Dhaka ০২:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া শিক্ষক নিয়োগ প্রমাণিত, বহাল তবিয়তে অধ্যক্ষ আমজাদ বুড়িচংয়ে বিএনপি নেতা আবু ইউসুফ তুহিনের জন্মদিন পালিত পরশুরামের বক্সমাহমুদে আগুনে পুড়ে যাওয়া ১১ দোকানিকে জামায়াতের আর্থিক সহায়তা আদমদীঘিতে ইটিপি ছাড়াই চালকল পরিচালনা, সংবাদ প্রকাশের পর তদন্তে মিলল অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা কালিয়াকৈরে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে মাঠকর্মী ও সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ পাইকগাছায় ১৫১ মণ্ডপে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি, প্রতিমায় রংতুলির শেষ আঁচড় বুড়িচং ফজলুর রহমান মেমোরিয়্যাল কলেজ অব টেকনোলজিতে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত তেঁতুলিয়ায় আগাছানাশক প্রয়োগে ধান নষ্টের অভিযোগ, কৃষকের বুকফাটা আর্তনাদ সুনামগঞ্জের ৪৪৪ পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি, নিরাপত্তায় মাঠে পুলিশ আমি তোমার জম মালাকুল মউত আজরাইল
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

সামুদ জাতির ধ্বংসের কারণ ও আমাদের শিক্ষা

  • Reporter Name
  • সময়: ১২:১০:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫
  • ২৪৬ Time View

 

সামুদ জাতির ধ্বংসের কারণ ও আমাদের শিক্ষা

মাওলানা সাইফুল ইসলাম সালেহী 

বর্তমান সমাজে অন্যায়, অপরাধ, অত্যাচার এবং জুলুম মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়েছে। মানবিকতা, মায়া-মমতা এবং ভালোবাসা যেন আজ বিলুপ্তপ্রায়। মানুষে মানুষে হিংসা, বিদ্বেষ এবং একে অপরের ক্ষতি করার প্রবণতা এখন স্বাভাবিক চিত্রে পরিণত। সুদ, ঘুষ, দুর্নীতি ও সম্পদ আত্মসাতের মাধ্যমে যারা বিত্তশালী হচ্ছেন, তারাই সমাজকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সমাজের দুর্বল ও নিরীহ মানুষজন হচ্ছেন সবচেয়ে বেশি জুলুমের শিকার। মানুষ ভুলে গেছে পরকাল, আল্লাহর ভয় এবং জাহান্নামের কঠিন আগুনকে।

যদি মানুষের হৃদয়ে আল্লাহর ভয় থাকত, তবে এসব অন্যায়, অপরাধ ও জুলুম কখনো বাড়ত না। আল্লাহ তাআলা ইতিমধ্যেই করোনাভাইরাসের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয় দিয়ে মানবজাতিকে সতর্ক করেছেন, কিন্তু তবুও মানুষ শিক্ষা নিচ্ছে না। ইতিহাসের পাতায় এমন অনেক জাতি আছে, যাদেরকে আল্লাহ তাদের কৃত অন্যায় ও সীমালঙ্ঘনের কারণে ধ্বংস করে দিয়েছেন। মহাগ্রন্থ আল-কোরআনে সেই সব ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতির বিবরণ এসেছে, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিল সামুদ জাতি।

প্রাচুর্য থেকে পাপে নিমজ্জিত সামুদ

একসময় পৃথিবীতে সামুদ জাতি ছিল অত্যন্ত অর্থশালী ও শক্তিশালী। তাদের সুখ-শান্তি বা প্রাচুর্যের কোনো কমতি ছিল না। তারা বড় বড় প্রাসাদ এবং পাহাড় কেটে দৃষ্টিনন্দন দালানকোঠা নির্মাণ করত। শিল্প ও নকশায় তারা ছিল অসামান্য, পাথর দিয়ে তৈরি করত সুন্দর প্রাসাদ। কিন্তু চরম প্রাচুর্য লাভ করে তারা মহান সৃষ্টিকর্তাকে ভুলে গেল। তারা শুরু করল পাথর পূজা, মূর্তি পূজা ও দেব-দেবীর পূজা। তাদের সমাজে অন্যায়, অপরাধ ও নির্যাতন সীমাহীনভাবে বৃদ্ধি পেল।

