Dhaka ০৯:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
আলোকিত জীবনের প্রতীক শায়খ আহমাদুল্লাহ: জ্ঞান, দাওয়াহ ও মানবসেবায় এক অনন্য অধ্যায় আইনি প্রক্রিয়ায় মান্দায় গাছ অপসারণ: সড়ক প্রশস্ত ও ফসলি জমি রক্ষার উদ্যোগ হরিণাকুণ্ডুতে নানা আয়োজনে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালিত, সমাধিস্তুপে শ্রদ্ধাঞ্জলি ও আলোচনা সভা চট্টগ্রামে সড়ক সম্প্রসারণের সুফল আঁটকে গেছে দখল ও অবৈধ পার্কিংয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড: ৪৫ বছর পর গ্রেপ্তার সাবেক মেজর মো. মোজাফফর হোসেন ৪৫ বছর পর গ্রেপ্তার জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মেজর (অব.) মোজাফফর আটক ফেনী চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার কে ফুলের শুভেচ্ছা টেক্সটাইল খাত বাঁচাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বিটিএমএর ১০ দফা দাবি মসজিদের মাইকে ঘোষণা, পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ; আহত ওসিসহ ২ ময়মনসিংহ মেডিকেলে র‍্যাব-১৪-এর অভিযান দালাল চক্রের ১৪ সদস্য আটক
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

আলোকিত জীবনের প্রতীক শায়খ আহমাদুল্লাহ: জ্ঞান, দাওয়াহ ও মানবসেবায় এক অনন্য অধ্যায়

  • Reporter Name
  • সময়: ০৮:১৬:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
  • ১০ Time View

নিজস্ব প্রতিনিধি:

বাংলাদেশের সমকালীন ইসলামি অঙ্গনে জ্ঞানচর্চা, দাওয়াহ ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে যিনি লক্ষ মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন, তিনি শায়খ আহমাদুল্লাহ। ইসলামি বক্তা, লেখক, গবেষক এবং সমাজসেবক হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশ-বিদেশে ইসলামের সৌন্দর্য ও মানবিক মূল্যবোধ তুলে ধরছেন।

১৯৮১ সালের ১৫ ডিসেম্বর লক্ষ্মীপুর জেলার বশিকপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন শায়খ আহমাদুল্লাহ। শৈশব থেকেই ইসলামি শিক্ষার প্রতি গভীর আগ্রহ নিয়ে তিনি দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য কওমি মাদ্রাসায় পড়াশোনা সম্পন্ন করেন। শিক্ষাজীবনে তিনি বেফাক পরীক্ষাসহ বিভিন্ন স্তরে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন এবং ২০০২ সালে ইফতা সম্পন্ন করেন।

শিক্ষা সমাপ্তির পর তিনি হাদিসের শিক্ষকতা ও ইমামতি শুরু করেন। পরে সৌদি আরবের পশ্চিম দাম্মাম ইসলামি দাওয়াহ কেন্দ্রে প্রায় এক দশক অনুবাদক ও দাঈ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দেশে ফিরে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন, যা বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম পরিচিত অরাজনৈতিক ও অলাভজনক মানবকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান।

শায়খ আহমাদুল্লাহর নেতৃত্বে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন শিক্ষা, দাওয়াহ, এতিম ও অসহায় মানুষের সহায়তা, চিকিৎসা, ত্রাণ বিতরণ, কর্মসংস্থান, বৃক্ষরোপণ এবং দক্ষতা উন্নয়নসহ বহুমুখী সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। করোনা মহামারী, সিলেট-সুনামগঞ্জের বন্যা, তুরস্ক-সিরিয়া ভূমিকম্প এবং দেশের বিভিন্ন দুর্যোগে প্রতিষ্ঠানটির মানবিক উদ্যোগ ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।

তিনি শুধু একজন বক্তাই নন, একজন জনপ্রিয় লেখকও। তাঁর রচিত “রাসূলুল্লাহ (সা.) এর সকাল-সন্ধ্যার দু’আ ও যিকর”, “উমরাহ কীভাবে করবেন?”, “রমাদান প্ল্যানার”, **“তারাবীহর সালাতে কুরআনের বার্তা”**সহ একাধিক গ্রন্থ পাঠকমহলে সমাদৃত হয়েছে। তাঁর সকাল-সন্ধ্যার দু’আ ও যিকর বইটি লক্ষাধিক কপি বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে।

দেশের পাশাপাশি জাপান, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিশ্বের বহু দেশে তিনি দাওয়াতি সেমিনারে অংশগ্রহণ করেছেন। এছাড়া আইকিউএ.ইনফো নামে একটি ইসলামি প্রশ্নোত্তর প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের কাছে নির্ভরযোগ্য ইসলামি জ্ঞান পৌঁছে দেওয়ার কাজ করে যাচ্ছেন।

