পেয়ে আনন্দ উল্লাসে মেতে ওঠে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ইতমিনান পরিচালক কর্মশালা সফলভাবে সম্পন্ন বগুড়ায় ডিবির সাঁড়াশি অভিযান: আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার, উদ্ধার স্বর্ণালংকার-মোটরসাইকেল পুলিশ বাবা করলেন অপহরণের মামলা, লাইভে এসে মিথ্যা দাবি মেয়ের!! নরসিংদীর শিবপুরে বিশ্ব পরিবেশ দিবসে র‌্যালি, বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কুয়েত-বাহরাইনকে লক্ষ্য করে ৭টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান সিরাজদিখানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত মাদকের বিরুদ্ধে ফুটবল টুর্নামেন্ট মানিকগঞ্জ, দৌলতপুরের চরকাটারীতে
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংকট ও ২০২৪-এর জুলাই আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি

  • Reporter Name
  • সময়: ০৭:২৬:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ৯৩ Time View

 

হাকিকুল ইসলাম খোকন, বাপসনিউজ:


২০২৪ সালের ৪ আগস্ট গভীর রাতে অনুষ্ঠিত একটি দেরি করে হওয়া টেলিকনফারেন্সে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে নেওয়া সিদ্ধান্তই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক পরিণতি নির্ধারণ করে দেয় এমন দাবি উঠেছে বিভিন্ন সূত্রে।খবর আইবিএননিউজ ।

অভিযোগ রয়েছে, দিল্লির উদ্দেশে হেলিকপ্টারে রওনা হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগ পর্যন্ত সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান প্রধানমন্ত্রী ও তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে আশ্বস্ত করে যাচ্ছিলেন। তবে একই সময়ে সামরিক কর্মকর্তাদের গোপন আলোচনায় একটি ‘পরোক্ষ অভ্যুত্থান’-এর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয় বলে দাবি করা হচ্ছে। এতে নৌবাহিনীর প্রধান মোহাম্মদ নজমুল হাসান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সেই সময় সরকার চরম সংকটে ছিল এবং আওয়ামী লীগ সরকারের পতন সময়ের ব্যাপার মাত্র এমন ধারণা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে।

পরবর্তীতে ২০২৫ সালের নভেম্বরে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন প্রধান প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে জিজ্ঞাসাবাদের মুখে নৌবাহিনীর রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ সোহাইল মানসিক চাপে ভেঙে পড়েন বলে অভিযোগ ওঠে। ঢাকার ধানমন্ডির একটি ‘সেফ হাউসে’ জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন বলেও জানা যায়।

এর আগে ২০২৪ সালের ২০ আগস্ট তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। গ্রেপ্তারের মাত্র ১৩ দিন আগে তাকে নৌবাহিনীর প্রশিক্ষণ ও মতবাদ বিভাগের কমান্ডার হিসেবে বদলি করা হয়েছিল। এর আগে তিনি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন।

সোহাইলের গ্রেপ্তার ও অপসারণে অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়া, বরখাস্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিনুর রহমান এবং নৌপ্রধান নজমুল হাসানের ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলে ধারণা ছিল, সোহাইল ভবিষ্যতে নৌপ্রধান হতে পারেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ৬ আগস্ট তাকে জোর করে স্বীকারোক্তি দিতে চাপ দেওয়া হয় যে তিনি সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক সিদ্দিকীকে দেশত্যাগে সহায়তা করেছিলেন। পরে তাকে শেখ হাসিনা, তারিক সিদ্দিকী ও জিয়াউল হাসানের বিরুদ্ধে হত্যা মামলায় ‘রাষ্ট্রের সাক্ষী’ হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। বিনিময়ে পরিবারসহ বিদেশে পুনর্বাসনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়।

আরও পড়ুনঃ  নরসিংদীর শিবপুরে বিশ্ব পরিবেশ দিবসে র‌্যালি, বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ

র‍্যাবের সাবেক মিডিয়া উইং প্রধান হিসেবে সোহাইল দেশের অভ্যন্তরে বিদেশি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তবে তার বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ ছিল তারিক সিদ্দিকীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের অস্থিরতার সময় তিনি নিয়মিত বার্তায় অভিযোগ করেন যে সেনাবাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে রাষ্ট্র, সরকার, পুলিশ ও প্রশাসনকে রক্ষার দায়িত্বে অবহেলা করছে‌ যা একটি নীতিগত সিদ্ধান্তের অংশ।

