Dhaka ০৯:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
নরসিংদীতে জনস্বার্থে মোবাইল কোর্ট, ৪ মোটরসাইকেল আরোহীকে জরিমানা সরিষাবাড়ীতে ২৭৮.৩০ মিটার দীর্ঘ গার্ডার সেতুর নির্মাণকাজের শুভ উদ্বোধন হারিয়ে যাওয়া সাইকেল উদ্ধার করে মালিকের কাছে ফিরিয়ে দিলেন আনসার সদস্য বিশ্ব ডাক দিবসে রচনা প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত দিনাজপুর ‎বীরগঞ্জের সাহাডবী সর্বজনীন দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শনে করেন বিএনপি নেতৃবৃন্দ বুড়িচংয়ে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর পেটে লাথি দিয়ে হত্যার অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে পবিত্র জমাদিউল আউয়াল মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত! নগরীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন সিএমপি কমিশনার সম্প্রীতি-সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়েই আমরা এ সমাজে বসবাস করি: ফজলুল হক মিলন এমপি প্রধানমন্ত্রীর আগমনে রাজশাহী আরও দৃষ্টিনন্দন
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

সিরাজদীখানে কোয়েল খামারে রহস্যজনক রোগ, একদিনেই সাড়ে ৬ হাজার পাখির মৃত্যু

  • Reporter Name
  • সময়: ১২:২৩:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৬৯ Time View

 

শহিদ শেখ পাখি, মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি :


সচ্ছলতার স্বপ্ন নিয়ে কোয়েল পাখির খামার গড়ে তুলেছিলেন সুফিয়ান। চাকরির পেছনে না ছুটে নিজ উদ্যোগে প্রথমে ব্রয়লার ও লেয়ার মুরগির খামার করলেও আশানুরূপ লাভ না হওয়ায় তিনি কোয়েল পালন শুরু করেন। তবে আকস্মিকভাবে অজ্ঞাত রোগে তার খামারে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলা-এর বালুচর ইউনিয়ন-এর খাসকান্দি মাধ্যচর গ্রাম-এ। গত একদিনের ব্যবধানে সুফিয়ানের খামারে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার কোয়েল পাখি মারা গেছে। এতে আনুমানিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৬ লাখ টাকা।

ভুক্তভোগী মরিয়ম পোল্ট্রি এন্ড কোয়েল পাখির খামারের স্বত্বাধিকারী সুফিয়ান স্থানীয় চিনি মিয়ার ছেলে। খামারের ভেতরে এখন কোয়েল পাখির মৃতদেহের স্তুপ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

সুফিয়ান জানান, তিনি অর্থনৈতিকভাবে অস্বচ্ছল। এনজিওসহ বিভিন্ন উৎস থেকে ঋণ নিয়ে কয়েক মাস আগে প্রায় ৮ হাজার কোয়েল বাচ্চা কিনে খামার শুরু করেন। কিছুদিনের মধ্যেই পাখি ডিম দেওয়া শুরু করে। প্রতিদিন ডিম বিক্রি করে তার আয় হতো প্রায় ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা। তিনি, তার পরিবার এবং আরও তিনজন শ্রমিক এই খামারে কাজ করতেন।

হঠাৎ একদিনের মধ্যেই খামারে বিপর্যয় নেমে আসে। পাখিগুলো ঝিমিয়ে পড়তে থাকে এবং প্রতি মিনিটে শত শত পাখি মারা যেতে থাকে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ প্রয়োগ করেও পাখিগুলোকে রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। যেগুলো এখনো বেঁচে আছে সেগুলোর অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানান তিনি।

সুফিয়ান আরও বলেন, খামার গড়ে তুলতে তার বিনিয়োগ প্রায় ৯ লাখ টাকা, যার বেশিরভাগই ঋণের। ডিম বিক্রির আয় দিয়ে সেই ঋণ পরিশোধের পরিকল্পনা থাকলেও হঠাৎ এই ক্ষতিতে তিনি চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। এখন খামারের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন এই উদ্যোক্তা।

এ বিষয়ে বালুচর ইউনিয়ন পরিষদ ২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলেক চান সজীব বলেন,আসলে বিষয়টা জানার পর দারুণ ভাবে মর্মাহত হয়েছি কারণ এই একটা খামারের উপর নির্ভর ছিলো তার গোটা পরিবার।

