Dhaka ০৪:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
দীর্ঘ সাধনার ফসল—আইন জ্ঞানকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার এক অঙ্গীকার পলাশবাড়ী পৌর নির্বাচন সামনে রেখে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় ও ইফতার করলেন সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী ফরিদুল হক রুবেল রাজশাহীতে ‘কার্ড সাংবাদিক’ এর ছড়াছড়ি: ক্ষুণ্ন হচ্ছে পেশাদার সাংবাদিকতার মর্যাদা কুরআনের আলোকে অপশাসন ও জুলুম মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হবে : মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান রাউজান মধ্যম সুলতানপুরে শ্রী শ্রী লোকনাথ বাবার প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে ২য় চতুষপ্রহরব্যাপী মহোৎসব অনুষ্ঠিত জাফলং চা বাগানের জায়গা দখল করে অবৈধ বাড়ী নির্মাণের অভিযোগ পঞ্চগড়ে এলএসটিডি প্রকল্পের উদ্যোগে কৃষি উপকরণ ও ব্রি ধান নিড়ানি যন্ত্র বিতরণ নড়াইলে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৫ কাহারোলে ভবানীপুর কলার ভেলায় মৃতদেহ নিয়ে শ্মশান যাত্রা জামালগঞ্জে কৃষক মাঠ স্কুলের দ্বি মাসিক সভা অনুষ্ঠিত
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

রাজশাহীতে ‘কার্ড সাংবাদিক’ এর ছড়াছড়ি: ক্ষুণ্ন হচ্ছে পেশাদার সাংবাদিকতার মর্যাদা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:১৯:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১০ Time View

 

সিহাব আলম সম্রাট, রাজশাহী


রাজশাহী জেলায় দিন দিন বেড়েই চলেছে কথিত ‘কার্ড সাংবাদিক’ এর সংখ্যা। জেলার আনাচে-কানাচে এখন সাংবাদিক পরিচয়পত্র ধারীর অভাব নেই। তবে এদের বড় একটি অংশ প্রকৃত অর্থে সাংবাদিকতার সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল ও পেশাদার সাংবাদিকরা।

জানা গেছে, জেলায় তথ্য অধিদপ্তর (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত কয়েকটি আঞ্চলিক পত্রিকা নিয়মিত প্রকাশিত হলেও এর বাইরে আরও বহু অনিবন্ধিত পত্রিকা ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল গড়ে উঠেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোর সরকারি নিবন্ধন বা অনুমোদন না থাকলেও তারা বিভিন্ন এলাকায় প্রতিনিধি নিয়োগ দিয়ে পরিচয়পত্র (কার্ড) বিতরণ করছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, দূর্গাপুর উপজেলায় ৭ টি ইউনিয়ন ১টি পৌরসভা । মোট ওয়ার্ড ৭২ টি, গ্রাম ১২৩ টি। মোট জনসংখ্যা ১,৯৭,৬৯৩ জন (২০২২ সালের জনশুমারী ও গৃহগণনা অনুযায়ী) । বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিয়োগকৃত সাংবাদিক আছেন ৮০+ । যা স্থানীয় ভাবে হাস্যকর।

অভিযোগ রয়েছে, অল্প টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন পেশার মানুষ—ইলেকট্রিক মিস্ত্রী, বাইক মেকানিক, ডিম বিক্রেতা, ইজিবাইক চালক, ভূমি অফিসের দালাল, দিনমজুরসহ নানা শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিদের সাংবাদিক পরিচয়পত্র দেওয়া হচ্ছে। এদের নেই কোন শিক্ষা সনদ,পোশাকে রুচিশীলতা,শারীরিক গঠন,বাঁচান ভঙ্গী । পরে এসব ব্যক্তি সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিসে গিয়ে নিজেদের সাংবাদিক দাবি করে অনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছেন। অনেক ক্ষেত্রে ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

এছাড়া দেখা যায়, কিছু ব্যক্তি শুধু একটি পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে মোটরসাইকেলে ‘প্রেস’ বা ‘সাংবাদিক’ স্টিকার লাগিয়ে ঘোরাফেরা করছেন। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে এবং প্রকৃত সাংবাদিকদের প্রতি আস্থাও কমে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উপজেলার একজন লেখক-সাংবাদিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “কিছু পত্রিকার সম্পাদক ও সংশ্লিষ্টদের গাফিলতি এবং অল্প টাকার লোভ থেকেই মূলত এই কার্ড বাণিজ্য চলছে। যাচাই-বাছাই ছাড়া প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়ার কারণে সাংবাদিকতার মর্যাদা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”