এদিকে ছাত্র আন্দোলন তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের নিরাপত্তা কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে। সামরিক নেতৃত্বের ভেতরে সমন্বয়হীনতা ও দ্বন্দ্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তাও আগের তুলনায় দুর্বল হয়ে পড়ে, কারণ দীর্ঘদিন দায়িত্বে থাকা কয়েকজন বিশ্বস্ত কর্মকর্তাকে ২০২১ সালে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনাগুলো সংসদ, গণভবন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় নিরাপত্তাহীন অবস্থায় পড়ে এবং সেখানে লুটপাটের ঘটনাও ঘটে। ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু জাদুঘরও ভাঙচুরের শিকার হয়, যা ঘটে সেনা সদস্যদের উপস্থিতির মধ্যেই।

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানসহ বিচার বিভাগের শীর্ষ ব্যক্তিদের যথাযথ নিরাপত্তা দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে; তাদের শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়।

দেশজুড়ে প্রায় ৪০০টি থানায় হামলা চালিয়ে অস্ত্র লুট করা হলেও তা উদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, এসব ঘটনার মাধ্যমে পুলিশ ও বেসামরিক প্রশাসনকে মনোবলহীন করে সেনাবাহিনীর ওপর নির্ভরশীল করে তোলার একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়।

জুলাইয়ের আন্দোলনে রংপুরে আবু সাঈদের মৃত্যু একটি টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে দেখা হয়। কোটা সংস্কার আন্দোলন দ্রুত সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। অল্প সময়ের মধ্যে অন্তত ৪৩ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় জনরোষ তীব্র হয়ে ওঠে।

তবে হত্যাকাণ্ডগুলোর প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কার্যকর প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়। বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষোভের মাঝখানে হঠাৎ মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে যাচ্ছে, কিন্তু হামলাকারীদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুনঃ  পুলিশ বাবা করলেন অপহরণের মামলা, লাইভে এসে মিথ্যা দাবি মেয়ের!!

পরবর্তীতে ড.মুহাম্মদ ইউনূস–এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার এবং সামরিক বাহিনীও এসব ঘটনার পূর্ণ তদন্তে আগ্রহ দেখায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

একই সময়ে বিএনপি ও জামায়াতের নেতারা এই ঘটনাকে “যুদ্ধ” হিসেবে বর্ণনা করেন এবং নিহতদের ১৯৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে তুলনা করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, পুরো ঘটনাপ্রবাহে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, পরিকল্পিত নিষ্ক্রিয়তা এবং আড়ালে থাকা শক্তিগুলোর ভূমিকা এখনো সম্পূর্ণভাবে উন্মোচিত হয়নি।তত‍্য সুএ মোহাম্মদ একরামুল হক এম.এ,এলএল.বি.(ঢাঃবিঃ), ম্যানেজম্যান্ট, এডভোকেট/সাংবাদিক, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট ।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

চমেক হাসপাতালের ২৪ সদস্য বিশিষ্ট নতুন ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন

বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংকট ও ২০২৪-এর জুলাই আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি

সময়: ০৭:২৬:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

 

হাকিকুল ইসলাম খোকন, বাপসনিউজ:


২০২৪ সালের ৪ আগস্ট গভীর রাতে অনুষ্ঠিত একটি দেরি করে হওয়া টেলিকনফারেন্সে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে নেওয়া সিদ্ধান্তই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক পরিণতি নির্ধারণ করে দেয় এমন দাবি উঠেছে বিভিন্ন সূত্রে।খবর আইবিএননিউজ ।

অভিযোগ রয়েছে, দিল্লির উদ্দেশে হেলিকপ্টারে রওনা হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগ পর্যন্ত সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান প্রধানমন্ত্রী ও তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে আশ্বস্ত করে যাচ্ছিলেন। তবে একই সময়ে সামরিক কর্মকর্তাদের গোপন আলোচনায় একটি ‘পরোক্ষ অভ্যুত্থান’-এর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয় বলে দাবি করা হচ্ছে। এতে নৌবাহিনীর প্রধান মোহাম্মদ নজমুল হাসান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সেই সময় সরকার চরম সংকটে ছিল এবং আওয়ামী লীগ সরকারের পতন সময়ের ব্যাপার মাত্র এমন ধারণা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে।

পরবর্তীতে ২০২৫ সালের নভেম্বরে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন প্রধান প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে জিজ্ঞাসাবাদের মুখে নৌবাহিনীর রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ সোহাইল মানসিক চাপে ভেঙে পড়েন বলে অভিযোগ ওঠে। ঢাকার ধানমন্ডির একটি ‘সেফ হাউসে’ জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন বলেও জানা যায়।