এ বিষয়ে সিরাজদীখান উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শবনম সুলতানা বলেন, প্রাথমিকভাবে বলতে পারবোনা কেন বা কি কারণে মারা যাচ্ছে।সরেজমিনে গয়ে আইডেন্টিটি ফাই করে তার পর বলা সম্ভব কি কারণ বা কি রোগে আক্রান্ত হয়েছে।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

নরসিংদীতে জনস্বার্থে মোবাইল কোর্ট, ৪ মোটরসাইকেল আরোহীকে জরিমানা

সিরাজদীখানে কোয়েল খামারে রহস্যজনক রোগ, একদিনেই সাড়ে ৬ হাজার পাখির মৃত্যু

সময়: ১২:২৩:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

শহিদ শেখ পাখি, মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি :


সচ্ছলতার স্বপ্ন নিয়ে কোয়েল পাখির খামার গড়ে তুলেছিলেন সুফিয়ান। চাকরির পেছনে না ছুটে নিজ উদ্যোগে প্রথমে ব্রয়লার ও লেয়ার মুরগির খামার করলেও আশানুরূপ লাভ না হওয়ায় তিনি কোয়েল পালন শুরু করেন। তবে আকস্মিকভাবে অজ্ঞাত রোগে তার খামারে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলা-এর বালুচর ইউনিয়ন-এর খাসকান্দি মাধ্যচর গ্রাম-এ। গত একদিনের ব্যবধানে সুফিয়ানের খামারে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার কোয়েল পাখি মারা গেছে। এতে আনুমানিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৬ লাখ টাকা।

ভুক্তভোগী মরিয়ম পোল্ট্রি এন্ড কোয়েল পাখির খামারের স্বত্বাধিকারী সুফিয়ান স্থানীয় চিনি মিয়ার ছেলে। খামারের ভেতরে এখন কোয়েল পাখির মৃতদেহের স্তুপ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

সুফিয়ান জানান, তিনি অর্থনৈতিকভাবে অস্বচ্ছল। এনজিওসহ বিভিন্ন উৎস থেকে ঋণ নিয়ে কয়েক মাস আগে প্রায় ৮ হাজার কোয়েল বাচ্চা কিনে খামার শুরু করেন। কিছুদিনের মধ্যেই পাখি ডিম দেওয়া শুরু করে। প্রতিদিন ডিম বিক্রি করে তার আয় হতো প্রায় ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা। তিনি, তার পরিবার এবং আরও তিনজন শ্রমিক এই খামারে কাজ করতেন।

হঠাৎ একদিনের মধ্যেই খামারে বিপর্যয় নেমে আসে। পাখিগুলো ঝিমিয়ে পড়তে থাকে এবং প্রতি মিনিটে শত শত পাখি মারা যেতে থাকে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ প্রয়োগ করেও পাখিগুলোকে রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। যেগুলো এখনো বেঁচে আছে সেগুলোর অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানান তিনি।

সুফিয়ান আরও বলেন, খামার গড়ে তুলতে তার বিনিয়োগ প্রায় ৯ লাখ টাকা, যার বেশিরভাগই ঋণের। ডিম বিক্রির আয় দিয়ে সেই ঋণ পরিশোধের পরিকল্পনা থাকলেও হঠাৎ এই ক্ষতিতে তিনি চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। এখন খামারের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন এই উদ্যোক্তা।

এ বিষয়ে বালুচর ইউনিয়ন পরিষদ ২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলেক চান সজীব বলেন,আসলে বিষয়টা জানার পর দারুণ ভাবে মর্মাহত হয়েছি কারণ এই একটা খামারের উপর নির্ভর ছিলো তার গোটা পরিবার।

এ বিষয়ে সিরাজদীখান উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শবনম সুলতানা বলেন, প্রাথমিকভাবে বলতে পারবোনা কেন বা কি কারণে মারা যাচ্ছে।সরেজমিনে গয়ে আইডেন্টিটি ফাই করে তার পর বলা সম্ভব কি কারণ বা কি রোগে আক্রান্ত হয়েছে।