Dhaka ০২:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
ইব্রাহিমপুরে অসহায় বৃদ্ধাকে জামায়াতে ইসলামীর ঘর উপহার তাহিরপুরে যাদুকাটা নদীতে ১ শ্রমিকের মৃত্যু হরিনাকুণ্ডুতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত অন্তত ৪ জন জামালপুর আদালত চত্বরে সাংবাদিক মারুফ এর উপর হামলা ও অপহরণের চেষ্টা বাগেরহাট জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক-কে চুলকাটি প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়ায় ইউনিয়ন পর্যায়ে খেলার মাঠ নির্মাণের উদ্যোগ জমি এরিয়া নির্ধারণ গাজীপুরে ৩ হাজার লিটার তেল মজুদের দায়ে ব্যবসায়ীর জরিমানা ঘেরে যাওয়ার পথে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নিহত হিংগলা নাথপাড়ায় দুর্গা মন্দিরে অষ্টপ্রহরব্যাপী তারকব্রহ্ম মহানামযজ্ঞ মহোৎসব মিরপুরে দূর্বৃত্তদের গুলিতে আহত আওয়ামী লীগ নেতা
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

মান্না দে’র গান নিয়ে অন্যরকম অনুষ্ঠান জীবন বিশ্বাসের জীবনের জলসাঘরে’

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:৪৩:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
  • ২৫ Time View

 

হাকিকত ইসলাম খোকন, বাপসনিউজ:


অনুষ্ঠানের নাম ‘জীবনের জলসাঘরে’। অনুষ্ঠানটি কালজয়ী শিল্পী মান্না দে’র স্মরণে আয়োজিত। মান্না দে’র একটি হিট গানের কলি ‘আমি যে জলসাঘরে’। আর এই জলসাঘরের শিল্পী জীবন বিশ্বাস। নিশ্চয় জীবন বিশ্বাস এই দ্ব্যর্থবোধক নামটি সচেতনভাবেই নির্বাচন করেছেন। এই জীবন যেমন জীবন বিশ্বাসের, তেমনই মান্না দেরও।

গত শনিবার,১৪ মার্চ ২০২৬,মান্নাদেকে শ্রদ্ধা জানিয়ে তার প্রিয় শিল্পীর গানের ডালি সাজিয়ে মঞ্চে আসেন জীবন বিশ্বাস। জ্যামাইকার জেক্যালের কোজি থিয়েটারে এই গানের আসর বসেছিল সন্ধ্যার পর। তিনিই ছিলেন মঞ্চের একমাত্র এবং মধ্যমণি। মধ্যমণি এ কারণে যে তাকে মাঝে রেখে তার ডানে ছিলেন তবলাশিল্পী তপন মোদক, অক্টোপ্যাডে সজীব মোদক। বামে ছিলেন মন্দিরা হাতে শহীদ উদ্দিন, গিটারে অভিজিত চক্রবতীর্ এবং কীবোর্ডে মাসুদ রানা।খবর আইবিএননিউজ ।
পুরো মঞ্চ সজ্জা করা হয় কালো দিয়ে। অনুষ্ঠানকালে সব আলো নিভিয়ে দিয়ে স্পট লাইট ব্যবহার করা হয় প্রধানত শিল্পীর ওপর। তবে প্রয়োজন অনুসারে তা ফোকাস করে অন্য যন্ত্রশিল্পীদের ওপর।
‘জীবনের জলসাঘরে’ অনুষ্ঠানের প্রথম গানটি ছিল জীবন বিশ্বাসের নিজের লেখা। কফি হাউজের সেই আড্ডার সুরের ও অর্কেস্ট্রার ওপর জীবন বিশ্বাস তার লেখা শব্দাবলী বসিয়ে দেন মান্না দে’কে নিবেদিত ‘সুরের লহর তুলে চলে গেলে কত সহজেই, আজ তুমি নেই’। গানটি রেকর্ড করেছিলেন প্রয়াত শিল্পী সুবীর নন্দী। এই গানটি গেয়ে সংগীত পর্বের সূচনা করেন জীবন বিশ্বাস। দীর্ঘ গানটি শেষ করেন ‘কফি হাউজের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই’ দিয়ে। এরপর তিনি একে একে গান মান্নাদে’র হৃদয়ে আঁচড় দেয়া নস্টালজিয়া জাগানিয়া গান তুমি শুনবে কি, কতদিন দেখিনি তোমায়, সবাই তো সুখী হতে চায়, খুব জানতে ইচ্ছা করে তুমি কি সেই আগের মতই আছো, পৌষের কাছাকাছি রোদমাখা সেইদিন ফিরে কি আসবে আর কখনো, তুমি নিজের মুখেই বললে যেদিন, হৃদয়ের গান শিখে তো গায়, দুঃখ আমার তোমায় আমি যে ভালোবেসেছি, যে ক্ষতি আমি নিয়েছিলাম মেনে, রঙ্গিলা কত মন, মন দিতে চায়, জড়োয়ার ঝুমকো থেকে, আমার না যদি থাকে সুর, স্বপন যদি মধুর এমন, ওই মহাসিন্ধুর ওপার থেকে, এ মেরি জোহরা জাবি, আবার হবে তো দেখা এ দেখাই শেষ দেখা নয়ত এবং স্বাধীনতার মাস স্মরণে ‘মুক্তির মন্দির সোপানতলে কত প্রাণ হলো বলিদান’।

