সাংবাদিক মোশাররফ হোসেন, জসিম পাঠান
কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার রায়টুটি ইউনিয়নের পাথারকান্দি গ্রামের বাসিন্দা ও ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. উজ্জ্বল মিয়া হত্যা মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে মামলার বাদী ও নিহতের স্বজনরা থানায় বারবার যোগাযোগ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, উপজেলার পাথারকান্দি গ্রামের মৃত মতাব উদ্দিনের ছেলে মো. উজ্জ্বল মিয়াকে পূর্বশত্রুতার জেরে গত ২ জুন ২০২৬ দিবাগত রাত প্রায় ১০টার দিকে একই গ্রামের মৃত আলফ হোসেনের ছেলে মো. রফিকুল ইসলামসহ তার সহযোগীরা মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আহত অবস্থায় উজ্জ্বল মিয়াকে উদ্ধার করে প্রথমে তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ নিজ গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়।
ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ ও একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। তাদের দাবি, ওই বিরোধের জের ধরেই এ ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় নিহতের বোনের ছেলে বাদী হয়ে মো. রফিকুল ইসলামসহ ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করে ইটনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি ইটনা থানা, কিশোরগঞ্জ জেলা, মামলা নং-১০ হিসেবে রুজু হয়েছে।
পুলিশ এ মামলায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে। তবে বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মামলার বাদী ও নিহতের আত্মীয়-স্বজন নিয়মিত থানায় যোগাযোগ করছেন বলে জানা গেছে।
নিহতের স্ত্রী মোছা. নদিয়া আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, “আমি আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই। দ্রুত সব আসামিকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর থেকে তাদের পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা না হলে এলাকায় যে কোনো সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
Reporter Name 
