আদ জাতি ধ্বংস হওয়ার প্রায় ৫০০ বছর পর, আল্লাহ এই পথভ্রষ্ট সামুদ জাতিকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে তাদেরই মধ্য থেকে একজন নবী হজরত সালেহ (আ.)-কে মনোনীত করে পাঠালেন। আল্লাহ তাআলা আল-কোরআনে ইরশাদ করেন, ‘আমি সামুদ সম্প্রদায়ের নিকট তাদের ভাই সালিহকে পাঠিয়েছিলাম এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর। কিন্তু তারা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে বিতর্কে লিপ্ত হলো।’ (সুরা নামল: ৪৫)

আরও পড়ুনঃ  রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথিদের হামলায় পাইলটসহ সৌদির ৩ নাগরিক নিহত

হজরত সালেহ (আ.) সামুদ জাতিকে আল্লাহর প্রতি ইমান আনার জন্য বারবার আহ্বান জানালেও তারা মানতে অস্বীকার করল। অল্প কিছু সংখ্যক লোক ইমান আনলেও বেশির ভাগই তাঁর কথা শুনল না।

অলৌকিক উট ও জাতির চরম ঔদ্ধত্য

বারংবার দাওয়াতের জবাবে সামুদ জাতি ঔদ্ধত্য দেখাল এবং হজরত সালেহ (আ.)-কে একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করল। তারা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলল, যদি তিনি সত্য নবী হন, তবে একটি অলৌকিক নিদর্শন (মোজেজা) দেখান। তাদের চাহিদা ছিল: ওই পাহাড় থেকে একটি গর্ভবতী উট বেরিয়ে আসবে, তাৎক্ষণিক বাচ্চা প্রসব করবে এবং রীতিমতো দুধ পান করাবে। আল্লাহর নির্দেশে হজরত সালেহ (আ.) তাদের কাছ থেকে ইমানের অঙ্গীকার আদায় করলেন এবং আল্লাহর দরবারে দোয়া করলেন। সঙ্গে সঙ্গেই পাহাড়ের ভেতর থেকে এক অতি সুন্দর উট বেরিয়ে এলো এবং একটি বাচ্চা প্রসব করল। এই অলৌকিক দৃশ্য দেখেও সামুদ জাতির অনেকেই তাদের ওয়াদা ভঙ্গ করল এবং ইমান আনল না।

সামুদ জাতির পানি পানের জন্য একটি কূপ ছিল, যেখান থেকে সাতটি গোত্রের সবাই পানি পান করত। অলৌকিক সেই উটটি এক দিন পুরো কূপের পানি পান করে শেষ করে দিত। আবার অন্য দিন সবাই উটটি দোহন করে মহা তৃপ্তিতে দুধ পান করত, কিন্তু উটের বাঁটের দুধ সামান্যও কমত না। হজরত সালেহ (আ.) সতর্ক করে দিলেন যে, এটি আল্লাহর বিশেষ উট, কেউ যেন একে কোনোভাবে বিরক্ত না করে, অন্যথায় কঠিন শাস্তি নেমে আসবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর হে আমার কওম, এটা হচ্ছে আল্লাহর উষ্ট্রী যা তোমাদের জন্য নিদর্শন। অতএব ওকে ছেড়ে দাও যেন আল্লাহর জমিনে চরে খায়, আর ওকে খারাপ উদ্দেশে স্পর্শ কর না, অন্যথায় তোমাদেরকে আকস্মিক শাস্তি এসে পাকড়াও করতে পারে।’ (সুরা হুদ: ৬৪)

ধ্বংসের চূড়ান্ত পরিণতি

আরও পড়ুনঃ  কুরআন শিক্ষা ও চর্চা বাড়াতে কাজ করবে সরকার: রাষ্ট্রপতি

এরপরও সামুদ জাতির ঔদ্ধত্য থামল না। একসময় কেদার ও মেসদা নামের দুই দুষ্কৃতকারী উটটিকে হত্যা করার ফন্দি আঁটল। কওমের অনেক শরাবপায়ী তাদের এই কাজে উৎসাহ দিল। উটটি যখন কূপের ধারে পানি পান করতে আসে, তখন কেদার তীর নিক্ষেপ করে তাকে আহত করে। মেসদা পেছন দিক থেকে তরবারি দিয়ে পায়ে আঘাত করে উটটিকে হত্যা করে ফেলল। এই অন্যায় কাজটিকে উপস্থিত জনতা নীরব সম্মতি দিল।