সব শেষে, সম্প্রতি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে জাতীয় সংগীতকে অসম্মান দেখানোর প্রতিবাদে সকলে দাঁড়িয়ে খোলা কণ্ঠে গান ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’।
কণ্ঠ পরিশীলনের জন্য জীবন বিশ্বাস যে নিয়মিত রেওয়াজ করেন তা বোঝা গেল তার পরিবেশনায়। মান্না দে’র গানের মত জটিল ও সুমধুর গানগুলোকে তিনি কণ্ঠের ত্রিসপ্তক মাত্রা ব্যবহার করেই পরিবেশন করেছেন। এটা জীবন বিশ্বাসের নিউইয়র্কে প্রথম একক অনুষ্ঠান। কিন্তু তা বোঝার উপায় ছিল না। গানের মাঝে মাঝে তিনি কথা বলছিলেন। গাওয়া বা গাইতে যাওয়া গান সম্পর্কে। বলছিলেন তার পরম শ্রদ্ধাভাজন সংগীতজন মুত্তালিব বিশ্বাস সম্পর্কে। আর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তার সংগীতগুরু প্রয়াত বাসুদেব রায়সহ আখতার সাদমানি, উস্তাদ ফজলুল করিম, বেদার উদ্দিন আহমেদ এবং গিটার শিক্ষক এনামুল কবিরের প্রতি।
শুরুতে তাঁকে উপস্থাপন করেন নাট্যজন মাসুদ সুমন। তার জীবনী বাংলা ও ইংরেজিতে পাঠ করেন নতুন প্রজন্মের তৃষা মন্ডল ও প্রমিত আচার্য। উদীচী ইউএসএ এবং উদীচী স্কুল অব পারফর্মিং আর্টস আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের আলোকসম্পাতে ছিলেন বাবর খাদেমি আর মঞ্চসজ্জায় তিন শিল্পী বিশ্বজিত চৌধুরী, মাহমুদুল হাসান রোকন ও আলমা ফেরদৌসি লিয়া। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় যারা ছিলেন তাদের অন্যতম শিতেষ ধর, নিরা কাদরী, মোহিত আচার্য, হেনা রয়, সমীর মন্ডল, লিটন ফিলিপস, মুক্তা ধর, শিপ্রা দেব প্রমুখ।
‘জীবনের জলসা ঘরে’ মান্না দে স্মরণ অনুষ্ঠান উপলক্ষে একটি স্মরণিকা প্রকাশিত হয়েছে। এতে মান্না দে ও জীবন বিশ্বাসের সংক্ষিপ্ত বৃত্তান্ত ছাড়াও জীবন বিশ্বাস সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোকপাত করেছেন মুত্তালিব বিশ্বাস এবং কৌশিক আহমেদ।

