Dhaka ১২:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
আর, এম, পির বিশেষ চেকপোস্ট হৃদরোগে আক্রান্ত দুলালের পাশে বাঁশকান্দা মানব কল্যাণ ট্রাস্ট চরিত্রই ছিল তাঁর শ্রেষ্ঠ পরিচয়: কুরআন ও হাদিসের আলোকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নরসিংদীতে গ্যাসের সংকট নিরসনে করণীয় নির্ধারনে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত পলাশে দলীয় পরিচয়ে জমি জবরদখল ও কাঁঠাল গাছ কাটার অভিযোগ কেরানীগঞ্জে গ্যাস সংকটে চরম দুর্ভোগ, অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নের দাবি বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসে সেবার নতুন দিগন্ত, নাগরিকদের জন্য মিলছে নানা সুযোগ-সুবিধা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে বেশি বেশি গাছ লাগানোর বিকল্প নেই -ইউএনও, এটিএম কামরুল ইসলাম বুশরা গ্রুপের সম্পত্তি বিক্রি ঠেকাতে ডিসির কাছে আমানতকারীদের আবেদন রাসূল (সা.)সারা জাহানের জন্য রহমত স্বরূপ
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

ভূরুঙ্গামারীতে স্কুল ফিডিংয়ের বনরুটিতে সবুজ ফাঙ্গাস, তদন্তে মিলল সত্যতা

মো. রাহিজুল ইসলাম, ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা


কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাতুলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় সরবরাহ করা বনরুটিতে সবুজ ফাঙ্গাস (ছত্রাক) পাওয়ার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিলে শিক্ষা বিভাগের তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে।

জানা গেছে, বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে দুপুরের টিফিন হিসেবে বনরুটি বিতরণের সময় শিক্ষকরা রুটির ওপর সবুজ ফাঙ্গাস দেখতে পান। এরপরই তাৎক্ষণিকভাবে রুটি বিতরণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে এসে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

অভিভাবকদের অভিযোগ, শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলে নিম্নমানের খাদ্য সরবরাহ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা এ ঘটনায় জড়িত সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বিদ্যালয়ের এক অভিভাবক মাসুদ রানা ফাঙ্গাসযুক্ত বনরুটি সঙ্গে নিয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসে গিয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আখতারুল ইসলামের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোবাশ্বের হোসেনকে ঘটনাটি তদন্ত করে দ্রুত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা কুলসুম বেগম বলেন, “রুটিতে ফাঙ্গাস দেখতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ করে দিই এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করি। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।”

তদন্ত শেষে সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোবাশ্বের হোসেন জানান, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা বনরুটিতে ফাঙ্গাস থাকার সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হচ্ছে।”

এদিকে, শিশুখাদ্য সরবরাহকারী সংস্থা ESDO-এর স্থানীয় প্রতিনিধি মনজু আলম বলেন, “বনরুটির মেয়াদ এখনও ছিল। তারপরও কীভাবে সবুজ ফাঙ্গাস পড়েছে, তা এই মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।”

আরও পড়ুনঃ  পবিপ্রবিতে আইকিউএসি'র উদ্যোগে নবীন শিক্ষার্থীদের সেমিনার অনুষ্ঠিত

ঘটনার পর এলাকাজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাদ্যের মান ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিয়মিত তদারকির পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।

 

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

আর, এম, পির বিশেষ চেকপোস্ট

ভূরুঙ্গামারীতে স্কুল ফিডিংয়ের বনরুটিতে সবুজ ফাঙ্গাস, তদন্তে মিলল সত্যতা

সময়: ১২:১২:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

মো. রাহিজুল ইসলাম, ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা


কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাতুলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় সরবরাহ করা বনরুটিতে সবুজ ফাঙ্গাস (ছত্রাক) পাওয়ার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিলে শিক্ষা বিভাগের তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে।

জানা গেছে, বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে দুপুরের টিফিন হিসেবে বনরুটি বিতরণের সময় শিক্ষকরা রুটির ওপর সবুজ ফাঙ্গাস দেখতে পান। এরপরই তাৎক্ষণিকভাবে রুটি বিতরণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে এসে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

অভিভাবকদের অভিযোগ, শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলে নিম্নমানের খাদ্য সরবরাহ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা এ ঘটনায় জড়িত সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বিদ্যালয়ের এক অভিভাবক মাসুদ রানা ফাঙ্গাসযুক্ত বনরুটি সঙ্গে নিয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসে গিয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আখতারুল ইসলামের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোবাশ্বের হোসেনকে ঘটনাটি তদন্ত করে দ্রুত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা কুলসুম বেগম বলেন, “রুটিতে ফাঙ্গাস দেখতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ করে দিই এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করি। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।”

তদন্ত শেষে সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোবাশ্বের হোসেন জানান, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা বনরুটিতে ফাঙ্গাস থাকার সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হচ্ছে।”

এদিকে, শিশুখাদ্য সরবরাহকারী সংস্থা ESDO-এর স্থানীয় প্রতিনিধি মনজু আলম বলেন, “বনরুটির মেয়াদ এখনও ছিল। তারপরও কীভাবে সবুজ ফাঙ্গাস পড়েছে, তা এই মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।”

আরও পড়ুনঃ  পবিপ্রবিতে আইকিউএসি'র উদ্যোগে নবীন শিক্ষার্থীদের সেমিনার অনুষ্ঠিত

ঘটনার পর এলাকাজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাদ্যের মান ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিয়মিত তদারকির পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।