এর আগে ২০২৪ সালের ২০ আগস্ট তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। গ্রেপ্তারের মাত্র ১৩ দিন আগে তাকে নৌবাহিনীর প্রশিক্ষণ ও মতবাদ বিভাগের কমান্ডার হিসেবে বদলি করা হয়েছিল। এর আগে তিনি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন।

সোহাইলের গ্রেপ্তার ও অপসারণে অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়া, বরখাস্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিনুর রহমান এবং নৌপ্রধান নজমুল হাসানের ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলে ধারণা ছিল, সোহাইল ভবিষ্যতে নৌপ্রধান হতে পারেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ৬ আগস্ট তাকে জোর করে স্বীকারোক্তি দিতে চাপ দেওয়া হয় যে তিনি সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক সিদ্দিকীকে দেশত্যাগে সহায়তা করেছিলেন। পরে তাকে শেখ হাসিনা, তারিক সিদ্দিকী ও জিয়াউল হাসানের বিরুদ্ধে হত্যা মামলায় ‘রাষ্ট্রের সাক্ষী’ হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। বিনিময়ে পরিবারসহ বিদেশে পুনর্বাসনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়।

আরও পড়ুনঃ  জাতীয় ফল কাঁঠালের সমারোহে মুখর উঠোন, শিশুদের উচ্ছ্বাস

র‍্যাবের সাবেক মিডিয়া উইং প্রধান হিসেবে সোহাইল দেশের অভ্যন্তরে বিদেশি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তবে তার বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ ছিল তারিক সিদ্দিকীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের অস্থিরতার সময় তিনি নিয়মিত বার্তায় অভিযোগ করেন যে সেনাবাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে রাষ্ট্র, সরকার, পুলিশ ও প্রশাসনকে রক্ষার দায়িত্বে অবহেলা করছে‌ যা একটি নীতিগত সিদ্ধান্তের অংশ।

এদিকে ছাত্র আন্দোলন তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের নিরাপত্তা কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে। সামরিক নেতৃত্বের ভেতরে সমন্বয়হীনতা ও দ্বন্দ্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তাও আগের তুলনায় দুর্বল হয়ে পড়ে, কারণ দীর্ঘদিন দায়িত্বে থাকা কয়েকজন বিশ্বস্ত কর্মকর্তাকে ২০২১ সালে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনাগুলো সংসদ, গণভবন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় নিরাপত্তাহীন অবস্থায় পড়ে এবং সেখানে লুটপাটের ঘটনাও ঘটে। ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু জাদুঘরও ভাঙচুরের শিকার হয়, যা ঘটে সেনা সদস্যদের উপস্থিতির মধ্যেই।

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানসহ বিচার বিভাগের শীর্ষ ব্যক্তিদের যথাযথ নিরাপত্তা দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে; তাদের শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়।

দেশজুড়ে প্রায় ৪০০টি থানায় হামলা চালিয়ে অস্ত্র লুট করা হলেও তা উদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, এসব ঘটনার মাধ্যমে পুলিশ ও বেসামরিক প্রশাসনকে মনোবলহীন করে সেনাবাহিনীর ওপর নির্ভরশীল করে তোলার একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়।

জুলাইয়ের আন্দোলনে রংপুরে আবু সাঈদের মৃত্যু একটি টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে দেখা হয়। কোটা সংস্কার আন্দোলন দ্রুত সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। অল্প সময়ের মধ্যে অন্তত ৪৩ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় জনরোষ তীব্র হয়ে ওঠে।

তবে হত্যাকাণ্ডগুলোর প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কার্যকর প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়। বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষোভের মাঝখানে হঠাৎ মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে যাচ্ছে, কিন্তু হামলাকারীদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুনঃ  ‘শিক্ষার জয়যাত্রা ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা-২০২৬’ অনুষ্ঠিত, সহযোগিতায় জাস ফাউন্ডেশন

পরবর্তীতে ড.মুহাম্মদ ইউনূস–এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার এবং সামরিক বাহিনীও এসব ঘটনার পূর্ণ তদন্তে আগ্রহ দেখায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

একই সময়ে বিএনপি ও জামায়াতের নেতারা এই ঘটনাকে “যুদ্ধ” হিসেবে বর্ণনা করেন এবং নিহতদের ১৯৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে তুলনা করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, পুরো ঘটনাপ্রবাহে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, পরিকল্পিত নিষ্ক্রিয়তা এবং আড়ালে থাকা শক্তিগুলোর ভূমিকা এখনো সম্পূর্ণভাবে উন্মোচিত হয়নি।তত‍্য সুএ মোহাম্মদ একরামুল হক এম.এ,এলএল.বি.(ঢাঃবিঃ), ম্যানেজম্যান্ট, এডভোকেট/সাংবাদিক, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট ।