Dhaka ০৩:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
ডাঃ মোঃ আনোয়ার হোসেন ও এভার শাইন ডেন্টাল কেয়ার-এর পক্ষ থেকে শারদীয় দুর্গোৎসবের আন্তরিক শুভেচ্ছা  বান্দরবান সেনা জোনের উদ্যোগে লায়ন্স ক্লাব কর্তৃক রোয়াংছড়িতে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প ফুলবাড়ীতে জেলা বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ চরভদ্রাসনে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে এমপি শহিদুল ইসলাম বাবুল পীরগঞ্জে জামায়াত নেতার মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে কিশোরকে গাছে বেঁধে মারধর রাজশাহীতে শিশু ধর্ষকের যাবজ্জীবন নরসিংদীর শিবপুরে কৃষিজমির টপ সয়েল কাটার অভিযোগ, জব্দ ভেকু মেশিন রাবি শিক্ষার্থী পেল ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড সান্তাহার স্টেডিয়াম আধুনিকায়নের উদ্যোগ, পরিদর্শনে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের প্রকৌশলী “গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যার বিচার করতেই হবে” -মিয়া গোলাম পরওয়ার
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

বাঘাইছড়ির বৃহত্তর মুসলিম ব্লক বাজারে অগ্নিকাণ্ডের পর ঘুরে দাঁড়াচ্ছেন ব্যবসায়ীরা

‎
আনোয়ার হোসেন,বাঘাইছড়ি প্রতিনিধিঃ ‎রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার বৃহত্তর মুসলিম ব্লক বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছেন। গত ২১ মে দিবাগত রাতে ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ডে বাজারের প্রায় ৩০টি দোকান মুহূর্তের মধ্যেই ভস্মীভূত হয়ে যায়। এতে নিঃস্ব হয়ে পড়েন বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।
‎
‎আগুনের ধাক্কা সামলে নিতে প্রথমদিকে হতাশা দেখা দিলেও বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা নতুন করে ব্যবসা শুরু করেছেন। কেউ অস্থায়ী দোকান সাজাচ্ছেন, কেউবা ভাড়া করা স্থানে ব্যবসা চালাচ্ছেন। নিজেদের সঞ্চয়, আত্মীয়স্বজন, স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলের সহায়তায় বাজারে আবার প্রাণ ফিরে আসছে।
‎
‎ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী মোঃ আব্দুর শুক্কুর আলী বলেন, “আগুনে সব হারিয়েছিলাম। কিন্তু সংসার চালাতে তো থেমে থাকা যায় না। তাই আবার নতুন করে দোকান সাজাচ্ছি।”
‎ক্ষতিগ্রস্ত আরেক ব্যবসায়ী মোঃ আব্দুল কাইয়ুম বলেন, “হঠাৎ করে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বহু বছরের সঞ্চয় ও স্বপ্ন ছাই হয়ে গেছে। তবে নতুন করে ব্যবসা শুরু করার চেষ্টা করছি।”মুসলিম ব্লক বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি ডা. আবুল কাসেম বলেন, “অগ্নিকাণ্ডের পর আমরা পুনরায় দোকানঘর নির্মাণ করেছি। আগুন যেন এক পাশ থেকে অন্য পাশে ছড়াতে না পারে সেজন্য বাজারের দুই পাশ প্রশস্ত করা হয়েছে।”
‎
‎মুসলিম ব্লক বায়তুল আবরার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ ওমর ফারুক মাস্টার বলেন, “বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ব্যবসায়ীরা বিপর্যস্ত হলেও আল্লাহর রহমতে এবং সবার সহযোগিতায় আবার ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছি। জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দল ও দাতা ব্যক্তিদের আন্তরিক সহযোগিতা ছিল অনন্য।” তবে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এখনো পর্যন্ত রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ থেকে কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।‎তিনি ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে বাঘাইছড়িতে দ্রুত ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন, আধুনিক সরঞ্জাম ও পর্যাপ্ত জনবল নিশ্চিত করার দাবি জানান।
‎
‎উল্লেখ্য, ১৯৫৯ সালে মুসলিম ব্লক এলাকায় মানুষের বসবাস শুরু হয় এবং ১৯৬১ সালে কয়েকটি দোকান দিয়ে বাজারটির যাত্রা শুরু হয়। সময়ের সাথে বাজারটি স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকার সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে পড়ে।
‎
‎স্থানীয়রা আশা করছেন, ব্যবসায়ীদের সাহস ও ঐক্যের মাধ্যমে মুসলিম ব্লক বাজার আবারও আগের মতো কোলাহল ও কর্মচাঞ্চল্যে ভরে উঠবে।অগ্নিকাণ্ডের ক্ষতি অপূরণীয় হলেও বাঘাইছড়ির মুসলিম ব্লক বাজারের ব্যবসায়ীরা নতুন করে বাঁচার আশায় ঘুরে দাঁড়াচ্ছেন। তাদের এই অদম্য মনোবলই প্রমাণ করে, সংকটে সাহসই সবচেয়ে বড় সম্বল।

