
নিজস্ব প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ভিক্ষুকদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে সরকারি কর্মসূচির আওতায় ১১টি গরু বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে গরু কেনার জন্য কত টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, কারা উপকারভোগী এবং তাঁদের নাম-ঠিকানা কী—এসব তথ্য জানতে চেয়েও পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য দিতে অনীহার ঘটনায় কর্মসূচির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন অনেকে। কেউ কেউ সরকারি বরাদ্দ ও বিতরণ কার্যক্রম তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
রোববার (২৫ অক্টোবর) উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়। এ সময় উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. শামছুজ্জামান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কাজী আলাউদ্দিন মন্ডল, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. রফিকুল ইসলাম, ছাত্রদলের জাহাঙ্গীরসহ সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, উপজেলার ১১ জন ভিক্ষুকের মধ্যে ১১টি গরু বিতরণের পরিকল্পনা ছিল। তবে উপকারভোগীদের তালিকা, গরু কেনার ব্যয় ও সরকারি বরাদ্দের পরিমাণ জানতে চাইলে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. শামছুজ্জামান তথ্য দিতে রাজি হননি।
তিনি বলেন, শুধু ১১টি গরু বিতরণের বিষয়টি উল্লেখ করে প্রতিবেদন করতে। উপকারভোগীদের নামের তালিকা ও সরকারি বরাদ্দের তথ্য কেন প্রয়োজন, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। প্রতিবেদনে সঠিক তথ্য থাকা প্রয়োজন জানালে তিনি বলেন, ১১ জনের মধ্যে তিনজন উপস্থিত হননি এবং তালিকায় ইউএনওর স্বাক্ষর নেওয়া হয়নি। পরদিন স্বাক্ষর নিয়ে দিবেন বলেন তিনি। তবে সরকারি বরাদ্দের তথ্য কোনভাবেই দিতে রাজি না।
অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেবনাথ বলেন, ১১ জন ভিক্ষুকের মধ্যে ১১টি গরু বিতরণের কথা ছিল। একজন উপস্থিত না হওয়ায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে ১০ জনের মধ্যে গরু বিতরণ করা হয়েছে। বাকি একজন উপস্থিত হলে তাঁকেও গরু দেওয়া হবে। তবে তিনিও উপকারভোগীদের তালিকা ও সরকারি বরাদ্দের বিষয়ে তথ্য জানতে চাইলেও জানাননি।
এখানে বিতরণসংক্রান্ত বক্তব্যে সংখ্যাগত অসংগতি রয়েছে। সমাজসেবা কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, তিনজন উপস্থিত হননি। অন্যদিকে ইউএনও জানিয়েছেন, একজন অনুপস্থিত থাকায় ১০ জনের মধ্যে গরু বিতরণ করা হয়েছে।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে সরকার ২০১০ সালের আগস্টে এ কর্মসূচি শুরু করে। পরবর্তী সময়ে কর্মসূচিটি সুশৃঙ্খলভাবে বাস্তবায়নের জন্য ২০১৯ সালে ‘ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থান বাস্তবায়ন নীতিমালা’ প্রণয়ন করা হয়।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ কর্মসূচির জন্য ১২ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে এই অর্থ জাতীয় পর্যায়ের কর্মসূচির বরাদ্দ; ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় ১১টি গরু বিতরণের জন্য কত টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তা এ তথ্য থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ কে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে বিষয়টি তাকে হোয়াটসঅ্যাপে জানানো হয়।
এ বিষয়ে উপস্থিত স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার বরাদ্দ দিয়েছে। সরকারি বরাদ্দের যথাযথ বাস্তবায়ন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সাংবাদিকেরা এসব তথ্য নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করলেই সাধারণ মানুষ সরকারের বরাদ্ধ এবং কতটুকু ব্যবহার হচ্ছে তা সম্পর্কে জানতে পারবেন।
ভিক্ষুকদের স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে নেওয়া এ ধরনের উদ্যোগে প্রকৃত উপকারভোগী নির্বাচন, গরু কেনার ব্যয়, বিতরণের তালিকা এবং বরাদ্দের হিসাব স্বচ্ছ রাখা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাই ভূরুঙ্গামারীতে কত টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, কী দামে গরু কেনা হয়েছে, কারা গরু পেয়েছেন এবং বিতরণসংক্রান্ত নথিতে কী তথ্য রয়েছে—এসব বিষয় যাচাই করে প্রয়োজনীয় তদন্তের দাবি উঠেছে।
Reporter Name 






