‘জীবনের জলসা ঘরে’ অনুষ্ঠানে জেক্যালের সব কটি আসন পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় প্রায় শতাধিক মানুষ ভেন্যুতে প্রবেশ করতে না পেরে ফিরে যান বলে জানা গেছে। জেক্যালের মূল গেট বন্ধ করে দেয়া হয়। যারা এসেও ভেতরে ঢুকতে পারেননি তাদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এবং এই অনিচ্ছাকৃত কষ্ট স্বীকারের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন ড. জীবন বিশ্বাস।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় নিউজ

ইব্রাহিমপুরে অসহায় বৃদ্ধাকে জামায়াতে ইসলামীর ঘর উপহার

মান্না দে’র গান নিয়ে অন্যরকম অনুষ্ঠান জীবন বিশ্বাসের জীবনের জলসাঘরে’

Update Time : ১০:৪৩:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

 

হাকিকত ইসলাম খোকন, বাপসনিউজ:


অনুষ্ঠানের নাম ‘জীবনের জলসাঘরে’। অনুষ্ঠানটি কালজয়ী শিল্পী মান্না দে’র স্মরণে আয়োজিত। মান্না দে’র একটি হিট গানের কলি ‘আমি যে জলসাঘরে’। আর এই জলসাঘরের শিল্পী জীবন বিশ্বাস। নিশ্চয় জীবন বিশ্বাস এই দ্ব্যর্থবোধক নামটি সচেতনভাবেই নির্বাচন করেছেন। এই জীবন যেমন জীবন বিশ্বাসের, তেমনই মান্না দেরও।

গত শনিবার,১৪ মার্চ ২০২৬,মান্নাদেকে শ্রদ্ধা জানিয়ে তার প্রিয় শিল্পীর গানের ডালি সাজিয়ে মঞ্চে আসেন জীবন বিশ্বাস। জ্যামাইকার জেক্যালের কোজি থিয়েটারে এই গানের আসর বসেছিল সন্ধ্যার পর। তিনিই ছিলেন মঞ্চের একমাত্র এবং মধ্যমণি। মধ্যমণি এ কারণে যে তাকে মাঝে রেখে তার ডানে ছিলেন তবলাশিল্পী তপন মোদক, অক্টোপ্যাডে সজীব মোদক। বামে ছিলেন মন্দিরা হাতে শহীদ উদ্দিন, গিটারে অভিজিত চক্রবতীর্ এবং কীবোর্ডে মাসুদ রানা।খবর আইবিএননিউজ ।
পুরো মঞ্চ সজ্জা করা হয় কালো দিয়ে। অনুষ্ঠানকালে সব আলো নিভিয়ে দিয়ে স্পট লাইট ব্যবহার করা হয় প্রধানত শিল্পীর ওপর। তবে প্রয়োজন অনুসারে তা ফোকাস করে অন্য যন্ত্রশিল্পীদের ওপর।
‘জীবনের জলসাঘরে’ অনুষ্ঠানের প্রথম গানটি ছিল জীবন বিশ্বাসের নিজের লেখা। কফি হাউজের সেই আড্ডার সুরের ও অর্কেস্ট্রার ওপর জীবন বিশ্বাস তার লেখা শব্দাবলী বসিয়ে দেন মান্না দে’কে নিবেদিত ‘সুরের লহর তুলে চলে গেলে কত সহজেই, আজ তুমি নেই’। গানটি রেকর্ড করেছিলেন প্রয়াত শিল্পী সুবীর নন্দী। এই গানটি গেয়ে সংগীত পর্বের সূচনা করেন জীবন বিশ্বাস। দীর্ঘ গানটি শেষ করেন ‘কফি হাউজের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই’ দিয়ে। এরপর তিনি একে একে গান মান্নাদে’র হৃদয়ে আঁচড় দেয়া নস্টালজিয়া জাগানিয়া গান তুমি শুনবে কি, কতদিন দেখিনি তোমায়, সবাই তো সুখী হতে চায়, খুব জানতে ইচ্ছা করে তুমি কি সেই আগের মতই আছো, পৌষের কাছাকাছি রোদমাখা সেইদিন ফিরে কি আসবে আর কখনো, তুমি নিজের মুখেই বললে যেদিন, হৃদয়ের গান শিখে তো গায়, দুঃখ আমার তোমায় আমি যে ভালোবেসেছি, যে ক্ষতি আমি নিয়েছিলাম মেনে, রঙ্গিলা কত মন, মন দিতে চায়, জড়োয়ার ঝুমকো থেকে, আমার না যদি থাকে সুর, স্বপন যদি মধুর এমন, ওই মহাসিন্ধুর ওপার থেকে, এ মেরি জোহরা জাবি, আবার হবে তো দেখা এ দেখাই শেষ দেখা নয়ত এবং স্বাধীনতার মাস স্মরণে ‘মুক্তির মন্দির সোপানতলে কত প্রাণ হলো বলিদান’।

