
নিজস্ব প্রতিবেদক:
কারীদের জাতীয় সংগঠন বাংলাদেশ ক্বারী সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন হাফেজ ও ক্বারী নাজমুল হাসান। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সংগঠনের নির্বাহী কমিটির বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে তাকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নির্বাচিত করা হয়।
পবিত্র কোরআনের হিফজ ও কিরাতের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব এবং দেশ-বিদেশে কোরআনের শিক্ষার প্রসারে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
হাফেজ ক্বারী নাজমুল হাসান বাংলাদেশের একজন আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ক্বারী ও কোরআনে হাফেজ। তার হাতে গড়ে উঠেছেন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কৃতিত্ব অর্জনকারী একাধিক হাফেজে কোরআন। তার উল্লেখযোগ্য ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন হাফেজ জাকারিয়া, হাফেজ নাজমুস সাকিব, হাফেজ আব্দুল্লাহ আল মামুন, হাফেজ মুজাহিদুল ইসলাম ও হাফেজ শিহাবুল্লাহ।
এছাড়াও জাতীয পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিযোগীতা ও টিভি প্রোগ্রামে অসংখ্য ছাত্র মেধা তালিকা অর্জনের গৌরব রয়েছে।
১৯৮৪ সালের ১০ জানুয়ারি কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার নয়নতলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন নাজমুল হাসান। অল্প বয়সেই পবিত্র কোরআনের ৩০ পারা হিফজ সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে কিরাতের ওপর উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন।
ঢাকার চকবাজারের সাত রওজা হাফিজিয়া মাদরাসা থেকে তিনি হিফজ ও কিরাত সম্পন্ন করেন। ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠা করেন তাহফিজুল কুরআন ওয়াসসুন্নাহ মাদরাসা। বর্তমানে তিনি প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ক্বারী সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
আন্তর্জাতিক কিরাত প্রতিযোগিতায়ও রয়েছে তার উল্লেখযোগ্য সাফল্য। ২০১২ সালে ইরানের রাজধানী তেহরানে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কিরাত প্রতিযোগিতায় তিনি পঞ্চম স্থান অর্জন করেন। পরের বছর ২০১৩ সালে মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কিরাত প্রতিযোগিতায় অর্জন করেন চতুর্থ স্থান। এযাবৎ অসংখ্য জাতীয় ও অন্তর্জাতিক পুরষ্কারে তিনি ভূষিত হয়েছেন।
তার ছাত্রদের মধ্যে একাধিক হাফেজ আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কোরআন প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জন করে পবিত্র কোরআন পদক লাভ করেছেন। শিক্ষক হিসেবে তার এ অর্জন কোরআন শিক্ষার ক্ষেত্রে তার দীর্ঘদিনের অবদান ও প্রশিক্ষণদানের দক্ষতার পরিচয় বহন করে।
বাংলাদেশ ক্বারী সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় কোরআনপ্রেমী, ক্বারী ও হাফেজদের মাঝে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তার অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বে দেশের ক্বারীদের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী ক্বারীদের প্রশিক্ষণ ও পৃষ্ঠপোষকতায় নতুন উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে।
Reporter Name 






