পেশাদার সাংবাদিকদের মতে, এ ধরনের অনিয়ন্ত্রিত পরিচয়পত্র বিতরণ বন্ধ না হলে সাংবাদিকতা পেশার প্রতি মানুষের সম্মান আরও কমে যাবে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানো, নিবন্ধনবিহীন সংবাদমাধ্যমের কার্যক্রম যাচাই এবং ভুয়া পরিচয়ে অপকর্মকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সচেতন মহলের অভিমত, প্রকৃত সাংবাদিকতা হলো দায়িত্বশীল ও নীতিনিষ্ঠ পেশা। তাই সাংবাদিক পরিচয়পত্র প্রদানের ক্ষেত্রে কঠোর নীতিমালা অনুসরণ এবং যথাযথ যাচাই-বাছাই নিশ্চিত করা গেলে সাংবাদিকতার হারানো মর্যাদা পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে। ‌

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় নিউজ

দীর্ঘ সাধনার ফসল—আইন জ্ঞানকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার এক অঙ্গীকার

রাজশাহীতে ‘কার্ড সাংবাদিক’ এর ছড়াছড়ি: ক্ষুণ্ন হচ্ছে পেশাদার সাংবাদিকতার মর্যাদা

Update Time : ০৯:১৯:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

সিহাব আলম সম্রাট, রাজশাহী


রাজশাহী জেলায় দিন দিন বেড়েই চলেছে কথিত ‘কার্ড সাংবাদিক’ এর সংখ্যা। জেলার আনাচে-কানাচে এখন সাংবাদিক পরিচয়পত্র ধারীর অভাব নেই। তবে এদের বড় একটি অংশ প্রকৃত অর্থে সাংবাদিকতার সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল ও পেশাদার সাংবাদিকরা।

জানা গেছে, জেলায় তথ্য অধিদপ্তর (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত কয়েকটি আঞ্চলিক পত্রিকা নিয়মিত প্রকাশিত হলেও এর বাইরে আরও বহু অনিবন্ধিত পত্রিকা ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল গড়ে উঠেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোর সরকারি নিবন্ধন বা অনুমোদন না থাকলেও তারা বিভিন্ন এলাকায় প্রতিনিধি নিয়োগ দিয়ে পরিচয়পত্র (কার্ড) বিতরণ করছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, দূর্গাপুর উপজেলায় ৭ টি ইউনিয়ন ১টি পৌরসভা । মোট ওয়ার্ড ৭২ টি, গ্রাম ১২৩ টি। মোট জনসংখ্যা ১,৯৭,৬৯৩ জন (২০২২ সালের জনশুমারী ও গৃহগণনা অনুযায়ী) । বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিয়োগকৃত সাংবাদিক আছেন ৮০+ । যা স্থানীয় ভাবে হাস্যকর।

অভিযোগ রয়েছে, অল্প টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন পেশার মানুষ—ইলেকট্রিক মিস্ত্রী, বাইক মেকানিক, ডিম বিক্রেতা, ইজিবাইক চালক, ভূমি অফিসের দালাল, দিনমজুরসহ নানা শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিদের সাংবাদিক পরিচয়পত্র দেওয়া হচ্ছে। এদের নেই কোন শিক্ষা সনদ,পোশাকে রুচিশীলতা,শারীরিক গঠন,বাঁচান ভঙ্গী । পরে এসব ব্যক্তি সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিসে গিয়ে নিজেদের সাংবাদিক দাবি করে অনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছেন। অনেক ক্ষেত্রে ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

এছাড়া দেখা যায়, কিছু ব্যক্তি শুধু একটি পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে মোটরসাইকেলে ‘প্রেস’ বা ‘সাংবাদিক’ স্টিকার লাগিয়ে ঘোরাফেরা করছেন। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে এবং প্রকৃত সাংবাদিকদের প্রতি আস্থাও কমে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উপজেলার একজন লেখক-সাংবাদিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “কিছু পত্রিকার সম্পাদক ও সংশ্লিষ্টদের গাফিলতি এবং অল্প টাকার লোভ থেকেই মূলত এই কার্ড বাণিজ্য চলছে। যাচাই-বাছাই ছাড়া প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়ার কারণে সাংবাদিকতার মর্যাদা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”

পেশাদার সাংবাদিকদের মতে, এ ধরনের অনিয়ন্ত্রিত পরিচয়পত্র বিতরণ বন্ধ না হলে সাংবাদিকতা পেশার প্রতি মানুষের সম্মান আরও কমে যাবে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানো, নিবন্ধনবিহীন সংবাদমাধ্যমের কার্যক্রম যাচাই এবং ভুয়া পরিচয়ে অপকর্মকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সচেতন মহলের অভিমত, প্রকৃত সাংবাদিকতা হলো দায়িত্বশীল ও নীতিনিষ্ঠ পেশা। তাই সাংবাদিক পরিচয়পত্র প্রদানের ক্ষেত্রে কঠোর নীতিমালা অনুসরণ এবং যথাযথ যাচাই-বাছাই নিশ্চিত করা গেলে সাংবাদিকতার হারানো মর্যাদা পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে। ‌