সব শেষে, সম্প্রতি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে জাতীয় সংগীতকে অসম্মান দেখানোর প্রতিবাদে সকলে দাঁড়িয়ে খোলা কণ্ঠে গান ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’।
কণ্ঠ পরিশীলনের জন্য জীবন বিশ্বাস যে নিয়মিত রেওয়াজ করেন তা বোঝা গেল তার পরিবেশনায়। মান্না দে’র গানের মত জটিল ও সুমধুর গানগুলোকে তিনি কণ্ঠের ত্রিসপ্তক মাত্রা ব্যবহার করেই পরিবেশন করেছেন। এটা জীবন বিশ্বাসের নিউইয়র্কে প্রথম একক অনুষ্ঠান। কিন্তু তা বোঝার উপায় ছিল না। গানের মাঝে মাঝে তিনি কথা বলছিলেন। গাওয়া বা গাইতে যাওয়া গান সম্পর্কে। বলছিলেন তার পরম শ্রদ্ধাভাজন সংগীতজন মুত্তালিব বিশ্বাস সম্পর্কে। আর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তার সংগীতগুরু প্রয়াত বাসুদেব রায়সহ আখতার সাদমানি, উস্তাদ ফজলুল করিম, বেদার উদ্দিন আহমেদ এবং গিটার শিক্ষক এনামুল কবিরের প্রতি।
শুরুতে তাঁকে উপস্থাপন করেন নাট্যজন মাসুদ সুমন। তার জীবনী বাংলা ও ইংরেজিতে পাঠ করেন নতুন প্রজন্মের তৃষা মন্ডল ও প্রমিত আচার্য। উদীচী ইউএসএ এবং উদীচী স্কুল অব পারফর্মিং আর্টস আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের আলোকসম্পাতে ছিলেন বাবর খাদেমি আর মঞ্চসজ্জায় তিন শিল্পী বিশ্বজিত চৌধুরী, মাহমুদুল হাসান রোকন ও আলমা ফেরদৌসি লিয়া। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় যারা ছিলেন তাদের অন্যতম শিতেষ ধর, নিরা কাদরী, মোহিত আচার্য, হেনা রয়, সমীর মন্ডল, লিটন ফিলিপস, মুক্তা ধর, শিপ্রা দেব প্রমুখ।
‘জীবনের জলসা ঘরে’ মান্না দে স্মরণ অনুষ্ঠান উপলক্ষে একটি স্মরণিকা প্রকাশিত হয়েছে। এতে মান্না দে ও জীবন বিশ্বাসের সংক্ষিপ্ত বৃত্তান্ত ছাড়াও জীবন বিশ্বাস সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোকপাত করেছেন মুত্তালিব বিশ্বাস এবং কৌশিক আহমেদ।

‘জীবনের জলসা ঘরে’ অনুষ্ঠানে জেক্যালের সব কটি আসন পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় প্রায় শতাধিক মানুষ ভেন্যুতে প্রবেশ করতে না পেরে ফিরে যান বলে জানা গেছে। জেক্যালের মূল গেট বন্ধ করে দেয়া হয়। যারা এসেও ভেতরে ঢুকতে পারেননি তাদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এবং এই অনিচ্ছাকৃত কষ্ট স্বীকারের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন ড. জীবন বিশ্বাস।