উট হত্যার খবর শুনে হজরত সালেহ (আ.) এসে কওমের লোকদের বললেন, ‘তোমরা এখন আর মাত্র তিনটি দিন দুনিয়াবি আরাম-আয়েশ করে নিতে পার। তোমাদের হায়াত আর মাত্র তিন দিন আছে।’ তিনি ধ্বংসের সুস্পষ্ট পূর্ব-নিদর্শন বর্ণনা করলেন: প্রথম দিন তাদের চেহারা সবুজ, দ্বিতীয় দিন লাল এবং তৃতীয় দিন ঘোর কালো রং ধারণ করবে।

এই নিদর্শনগুলো যখন একে একে প্রকাশ পেল, তখন উট হত্যাকারীরা ভীত হয়ে হজরত সালেহ (আ.)-কে হত্যা করার উদ্দেশ্যে তাঁর ঘরে যাত্রা করল। কিন্তু ইতিমধ্যেই তাদের ওপর আল্লাহর গজব এসে পড়ল। আল্লাহর নির্দেশে হজরত জিবরাইল (আ.) এমন এক প্রচণ্ড হুংকার দিলেন, যার বিকট শব্দে সামুদ জাতির সব লোক অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল এবং চিরদিনের জন্য মাটির সঙ্গে বিলীন হয়ে গেল। তাদের কোনো চিহ্নই অবশিষ্ট রইল না। আল্লাহ তাআলা কোরআনে বলেছেন, ‘এইতো তাদের ঘরবাড়ি সীমা লঙ্ঘন হেতু যা জনশূন্য অবস্থায় পড়ে আছে; এতে জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে।’ (সুরা নামল: ৫২)

সামুদ জাতির ধ্বংসের এই কাহিনি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, ক্ষমতা, সম্পদ বা প্রযুক্তির দম্ভে আল্লাহকে ভুলে গেলে এবং সমাজে জুলুম-অত্যাচার বাড়ালে আল্লাহর চূড়ান্ত শাস্তি অনিবার্য। বর্তমান সমাজে যারা অন্যায় ও দুর্নীতিতে ডুবে আছে, সামুদ জাতির পরিণতি থেকে তাদের শিক্ষা নেওয়া অপরিহার্য।

লেখক: আলেম, গবেষক।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া শিক্ষক নিয়োগ প্রমাণিত, বহাল তবিয়তে অধ্যক্ষ আমজাদ

সামুদ জাতির ধ্বংসের কারণ ও আমাদের শিক্ষা

সময়: ১২:১০:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫

 

সামুদ জাতির ধ্বংসের কারণ ও আমাদের শিক্ষা

মাওলানা সাইফুল ইসলাম সালেহী 

বর্তমান সমাজে অন্যায়, অপরাধ, অত্যাচার এবং জুলুম মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়েছে। মানবিকতা, মায়া-মমতা এবং ভালোবাসা যেন আজ বিলুপ্তপ্রায়। মানুষে মানুষে হিংসা, বিদ্বেষ এবং একে অপরের ক্ষতি করার প্রবণতা এখন স্বাভাবিক চিত্রে পরিণত। সুদ, ঘুষ, দুর্নীতি ও সম্পদ আত্মসাতের মাধ্যমে যারা বিত্তশালী হচ্ছেন, তারাই সমাজকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সমাজের দুর্বল ও নিরীহ মানুষজন হচ্ছেন সবচেয়ে বেশি জুলুমের শিকার। মানুষ ভুলে গেছে পরকাল, আল্লাহর ভয় এবং জাহান্নামের কঠিন আগুনকে।

