চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় দেশের ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোতেই শিক্ষার্থী খুবই কম, নিয়মিত ক্লাস হয় না এবং শিক্ষক উপস্থিতিও সন্তোষজনক নয়। তাই এসব প্রতিষ্ঠানে কেন এমন ফল হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলো জানিয়েছে, যেসব প্রতিষ্ঠান ভালোভাবে কারণ ব্যাখ্যা করতে পারবে না, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এমনকি প্রয়োজন হলে এমপিও সুবিধাও বাতিল করা হতে পারে।
এবার শূন্য পাস করা ৩১২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২২৬টি মাদ্রাসা, ৫৭টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের প্রতিষ্ঠান এবং ২৯টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। অর্থাৎ শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৭২ শতাংশই মাদ্রাসা।
এসব প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগেই পরীক্ষার্থী ছিল খুব কম। অনেক প্রতিষ্ঠান থেকে ১৫ জনেরও কম শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। আবার কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে মাত্র একজন বা দুজন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছে।
কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের দাসনাইপাড়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসায় এবার মাত্র একজন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষা দিয়েছিল। তাকে পড়ানোর জন্য ছিলেন ১২ জন শিক্ষক। এরপরও ওই শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি।
খুলনার আসমা সারোয়ার ইসলামিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক রয়েছেন ১০ জন। কিন্তু এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল মাত্র দুজন। তাদের কেউই পাস করেনি।
পঞ্চগড়ের বলরামহাট মডেল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে পাস করতে পারেনি। একই জেলার সর্দারপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে তিনজন পরীক্ষা দিলেও কেউ পাস করেনি।
জামালপুরের কদমতলী কারিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ১১ জন শিক্ষক রয়েছেন। সেখানে এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল মাত্র তিনজন। তাদের কেউই পাস করতে পারেনি।
নরসিংদীর সুটুরিয়া ফজলুল হক খান দাখিল মাদ্রাসায় ১৮ জন শিক্ষক থাকলেও এবার পরীক্ষা দেওয়া ১৬ জন শিক্ষার্থীর একজনও পাস করেনি। কিশোরগঞ্জের জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে আটজন শিক্ষক থাকলেও এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল মাত্র পাঁচজন। তাদের কেউই পাস করতে পারেনি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, শূন্য পাস করা ৩১২টি প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে দাখিল পরীক্ষায় শূন্য পাস করা ২২৬টি মাদ্রাসার প্রধানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড।
মাদ্রাসা প্রধানদের লিখিত ব্যাখ্যা নিয়ে বোর্ডে সশরীরে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। ঢাকা ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রধানদের ১৬ আগস্ট, রাজশাহীর ১৭ আগস্ট এবং রংপুরের ১৮ আগস্ট উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম ও সিলেটের ১৯ আগস্ট, খুলনা ও কুমিল্লার ২০ আগস্ট এবং বরিশালের ২৩ আগস্ট উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, শুধু একজন-দুজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেওয়া নয়, নিয়মিত ক্লাস হয় কি না, শিক্ষকরা ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করেন কি না এবং শিক্ষার্থীরা কেন স্কুলে আসছে না—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হবে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেছেন, যেসব প্রতিষ্ঠানে একাধিকবার শূন্য পাসের ঘটনা ঘটেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনও বলেছেন, এমপিওর সব সুবিধা নেওয়ার পরও কোনো শিক্ষার্থী পাস না করলে তা মেনে নেওয়া হবে না। প্রয়োজন হলে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষাবিদদের মতে, শুধু শোকজ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। নিয়মিত শিক্ষক উপস্থিতি, ক্লাসের মান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবং প্রতিষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়মিত পরীক্ষা করা দরকার। পাশাপাশি গ্রাম ও শহরের শিক্ষার সুযোগের পার্থক্যও কমাতে হবে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ছয়টি প্রতিষ্ঠান থেকেও কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। এগুলো হলো টাঙ্গাইলের নাগরপুরের সলিমাবাদ আনোয়ার খান মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, ভূঞাপুরের গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়, রাজবাড়ীর পাংশার বনগ্রাম আতারুননেসা উচ্চ বিদ্যালয়, রাজবাড়ী সদরের জালদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার জঙ্গলিয়া ইউনিয়ন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং বিদেশ কেন্দ্রের বাংলাদেশের দোয়েল একাডেমি।
Reporter Name 





















