Dhaka ০৭:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
চট্টগ্রামে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনক, হটস্পট ৯ ওয়ার্ড, হাসপাতালে শয্যা সংকট বিশ্বম্ভরপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক র‍্যালি অনুষ্ঠিত পাবনার পাকশীতে ধূমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেনে ৭২ লাখ টাকার হেরোইন উদ্ধার মাদকের ভয়াল থাবা: ছেলের শাস্তি চেয়ে মায়ের আর্তি, বাঁশখালীতে যুবকের ৯ মাসের কারাদণ্ড মাদকের ভয়াল থাবা: ছেলের শাস্তি চেয়ে মায়ের আর্তি, বাঁশখালীতে যুবকের ৯ মাসের কারাদণ্ড কক্সবাজারে পৃথক অভিযানে অপহৃত শিশু উদ্ধার, মানবপাচার মামলার আসামি আটক কক্সবাজারে পৃথক অভিযানে অপহৃত শিশু উদ্ধার, মানবপাচার মামলার আসামি আটক যুবকের আঘাতে ভাড়াটিয়া এক গৃহবধূ আহত মাথায় সিলাই ৬ নরসিংদীর শিবপুরে চুরি আতঙ্ক দুলালপুরে মসজিদ স্কুলে ব্যাপক হারে চুরি ‎সুনামগঞ্জের আলোচিত গৌরারং ইউনিয়নে ১১ বছরের শিশু ধর্ষণকারী বদরুলকে আটক করেছে পুলিশ
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

মুন্সীগঞ্জের গর্ব চিত্রনায়িকা কবিতার ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী সম্পন্ন হলো

  • Reporter Name
  • সময়: ০৬:২৮:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
  • ৭ Time View

 

​শহিদ শেখ পাখি, মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি:


ঢাকাই চলচ্চিত্রের সোনালী দশকের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র, প্রখ্যাত চিত্রনায়িকা কবিতার ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। সাবলীল অভিনয় আর রূপের জাদুতে কোটি দর্শকের মন জয় করা মুন্সীগঞ্জের এই গুণী শিল্পী আজ আমাদের মাঝে নেই। তবে তাঁর রেখে যাওয়া কালজয়ী চলচ্চিত্রগুলো আজও সিনেপ্রেমীদের হৃদয়ে দোলা দেয়। গতকাল ৮ জুন (রবিবার) এই কিংবদন্তি অভিনেত্রীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর জন্মভিটাসহ বিভিন্ন মহলে তাঁকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হয়।

​চিত্রনায়িকা কবিতা ১৯৫২ সালের ১ মে মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বৌলতলী গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পারিবারিক নাম ছিল ‘আফরোজা সুলতানা’, তবে সেলুলয়েডের রূপালী পর্দায় তিনি ‘কবিতা’ নামেই ব্যাপক পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা লাভ করেন। পারিবারিক সূত্র ও এলাকাবাসীর তথ্যমতে, শৈশব থেকেই সংস্কৃতির প্রতি তাঁর ছিল এক সহজাত আকর্ষণ। এই সাংস্কৃতিক মায়াই পরবর্তীতে তাঁকে টেনে নিয়ে আসে রূপালী পর্দার ঝলমলে ভুবনে।

​ষাটের দশকের শেষের দিকে এবং সত্তরের দশকে কবিতা বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে অন্যতম শীর্ষ নায়িকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন। রোমান্টিক, সামাজিক কিংবা অ্যাকশন—সব ঘরানার সিনেমাতেই তিনি তাঁর অভিনয় দক্ষতার অনন্য স্বাক্ষর রেখেছেন। সমকালীন শীর্ষ নায়কদের বিপরীতে তাঁর রসায়ন দর্শক ও সমালোচক মহলে দারুণ সমাদৃত হয়েছিল। তাঁর অভিনীত বেশ কিছু সিনেমা সে সময়ে বক্স অফিসে ব্যাপক ব্যবসাসফল ও জনপ্রিয় হয়।

​বার্ধক্যজনিত নানা রোগ ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে ২০১২ সালের ৮ জুন ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন এই কিংবদন্তি অভিনেত্রী। মৃত্যুর পর তাঁর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী, প্রিয় জন্মভূমি লৌহজংয়ের বৌলতলী গ্রামেই পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
​গতকাল ৮ জুন এই গুণী অভিনেত্রীর ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী পূর্ণ হলো। প্রতি বছর এই দিনে তাঁর পরিবার, এলাকাবাসী এবং চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা মিলাদ মাহফিল, এতিমদের মাঝে খাবার বিতরণ ও বিশেষ দোয়ার মাধ্যমে তাঁকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।

​লৌহজংয়ের বৌলতলী গ্রামের বাসিন্দারা অত্যন্ত গর্বের সাথে স্মরণ করেন তাঁদের ঘরের মেয়ে কবিতাকে। স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তিদের মতে, চলচ্চিত্রে আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা পাওয়ার পরও নিজ গ্রাম ও নাড়ির প্রতি কবিতার টান কখনো কমেনি। সুযোগ পেলেই তিনি ছুটে আসতেন গ্রামে, শামিল হতেন সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে।
​গ্রামের একজন প্রবীণ বাসিন্দা আবেগঘন কণ্ঠে স্মৃতিচারণ করে বলেন:
​”কবিতা শুধু পর্দার নায়িকাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমাদের বৌলতলী গ্রামের অহংকার। তাঁর মৃত্যুতে চলচ্চিত্র জগতের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, তা কখনো পূরণ হওয়ার নয়। আমরা তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।”

​চলচ্চিত্রের ইতিহাসে মুন্সীগঞ্জের এই গুণী কন্যার নাম চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তবে তাঁর স্মৃতি ও অবদানকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মাঝে বাঁচিয়ে রাখতে স্থানীয় পর্যায়ে একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বা পাঠাগার স্থাপনের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকার যুবসমাজ ও সুধীজন।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

চট্টগ্রামে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনক, হটস্পট ৯ ওয়ার্ড, হাসপাতালে শয্যা সংকট

মুন্সীগঞ্জের গর্ব চিত্রনায়িকা কবিতার ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী সম্পন্ন হলো

সময়: ০৬:২৮:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

 

​শহিদ শেখ পাখি, মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি:


ঢাকাই চলচ্চিত্রের সোনালী দশকের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র, প্রখ্যাত চিত্রনায়িকা কবিতার ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। সাবলীল অভিনয় আর রূপের জাদুতে কোটি দর্শকের মন জয় করা মুন্সীগঞ্জের এই গুণী শিল্পী আজ আমাদের মাঝে নেই। তবে তাঁর রেখে যাওয়া কালজয়ী চলচ্চিত্রগুলো আজও সিনেপ্রেমীদের হৃদয়ে দোলা দেয়। গতকাল ৮ জুন (রবিবার) এই কিংবদন্তি অভিনেত্রীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর জন্মভিটাসহ বিভিন্ন মহলে তাঁকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হয়।

​চিত্রনায়িকা কবিতা ১৯৫২ সালের ১ মে মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বৌলতলী গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পারিবারিক নাম ছিল ‘আফরোজা সুলতানা’, তবে সেলুলয়েডের রূপালী পর্দায় তিনি ‘কবিতা’ নামেই ব্যাপক পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা লাভ করেন। পারিবারিক সূত্র ও এলাকাবাসীর তথ্যমতে, শৈশব থেকেই সংস্কৃতির প্রতি তাঁর ছিল এক সহজাত আকর্ষণ। এই সাংস্কৃতিক মায়াই পরবর্তীতে তাঁকে টেনে নিয়ে আসে রূপালী পর্দার ঝলমলে ভুবনে।

​ষাটের দশকের শেষের দিকে এবং সত্তরের দশকে কবিতা বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে অন্যতম শীর্ষ নায়িকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন। রোমান্টিক, সামাজিক কিংবা অ্যাকশন—সব ঘরানার সিনেমাতেই তিনি তাঁর অভিনয় দক্ষতার অনন্য স্বাক্ষর রেখেছেন। সমকালীন শীর্ষ নায়কদের বিপরীতে তাঁর রসায়ন দর্শক ও সমালোচক মহলে দারুণ সমাদৃত হয়েছিল। তাঁর অভিনীত বেশ কিছু সিনেমা সে সময়ে বক্স অফিসে ব্যাপক ব্যবসাসফল ও জনপ্রিয় হয়।

​বার্ধক্যজনিত নানা রোগ ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে ২০১২ সালের ৮ জুন ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন এই কিংবদন্তি অভিনেত্রী। মৃত্যুর পর তাঁর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী, প্রিয় জন্মভূমি লৌহজংয়ের বৌলতলী গ্রামেই পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
​গতকাল ৮ জুন এই গুণী অভিনেত্রীর ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী পূর্ণ হলো। প্রতি বছর এই দিনে তাঁর পরিবার, এলাকাবাসী এবং চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা মিলাদ মাহফিল, এতিমদের মাঝে খাবার বিতরণ ও বিশেষ দোয়ার মাধ্যমে তাঁকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।

​লৌহজংয়ের বৌলতলী গ্রামের বাসিন্দারা অত্যন্ত গর্বের সাথে স্মরণ করেন তাঁদের ঘরের মেয়ে কবিতাকে। স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তিদের মতে, চলচ্চিত্রে আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা পাওয়ার পরও নিজ গ্রাম ও নাড়ির প্রতি কবিতার টান কখনো কমেনি। সুযোগ পেলেই তিনি ছুটে আসতেন গ্রামে, শামিল হতেন সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে।
​গ্রামের একজন প্রবীণ বাসিন্দা আবেগঘন কণ্ঠে স্মৃতিচারণ করে বলেন:
​”কবিতা শুধু পর্দার নায়িকাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমাদের বৌলতলী গ্রামের অহংকার। তাঁর মৃত্যুতে চলচ্চিত্র জগতের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, তা কখনো পূরণ হওয়ার নয়। আমরা তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।”

​চলচ্চিত্রের ইতিহাসে মুন্সীগঞ্জের এই গুণী কন্যার নাম চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তবে তাঁর স্মৃতি ও অবদানকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মাঝে বাঁচিয়ে রাখতে স্থানীয় পর্যায়ে একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বা পাঠাগার স্থাপনের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকার যুবসমাজ ও সুধীজন।