যদি মানুষের হৃদয়ে আল্লাহর ভয় থাকত, তবে এসব অন্যায়, অপরাধ ও জুলুম কখনো বাড়ত না। আল্লাহ তাআলা ইতিমধ্যেই করোনাভাইরাসের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয় দিয়ে মানবজাতিকে সতর্ক করেছেন, কিন্তু তবুও মানুষ শিক্ষা নিচ্ছে না। ইতিহাসের পাতায় এমন অনেক জাতি আছে, যাদেরকে আল্লাহ তাদের কৃত অন্যায় ও সীমালঙ্ঘনের কারণে ধ্বংস করে দিয়েছেন। মহাগ্রন্থ আল-কোরআনে সেই সব ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতির বিবরণ এসেছে, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিল সামুদ জাতি।

প্রাচুর্য থেকে পাপে নিমজ্জিত সামুদ

একসময় পৃথিবীতে সামুদ জাতি ছিল অত্যন্ত অর্থশালী ও শক্তিশালী। তাদের সুখ-শান্তি বা প্রাচুর্যের কোনো কমতি ছিল না। তারা বড় বড় প্রাসাদ এবং পাহাড় কেটে দৃষ্টিনন্দন দালানকোঠা নির্মাণ করত। শিল্প ও নকশায় তারা ছিল অসামান্য, পাথর দিয়ে তৈরি করত সুন্দর প্রাসাদ। কিন্তু চরম প্রাচুর্য লাভ করে তারা মহান সৃষ্টিকর্তাকে ভুলে গেল। তারা শুরু করল পাথর পূজা, মূর্তি পূজা ও দেব-দেবীর পূজা। তাদের সমাজে অন্যায়, অপরাধ ও নির্যাতন সীমাহীনভাবে বৃদ্ধি পেল।

আদ জাতি ধ্বংস হওয়ার প্রায় ৫০০ বছর পর, আল্লাহ এই পথভ্রষ্ট সামুদ জাতিকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে তাদেরই মধ্য থেকে একজন নবী হজরত সালেহ (আ.)-কে মনোনীত করে পাঠালেন। আল্লাহ তাআলা আল-কোরআনে ইরশাদ করেন, ‘আমি সামুদ সম্প্রদায়ের নিকট তাদের ভাই সালিহকে পাঠিয়েছিলাম এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর। কিন্তু তারা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে বিতর্কে লিপ্ত হলো।’ (সুরা নামল: ৪৫)

আরও পড়ুনঃ  কুরআন শিক্ষা ও চর্চা বাড়াতে কাজ করবে সরকার: রাষ্ট্রপতি

হজরত সালেহ (আ.) সামুদ জাতিকে আল্লাহর প্রতি ইমান আনার জন্য বারবার আহ্বান জানালেও তারা মানতে অস্বীকার করল। অল্প কিছু সংখ্যক লোক ইমান আনলেও বেশির ভাগই তাঁর কথা শুনল না।

অলৌকিক উট ও জাতির চরম ঔদ্ধত্য

বারংবার দাওয়াতের জবাবে সামুদ জাতি ঔদ্ধত্য দেখাল এবং হজরত সালেহ (আ.)-কে একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করল। তারা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলল, যদি তিনি সত্য নবী হন, তবে একটি অলৌকিক নিদর্শন (মোজেজা) দেখান। তাদের চাহিদা ছিল: ওই পাহাড় থেকে একটি গর্ভবতী উট বেরিয়ে আসবে, তাৎক্ষণিক বাচ্চা প্রসব করবে এবং রীতিমতো দুধ পান করাবে। আল্লাহর নির্দেশে হজরত সালেহ (আ.) তাদের কাছ থেকে ইমানের অঙ্গীকার আদায় করলেন এবং আল্লাহর দরবারে দোয়া করলেন। সঙ্গে সঙ্গেই পাহাড়ের ভেতর থেকে এক অতি সুন্দর উট বেরিয়ে এলো এবং একটি বাচ্চা প্রসব করল। এই অলৌকিক দৃশ্য দেখেও সামুদ জাতির অনেকেই তাদের ওয়াদা ভঙ্গ করল এবং ইমান আনল না।