আরও পড়ুনঃ  হরিণাকুণ্ডুতে নানা আয়োজনে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালিত, সমাধিস্তুপে শ্রদ্ধাঞ্জলি ও আলোচনা সভা

বর্তমানে তিনি নারায়ণগঞ্জের ভূমিপল্লী জামে মসজিদের খতিব এবং আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৪ সালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হওয়ার প্রস্তাব পেলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি।

জ্ঞান, প্রজ্ঞা, বিনয় এবং মানবসেবার সমন্বয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহ আজ অসংখ্য মানুষের কাছে আলোকিত জীবনের এক অনুপ্রেরণার নাম। ইসলামি শিক্ষা ও মানবকল্যাণে তাঁর অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

আলোকিত জীবনের প্রতীক শায়খ আহমাদুল্লাহ: জ্ঞান, দাওয়াহ ও মানবসেবায় এক অনন্য অধ্যায়

আলোকিত জীবনের প্রতীক শায়খ আহমাদুল্লাহ: জ্ঞান, দাওয়াহ ও মানবসেবায় এক অনন্য অধ্যায়

সময়: ০৮:১৬:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিনিধি:

বাংলাদেশের সমকালীন ইসলামি অঙ্গনে জ্ঞানচর্চা, দাওয়াহ ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে যিনি লক্ষ মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন, তিনি শায়খ আহমাদুল্লাহ। ইসলামি বক্তা, লেখক, গবেষক এবং সমাজসেবক হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশ-বিদেশে ইসলামের সৌন্দর্য ও মানবিক মূল্যবোধ তুলে ধরছেন।

১৯৮১ সালের ১৫ ডিসেম্বর লক্ষ্মীপুর জেলার বশিকপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন শায়খ আহমাদুল্লাহ। শৈশব থেকেই ইসলামি শিক্ষার প্রতি গভীর আগ্রহ নিয়ে তিনি দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য কওমি মাদ্রাসায় পড়াশোনা সম্পন্ন করেন। শিক্ষাজীবনে তিনি বেফাক পরীক্ষাসহ বিভিন্ন স্তরে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন এবং ২০০২ সালে ইফতা সম্পন্ন করেন।

শিক্ষা সমাপ্তির পর তিনি হাদিসের শিক্ষকতা ও ইমামতি শুরু করেন। পরে সৌদি আরবের পশ্চিম দাম্মাম ইসলামি দাওয়াহ কেন্দ্রে প্রায় এক দশক অনুবাদক ও দাঈ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দেশে ফিরে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন, যা বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম পরিচিত অরাজনৈতিক ও অলাভজনক মানবকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান।

শায়খ আহমাদুল্লাহর নেতৃত্বে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন শিক্ষা, দাওয়াহ, এতিম ও অসহায় মানুষের সহায়তা, চিকিৎসা, ত্রাণ বিতরণ, কর্মসংস্থান, বৃক্ষরোপণ এবং দক্ষতা উন্নয়নসহ বহুমুখী সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। করোনা মহামারী, সিলেট-সুনামগঞ্জের বন্যা, তুরস্ক-সিরিয়া ভূমিকম্প এবং দেশের বিভিন্ন দুর্যোগে প্রতিষ্ঠানটির মানবিক উদ্যোগ ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।

তিনি শুধু একজন বক্তাই নন, একজন জনপ্রিয় লেখকও। তাঁর রচিত “রাসূলুল্লাহ (সা.) এর সকাল-সন্ধ্যার দু’আ ও যিকর”, “উমরাহ কীভাবে করবেন?”, “রমাদান প্ল্যানার”, **“তারাবীহর সালাতে কুরআনের বার্তা”**সহ একাধিক গ্রন্থ পাঠকমহলে সমাদৃত হয়েছে। তাঁর সকাল-সন্ধ্যার দু’আ ও যিকর বইটি লক্ষাধিক কপি বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে।

দেশের পাশাপাশি জাপান, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিশ্বের বহু দেশে তিনি দাওয়াতি সেমিনারে অংশগ্রহণ করেছেন। এছাড়া আইকিউএ.ইনফো নামে একটি ইসলামি প্রশ্নোত্তর প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের কাছে নির্ভরযোগ্য ইসলামি জ্ঞান পৌঁছে দেওয়ার কাজ করে যাচ্ছেন।

আরও পড়ুনঃ  আবু নায়িন তাসকিন বৃত্তি পেয়েছে,ভবিষ্যতে ডাক্তার হতে চায়

বর্তমানে তিনি নারায়ণগঞ্জের ভূমিপল্লী জামে মসজিদের খতিব এবং আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৪ সালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হওয়ার প্রস্তাব পেলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি।

জ্ঞান, প্রজ্ঞা, বিনয় এবং মানবসেবার সমন্বয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহ আজ অসংখ্য মানুষের কাছে আলোকিত জীবনের এক অনুপ্রেরণার নাম। ইসলামি শিক্ষা ও মানবকল্যাণে তাঁর অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।