
ই হক তৈয়ব:
একাধিক জাতীয় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা ও বোর্ড পরীক্ষায় ধারাবাহিকভাবে প্রথম স্থান অর্জনের মাধ্যমে দেশব্যাপী সুনাম কুড়িয়েছে আল-কারীম ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসা। তবে এই প্রতিষ্ঠানটি কেবল পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের মধ্যে নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখেনি — শুরু থেকেই শিক্ষার মানকে “আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করার সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য”সামনে রেখে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, এখানে কোরআন ও সুন্নাহভিত্তিক মৌলিক ইসলামী শিক্ষার পাশাপাশি “শুদ্ধ তিলাওয়াত, মানসম্মত হিফজ, ভাষা দক্ষতা ও আধুনিক পাঠক্রমের” ওপর সমান গুরুত্ব দেওয়া হয় — যাতে শিক্ষার্থীরা দেশ ও বিশ্বের যেকোনো প্রেক্ষাপটে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজেদের উপস্থাপন করতে পারে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঈমানি দৃঢ়তা, শুদ্ধ আকিদা, শালীনতা ও দায়িত্ববোধ তৈরির পাশাপাশি চিন্তাশক্তি, শৃঙ্খলা ও নেতৃত্ব গুণ বিকাশেও বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়।
আন্তর্জাতিক মান: শুধু বিদেশমুখী শিক্ষা নয়:
আল-কারীম ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসা বিশ্বাস করে, আন্তর্জাতিক মান মানে কেবল বিদেশমুখী শিক্ষা নয়; বরং “জ্ঞান, চরিত্র ও দক্ষতায় বৈশ্বিক মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হওয়া।” হিফজ বিভাগে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার মানদণ্ড অনুযায়ী প্রশিক্ষণ, নিয়মিত মূল্যায়ন ও ব্যক্তিগত তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করা হয়। একই সঙ্গে ইন্টারন্যাশনাল বিভাগে আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে এমন পাঠদান পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়, যা শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার সক্ষমতা তৈরি করে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে অভিজ্ঞ শিক্ষক, সুপরিকল্পিত সিলেবাস এবং নিয়মিত তত্ত্বাবধানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি নিরবচ্ছিন্নভাবে এগিয়ে চলছে।

বিভাগসমূহ ও শিক্ষাক্রম:
মাদরাসাটিতে নূরানী ও নাজেরা বিভাগে কোরআন শিক্ষার শক্ত ভিত্তি তৈরি করা হয়। হিফজুল কুরআন ও হিফজ রিভিশন বিভাগে নিয়মিত তত্ত্বাবধান, মানসম্মত রুটিন ও ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মুখস্থ শক্তিশালী করা হয়। জেনারেল ও ইন্টারন্যাশনাল বিভাগে আধুনিক শিক্ষার পাঠদান চলমান রয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তব জীবনের জন্যও প্রস্তুত হতে পারে।
কিতাব বিভাগে মাদানি নেসাব অনুযায়ী উচ্চতর ইসলামী শিক্ষা প্রদান করা হয়। ভবিষ্যৎ শিক্ষাগুরু তৈরির লক্ষ্যে মুয়াল্লিম প্রশিক্ষণ বিভাগে বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। বালিকা শাখায় আলাদা ও নিরাপদ পরিবেশে হিফজুল কুরআন বিভাগ পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে অভিজ্ঞ শিক্ষিকা ও আলেমাদের সরাসরি তত্ত্বাবধান রয়েছে। প্রতিটি বিভাগে যোগ্য আলেম, হাফেজ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষক-শিক্ষিকারা আন্তরিকতার সঙ্গে পাঠদান করছেন।

আদর্শ নেতৃত্বে হাফেজ মাওলানা ক্বারী আব্দুর রহমান:
সমসাময়িক ইসলামী শিক্ষাক্ষেত্রে যাঁদের অবদান নীরবে কিন্তু গভীরভাবে প্রভাব ফেলেছে, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা ক্বারী আব্দুর রহমান। শৈশবকাল থেকেই কোরআনের প্রতি গভীর অনুরাগ ছিল তাঁর। কঠোর সাধনা, শুদ্ধ তিলাওয়াত ও ইলমের প্রতি একাগ্রতার মধ্য দিয়ে তিনি নিজেকে গড়ে তোলেন একজন দক্ষ হাফেজ ও ক্বারী হিসেবে। পরবর্তীতে সেই অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থী ও সমাজের কল্যাণে উৎসর্গ করার দৃঢ় সংকল্প থেকেই আল-কারীম ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার যাত্রা শুরু।

তাঁর শিক্ষাদর্শনে কোরআন ও সুন্নাহভিত্তিক জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাঁর মতে, একজন শিক্ষার্থীকে শুধু হাফেজ বা আলেম হলেই চলবে না; তাকে হতে হবে সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য উপকারী একজন সৎ মানুষ। শিক্ষাক্ষেত্রের পাশাপাশি দাওয়াহ ও সমাজ সংস্কারমূলক কাজেও তিনি সক্রিয়। তাঁর বিনয়ী আচরণ, স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি এবং দায়িত্বশীল নেতৃত্ব তাঁকে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে সমানভাবে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।
শিক্ষিত, চরিত্রবান ও কোরআনপ্রেমী প্রজন্ম গড়ে তোলাই হাফেজ মাওলানা ক্বারী আব্দুর রহমানের আজীবনের লক্ষ্য। আল-কারীম ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার প্রতিটি সাফল্যের পেছনে রয়েছে তাঁর সেই নীরব ত্যাগ ও অবিচল নিষ্ঠা।

ভর্তি তথ্য:
বালক ও বালিকা উভয় শাখায় নতুন শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অভিভাবকরা সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবেন —
-মতিঝিল শাখা: ২০৫/এ, কালভার্ট রোড, মতিঝিল
-কামরাঙ্গীরচর শাখা: ১২৯, ছাতা মসজিদ রোড, লোহার ব্রিজ ঢাল সংলগ্ন
কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছে, আল-কারীম ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার এই সমন্বিত ও আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে আগামী প্রজন্ম ধর্ম, চরিত্র ও জ্ঞানে বৈশ্বিক মানদণ্ডে সমৃদ্ধ হয়ে গড়ে উঠবে।
Reporter Name 