সামুদ জাতির পানি পানের জন্য একটি কূপ ছিল, যেখান থেকে সাতটি গোত্রের সবাই পানি পান করত। অলৌকিক সেই উটটি এক দিন পুরো কূপের পানি পান করে শেষ করে দিত। আবার অন্য দিন সবাই উটটি দোহন করে মহা তৃপ্তিতে দুধ পান করত, কিন্তু উটের বাঁটের দুধ সামান্যও কমত না। হজরত সালেহ (আ.) সতর্ক করে দিলেন যে, এটি আল্লাহর বিশেষ উট, কেউ যেন একে কোনোভাবে বিরক্ত না করে, অন্যথায় কঠিন শাস্তি নেমে আসবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর হে আমার কওম, এটা হচ্ছে আল্লাহর উষ্ট্রী যা তোমাদের জন্য নিদর্শন। অতএব ওকে ছেড়ে দাও যেন আল্লাহর জমিনে চরে খায়, আর ওকে খারাপ উদ্দেশে স্পর্শ কর না, অন্যথায় তোমাদেরকে আকস্মিক শাস্তি এসে পাকড়াও করতে পারে।’ (সুরা হুদ: ৬৪)

ধ্বংসের চূড়ান্ত পরিণতি

আরও পড়ুনঃ  আমি তোমার জম মালাকুল মউত আজরাইল

এরপরও সামুদ জাতির ঔদ্ধত্য থামল না। একসময় কেদার ও মেসদা নামের দুই দুষ্কৃতকারী উটটিকে হত্যা করার ফন্দি আঁটল। কওমের অনেক শরাবপায়ী তাদের এই কাজে উৎসাহ দিল। উটটি যখন কূপের ধারে পানি পান করতে আসে, তখন কেদার তীর নিক্ষেপ করে তাকে আহত করে। মেসদা পেছন দিক থেকে তরবারি দিয়ে পায়ে আঘাত করে উটটিকে হত্যা করে ফেলল। এই অন্যায় কাজটিকে উপস্থিত জনতা নীরব সম্মতি দিল।

উট হত্যার খবর শুনে হজরত সালেহ (আ.) এসে কওমের লোকদের বললেন, ‘তোমরা এখন আর মাত্র তিনটি দিন দুনিয়াবি আরাম-আয়েশ করে নিতে পার। তোমাদের হায়াত আর মাত্র তিন দিন আছে।’ তিনি ধ্বংসের সুস্পষ্ট পূর্ব-নিদর্শন বর্ণনা করলেন: প্রথম দিন তাদের চেহারা সবুজ, দ্বিতীয় দিন লাল এবং তৃতীয় দিন ঘোর কালো রং ধারণ করবে।

এই নিদর্শনগুলো যখন একে একে প্রকাশ পেল, তখন উট হত্যাকারীরা ভীত হয়ে হজরত সালেহ (আ.)-কে হত্যা করার উদ্দেশ্যে তাঁর ঘরে যাত্রা করল। কিন্তু ইতিমধ্যেই তাদের ওপর আল্লাহর গজব এসে পড়ল। আল্লাহর নির্দেশে হজরত জিবরাইল (আ.) এমন এক প্রচণ্ড হুংকার দিলেন, যার বিকট শব্দে সামুদ জাতির সব লোক অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল এবং চিরদিনের জন্য মাটির সঙ্গে বিলীন হয়ে গেল। তাদের কোনো চিহ্নই অবশিষ্ট রইল না। আল্লাহ তাআলা কোরআনে বলেছেন, ‘এইতো তাদের ঘরবাড়ি সীমা লঙ্ঘন হেতু যা জনশূন্য অবস্থায় পড়ে আছে; এতে জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে।’ (সুরা নামল: ৫২)

সামুদ জাতির ধ্বংসের এই কাহিনি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, ক্ষমতা, সম্পদ বা প্রযুক্তির দম্ভে আল্লাহকে ভুলে গেলে এবং সমাজে জুলুম-অত্যাচার বাড়ালে আল্লাহর চূড়ান্ত শাস্তি অনিবার্য। বর্তমান সমাজে যারা অন্যায় ও দুর্নীতিতে ডুবে আছে, সামুদ জাতির পরিণতি থেকে তাদের শিক্ষা নেওয়া অপরিহার্য।

লেখক: আলেম, গবেষক।