Dhaka ০১:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
আলোকিত জীবনের প্রতীক শায়খ আহমাদুল্লাহ: জ্ঞান, দাওয়াহ ও মানবসেবায় এক অনন্য অধ্যায় আইনি প্রক্রিয়ায় মান্দায় গাছ অপসারণ: সড়ক প্রশস্ত ও ফসলি জমি রক্ষার উদ্যোগ হরিণাকুণ্ডুতে নানা আয়োজনে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালিত, সমাধিস্তুপে শ্রদ্ধাঞ্জলি ও আলোচনা সভা চট্টগ্রামে সড়ক সম্প্রসারণের সুফল আঁটকে গেছে দখল ও অবৈধ পার্কিংয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড: ৪৫ বছর পর গ্রেপ্তার সাবেক মেজর মো. মোজাফফর হোসেন ৪৫ বছর পর গ্রেপ্তার জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মেজর (অব.) মোজাফফর আটক ফেনী চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার কে ফুলের শুভেচ্ছা টেক্সটাইল খাত বাঁচাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বিটিএমএর ১০ দফা দাবি মসজিদের মাইকে ঘোষণা, পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ; আহত ওসিসহ ২ ময়মনসিংহ মেডিকেলে র‍্যাব-১৪-এর অভিযান দালাল চক্রের ১৪ সদস্য আটক
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

রাজশাহীতে ‘কার্ড সাংবাদিক’ এর ছড়াছড়ি: ক্ষুণ্ন হচ্ছে পেশাদার সাংবাদিকতার মর্যাদা

  • Reporter Name
  • সময়: ০৯:১৯:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৩৫ Time View

 

সিহাব আলম সম্রাট, রাজশাহী


রাজশাহী জেলায় দিন দিন বেড়েই চলেছে কথিত ‘কার্ড সাংবাদিক’ এর সংখ্যা। জেলার আনাচে-কানাচে এখন সাংবাদিক পরিচয়পত্র ধারীর অভাব নেই। তবে এদের বড় একটি অংশ প্রকৃত অর্থে সাংবাদিকতার সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল ও পেশাদার সাংবাদিকরা।

জানা গেছে, জেলায় তথ্য অধিদপ্তর (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত কয়েকটি আঞ্চলিক পত্রিকা নিয়মিত প্রকাশিত হলেও এর বাইরে আরও বহু অনিবন্ধিত পত্রিকা ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল গড়ে উঠেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোর সরকারি নিবন্ধন বা অনুমোদন না থাকলেও তারা বিভিন্ন এলাকায় প্রতিনিধি নিয়োগ দিয়ে পরিচয়পত্র (কার্ড) বিতরণ করছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, দূর্গাপুর উপজেলায় ৭ টি ইউনিয়ন ১টি পৌরসভা । মোট ওয়ার্ড ৭২ টি, গ্রাম ১২৩ টি। মোট জনসংখ্যা ১,৯৭,৬৯৩ জন (২০২২ সালের জনশুমারী ও গৃহগণনা অনুযায়ী) । বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিয়োগকৃত সাংবাদিক আছেন ৮০+ । যা স্থানীয় ভাবে হাস্যকর।

অভিযোগ রয়েছে, অল্প টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন পেশার মানুষ—ইলেকট্রিক মিস্ত্রী, বাইক মেকানিক, ডিম বিক্রেতা, ইজিবাইক চালক, ভূমি অফিসের দালাল, দিনমজুরসহ নানা শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিদের সাংবাদিক পরিচয়পত্র দেওয়া হচ্ছে। এদের নেই কোন শিক্ষা সনদ,পোশাকে রুচিশীলতা,শারীরিক গঠন,বাঁচান ভঙ্গী । পরে এসব ব্যক্তি সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিসে গিয়ে নিজেদের সাংবাদিক দাবি করে অনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছেন। অনেক ক্ষেত্রে ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

এছাড়া দেখা যায়, কিছু ব্যক্তি শুধু একটি পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে মোটরসাইকেলে ‘প্রেস’ বা ‘সাংবাদিক’ স্টিকার লাগিয়ে ঘোরাফেরা করছেন। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে এবং প্রকৃত সাংবাদিকদের প্রতি আস্থাও কমে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উপজেলার একজন লেখক-সাংবাদিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “কিছু পত্রিকার সম্পাদক ও সংশ্লিষ্টদের গাফিলতি এবং অল্প টাকার লোভ থেকেই মূলত এই কার্ড বাণিজ্য চলছে। যাচাই-বাছাই ছাড়া প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়ার কারণে সাংবাদিকতার মর্যাদা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”

আরও পড়ুনঃ  চলে গেলেন প্রিয় সহকর্মী গোলাম বারী ইউনুস

পেশাদার সাংবাদিকদের মতে, এ ধরনের অনিয়ন্ত্রিত পরিচয়পত্র বিতরণ বন্ধ না হলে সাংবাদিকতা পেশার প্রতি মানুষের সম্মান আরও কমে যাবে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানো, নিবন্ধনবিহীন সংবাদমাধ্যমের কার্যক্রম যাচাই এবং ভুয়া পরিচয়ে অপকর্মকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সচেতন মহলের অভিমত, প্রকৃত সাংবাদিকতা হলো দায়িত্বশীল ও নীতিনিষ্ঠ পেশা। তাই সাংবাদিক পরিচয়পত্র প্রদানের ক্ষেত্রে কঠোর নীতিমালা অনুসরণ এবং যথাযথ যাচাই-বাছাই নিশ্চিত করা গেলে সাংবাদিকতার হারানো মর্যাদা পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে। ‌

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

আলোকিত জীবনের প্রতীক শায়খ আহমাদুল্লাহ: জ্ঞান, দাওয়াহ ও মানবসেবায় এক অনন্য অধ্যায়

রাজশাহীতে ‘কার্ড সাংবাদিক’ এর ছড়াছড়ি: ক্ষুণ্ন হচ্ছে পেশাদার সাংবাদিকতার মর্যাদা

সময়: ০৯:১৯:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

সিহাব আলম সম্রাট, রাজশাহী


রাজশাহী জেলায় দিন দিন বেড়েই চলেছে কথিত ‘কার্ড সাংবাদিক’ এর সংখ্যা। জেলার আনাচে-কানাচে এখন সাংবাদিক পরিচয়পত্র ধারীর অভাব নেই। তবে এদের বড় একটি অংশ প্রকৃত অর্থে সাংবাদিকতার সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল ও পেশাদার সাংবাদিকরা।

জানা গেছে, জেলায় তথ্য অধিদপ্তর (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত কয়েকটি আঞ্চলিক পত্রিকা নিয়মিত প্রকাশিত হলেও এর বাইরে আরও বহু অনিবন্ধিত পত্রিকা ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল গড়ে উঠেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোর সরকারি নিবন্ধন বা অনুমোদন না থাকলেও তারা বিভিন্ন এলাকায় প্রতিনিধি নিয়োগ দিয়ে পরিচয়পত্র (কার্ড) বিতরণ করছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, দূর্গাপুর উপজেলায় ৭ টি ইউনিয়ন ১টি পৌরসভা । মোট ওয়ার্ড ৭২ টি, গ্রাম ১২৩ টি। মোট জনসংখ্যা ১,৯৭,৬৯৩ জন (২০২২ সালের জনশুমারী ও গৃহগণনা অনুযায়ী) । বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিয়োগকৃত সাংবাদিক আছেন ৮০+ । যা স্থানীয় ভাবে হাস্যকর।

অভিযোগ রয়েছে, অল্প টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন পেশার মানুষ—ইলেকট্রিক মিস্ত্রী, বাইক মেকানিক, ডিম বিক্রেতা, ইজিবাইক চালক, ভূমি অফিসের দালাল, দিনমজুরসহ নানা শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিদের সাংবাদিক পরিচয়পত্র দেওয়া হচ্ছে। এদের নেই কোন শিক্ষা সনদ,পোশাকে রুচিশীলতা,শারীরিক গঠন,বাঁচান ভঙ্গী । পরে এসব ব্যক্তি সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিসে গিয়ে নিজেদের সাংবাদিক দাবি করে অনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছেন। অনেক ক্ষেত্রে ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

এছাড়া দেখা যায়, কিছু ব্যক্তি শুধু একটি পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে মোটরসাইকেলে ‘প্রেস’ বা ‘সাংবাদিক’ স্টিকার লাগিয়ে ঘোরাফেরা করছেন। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে এবং প্রকৃত সাংবাদিকদের প্রতি আস্থাও কমে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উপজেলার একজন লেখক-সাংবাদিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “কিছু পত্রিকার সম্পাদক ও সংশ্লিষ্টদের গাফিলতি এবং অল্প টাকার লোভ থেকেই মূলত এই কার্ড বাণিজ্য চলছে। যাচাই-বাছাই ছাড়া প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়ার কারণে সাংবাদিকতার মর্যাদা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”

আরও পড়ুনঃ  চলে গেলেন প্রিয় সহকর্মী গোলাম বারী ইউনুস

পেশাদার সাংবাদিকদের মতে, এ ধরনের অনিয়ন্ত্রিত পরিচয়পত্র বিতরণ বন্ধ না হলে সাংবাদিকতা পেশার প্রতি মানুষের সম্মান আরও কমে যাবে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানো, নিবন্ধনবিহীন সংবাদমাধ্যমের কার্যক্রম যাচাই এবং ভুয়া পরিচয়ে অপকর্মকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সচেতন মহলের অভিমত, প্রকৃত সাংবাদিকতা হলো দায়িত্বশীল ও নীতিনিষ্ঠ পেশা। তাই সাংবাদিক পরিচয়পত্র প্রদানের ক্ষেত্রে কঠোর নীতিমালা অনুসরণ এবং যথাযথ যাচাই-বাছাই নিশ্চিত করা গেলে সাংবাদিকতার হারানো মর্যাদা পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে। ‌