আরও পড়ুনঃ  লামায় তিন কিশোরী নিখোঁজ, পাঁচ দিনেও মেলেনি সন্ধান
Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

ডাঃ মোঃ আনোয়ার হোসেন ও এভার শাইন ডেন্টাল কেয়ার-এর পক্ষ থেকে শারদীয় দুর্গোৎসবের আন্তরিক শুভেচ্ছা 

বাঘাইছড়ির বৃহত্তর মুসলিম ব্লক বাজারে অগ্নিকাণ্ডের পর ঘুরে দাঁড়াচ্ছেন ব্যবসায়ীরা

সময়: ০৩:১৪:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫

‎
আনোয়ার হোসেন,বাঘাইছড়ি প্রতিনিধিঃ ‎রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার বৃহত্তর মুসলিম ব্লক বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছেন। গত ২১ মে দিবাগত রাতে ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ডে বাজারের প্রায় ৩০টি দোকান মুহূর্তের মধ্যেই ভস্মীভূত হয়ে যায়। এতে নিঃস্ব হয়ে পড়েন বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।
‎
‎আগুনের ধাক্কা সামলে নিতে প্রথমদিকে হতাশা দেখা দিলেও বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা নতুন করে ব্যবসা শুরু করেছেন। কেউ অস্থায়ী দোকান সাজাচ্ছেন, কেউবা ভাড়া করা স্থানে ব্যবসা চালাচ্ছেন। নিজেদের সঞ্চয়, আত্মীয়স্বজন, স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলের সহায়তায় বাজারে আবার প্রাণ ফিরে আসছে।
‎
‎ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী মোঃ আব্দুর শুক্কুর আলী বলেন, “আগুনে সব হারিয়েছিলাম। কিন্তু সংসার চালাতে তো থেমে থাকা যায় না। তাই আবার নতুন করে দোকান সাজাচ্ছি।”
‎ক্ষতিগ্রস্ত আরেক ব্যবসায়ী মোঃ আব্দুল কাইয়ুম বলেন, “হঠাৎ করে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বহু বছরের সঞ্চয় ও স্বপ্ন ছাই হয়ে গেছে। তবে নতুন করে ব্যবসা শুরু করার চেষ্টা করছি।”মুসলিম ব্লক বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি ডা. আবুল কাসেম বলেন, “অগ্নিকাণ্ডের পর আমরা পুনরায় দোকানঘর নির্মাণ করেছি। আগুন যেন এক পাশ থেকে অন্য পাশে ছড়াতে না পারে সেজন্য বাজারের দুই পাশ প্রশস্ত করা হয়েছে।”
‎
‎মুসলিম ব্লক বায়তুল আবরার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ ওমর ফারুক মাস্টার বলেন, “বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ব্যবসায়ীরা বিপর্যস্ত হলেও আল্লাহর রহমতে এবং সবার সহযোগিতায় আবার ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছি। জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দল ও দাতা ব্যক্তিদের আন্তরিক সহযোগিতা ছিল অনন্য।” তবে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এখনো পর্যন্ত রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ থেকে কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।‎তিনি ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে বাঘাইছড়িতে দ্রুত ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন, আধুনিক সরঞ্জাম ও পর্যাপ্ত জনবল নিশ্চিত করার দাবি জানান।
‎
‎উল্লেখ্য, ১৯৫৯ সালে মুসলিম ব্লক এলাকায় মানুষের বসবাস শুরু হয় এবং ১৯৬১ সালে কয়েকটি দোকান দিয়ে বাজারটির যাত্রা শুরু হয়। সময়ের সাথে বাজারটি স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকার সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে পড়ে।
‎
‎স্থানীয়রা আশা করছেন, ব্যবসায়ীদের সাহস ও ঐক্যের মাধ্যমে মুসলিম ব্লক বাজার আবারও আগের মতো কোলাহল ও কর্মচাঞ্চল্যে ভরে উঠবে।অগ্নিকাণ্ডের ক্ষতি অপূরণীয় হলেও বাঘাইছড়ির মুসলিম ব্লক বাজারের ব্যবসায়ীরা নতুন করে বাঁচার আশায় ঘুরে দাঁড়াচ্ছেন। তাদের এই অদম্য মনোবলই প্রমাণ করে, সংকটে সাহসই সবচেয়ে বড় সম্বল।

আরও পড়ুনঃ  সমাজে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনকারীদের পাশে থাকার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর