Dhaka ০৮:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
চট্টগ্রামে ১০ লাখ গাছ রোপণের ঘোষণা মেয়র শাহাদাতের মুখোশের আড়ালে লুকিয়ে থাকা মাদকসেবী ও সমাজের ভণ্ড চেহারা উন্মোচন হোক ঝালকাঠির রাজাপুরে আলহাজ্ব লালমোন হামিদ মহিলা কলেজের সড়ক বেহাল, সংস্কারের দাবি ডুমুরিয়ায় সরকারি জায়গার মাটি কাটার অপরাধে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ফেসবুক পোস্টের জেরে মামলা, এখন সাংবাদিক পরিচয়ে প্রতিবাদ মানববন্ধন কর্মসূচি মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে বুড়িচং উপজেলা বিএনপির সংবাদ সম্মেলন তাহিরপুরে ৮ বছরের শিশুকে পালাক্রমে ধর্ষণ পদ্মায় বাসডুবির ঘটনায় মামলা, চালক-সহকারীসহ গ্রেপ্তার ৩ পটপরিবর্তনেও অক্ষত আওয়ামী সিন্ডিকেট: ডেমরায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে নিখিল-রেজার ঘনিষ্ঠ খন্দকার পরিবার ডিমলায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সচেতনতামূলক র‌্যালি অনুষ্ঠিত
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

এক মঞ্চে আ.লীগ নেতা, ওসি ও বিএনপি নেতা!

 

মো ইপাজ খাঁ মাধবপুর(হবিগঞ্জ)প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের মাধবপুরে চৌমুহনী খুর্শিদ হাই স্কুল এন্ড কলেজে আয়োজিত মাদকবিরোধী সচেতনতা কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।গত রবিবার(১৬ নভেম্বর)প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের ক্রিয়া ও যুব বিষয়ক সম্পাদক মোহন মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শহীদুল্লাহ। একই মঞ্চে ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান সোহাগসহ বিএনপির আরও কয়েকজন বিএনপি নেতা। ক্ষমতাসীন দল,প্রায় বিরোধী দল ও পুলিশ প্রশাসনের প্রতিনিধিদের একই মঞ্চে উপস্থিতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিস্তর আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

 

অধ্যক্ষ মোহন মিয়া সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মাহবুব আলীর ও আওয়ামী লীগ নেতা রহম আলীর ঘনিষ্ঠ হিসেবেও এলাকায় পরিচিত। রাজনৈতিক পরিচয়সহ তার পুরোনো ছবি আবারও ভাইরাল হওয়ায় নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় একটি অংশের অভিযোগ—তিনি অতীতে আওয়ামী লীগের প্রতি এতটাই অনুগত ছিলেন যে স্বতন্ত্র এমপি ব্যারিস্টার সাইদুল হক সুমন তার কলেজে গেলে নাকি যথাযথ অভ্যর্থনা দেওয়া হয়নি এবং এমপি হয়েও তিনি প্রটোকল পাননি। পাশাপাশি কলেজ পরিচালনা নিয়ে অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগও মাঝে মাঝে ওঠে বলে দাবি করছে আরেকটি মহল।

 

তবে সমর্থকদের দাবি, মোহন মিয়া ছিলেন উপজেলার একমাত্র নেতা যিনি আগে প্রকাশ্যে দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন এবং বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছেন। এদিকে এক মঞ্চে ওসি, বিএনপি নেতা ও আওয়ামী লীগ নেতার উপস্থিতি নিয়ে জনমনে ভিন্নমুখী প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ মনে করছেন মাদকবিরোধী কর্মসূচিতে রাজনীতি প্রধান বিষয় নয়, আবার কেউ প্রশ্ন তুলছেন—প্রশাসনের নিরপেক্ষতা কি বজায় থাকল?

 

বিএনপির কয়েকজন নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা এই বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
কয়েকজন জানিয়েছেন,অতীতে আওয়ামী লীগ তাকে ব্যবহার করেছে।বর্তমানে বিএনপি নেতারা তার কাছ থেকে সুবিধা নিচ্ছেন। ঘুরেফিরে ঘটনা একই।

আরও পড়ুনঃ  হঠাৎ তিনদিন হযরত মুহাম্মদ (সা.) মদিনাতে না থাকার অশ্রুশিক্ত ঘটনা

 

এদিকে সমালোচনা ও আলোচনা চলমান থাকলেও অধ্যক্ষ মোহন মিয়া নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি বলেন, “পরিবেশ-পরিস্থিতির কারণে একসময় দল করতাম। আমি কোনো অপরাধ বা বেআইনি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নই। রাজনীতি করা খারাপ কিছু না। আওয়ামী লীগ তো নিষিদ্ধ সংগঠন নয়। একজন শিক্ষক হিসেবে আমি আমার দায়িত্ব পালন করছি।”

 

চৌমুহনী খুর্শিদ হাই স্কুল এন্ড কলেজে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচি এবং একই মঞ্চে আ.লীগ নেতা, ওসি ও বিএনপি নেতার উপস্থিতি নিয়ে মাধবপুরজুড়ে এখনো ব্যাপক আলোচনা চলছে।

ছবি: একই মঞ্চে আওয়ামী লীগ নেতা ও অধ্যক্ষ মোহন মিয়া, ওসি মোঃ শহীদুল্লাহ এবং বিএনপি নেতা মাহবুবুর রহমান সোহাগ — পাশে ভাইরাল হওয়া ফেসবুক স্ক্রিনশট।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

চট্টগ্রামে ১০ লাখ গাছ রোপণের ঘোষণা মেয়র শাহাদাতের

এক মঞ্চে আ.লীগ নেতা, ওসি ও বিএনপি নেতা!

সময়: ০৭:৪০:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫

 

মো ইপাজ খাঁ মাধবপুর(হবিগঞ্জ)প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের মাধবপুরে চৌমুহনী খুর্শিদ হাই স্কুল এন্ড কলেজে আয়োজিত মাদকবিরোধী সচেতনতা কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।গত রবিবার(১৬ নভেম্বর)প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের ক্রিয়া ও যুব বিষয়ক সম্পাদক মোহন মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শহীদুল্লাহ। একই মঞ্চে ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান সোহাগসহ বিএনপির আরও কয়েকজন বিএনপি নেতা। ক্ষমতাসীন দল,প্রায় বিরোধী দল ও পুলিশ প্রশাসনের প্রতিনিধিদের একই মঞ্চে উপস্থিতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিস্তর আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

 

অধ্যক্ষ মোহন মিয়া সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মাহবুব আলীর ও আওয়ামী লীগ নেতা রহম আলীর ঘনিষ্ঠ হিসেবেও এলাকায় পরিচিত। রাজনৈতিক পরিচয়সহ তার পুরোনো ছবি আবারও ভাইরাল হওয়ায় নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় একটি অংশের অভিযোগ—তিনি অতীতে আওয়ামী লীগের প্রতি এতটাই অনুগত ছিলেন যে স্বতন্ত্র এমপি ব্যারিস্টার সাইদুল হক সুমন তার কলেজে গেলে নাকি যথাযথ অভ্যর্থনা দেওয়া হয়নি এবং এমপি হয়েও তিনি প্রটোকল পাননি। পাশাপাশি কলেজ পরিচালনা নিয়ে অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগও মাঝে মাঝে ওঠে বলে দাবি করছে আরেকটি মহল।

 

তবে সমর্থকদের দাবি, মোহন মিয়া ছিলেন উপজেলার একমাত্র নেতা যিনি আগে প্রকাশ্যে দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন এবং বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছেন। এদিকে এক মঞ্চে ওসি, বিএনপি নেতা ও আওয়ামী লীগ নেতার উপস্থিতি নিয়ে জনমনে ভিন্নমুখী প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ মনে করছেন মাদকবিরোধী কর্মসূচিতে রাজনীতি প্রধান বিষয় নয়, আবার কেউ প্রশ্ন তুলছেন—প্রশাসনের নিরপেক্ষতা কি বজায় থাকল?

 

বিএনপির কয়েকজন নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা এই বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
কয়েকজন জানিয়েছেন,অতীতে আওয়ামী লীগ তাকে ব্যবহার করেছে।বর্তমানে বিএনপি নেতারা তার কাছ থেকে সুবিধা নিচ্ছেন। ঘুরেফিরে ঘটনা একই।

আরও পড়ুনঃ  ২,২০০ শয্যার বিপরীতে ভর্তি সাড়ে ৩ হাজার রোগী, জনবল ও যন্ত্রপাতির ঘাটতিতে সেবায় চাপ

 

এদিকে সমালোচনা ও আলোচনা চলমান থাকলেও অধ্যক্ষ মোহন মিয়া নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি বলেন, “পরিবেশ-পরিস্থিতির কারণে একসময় দল করতাম। আমি কোনো অপরাধ বা বেআইনি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নই। রাজনীতি করা খারাপ কিছু না। আওয়ামী লীগ তো নিষিদ্ধ সংগঠন নয়। একজন শিক্ষক হিসেবে আমি আমার দায়িত্ব পালন করছি।”

 

চৌমুহনী খুর্শিদ হাই স্কুল এন্ড কলেজে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচি এবং একই মঞ্চে আ.লীগ নেতা, ওসি ও বিএনপি নেতার উপস্থিতি নিয়ে মাধবপুরজুড়ে এখনো ব্যাপক আলোচনা চলছে।

ছবি: একই মঞ্চে আওয়ামী লীগ নেতা ও অধ্যক্ষ মোহন মিয়া, ওসি মোঃ শহীদুল্লাহ এবং বিএনপি নেতা মাহবুবুর রহমান সোহাগ — পাশে ভাইরাল হওয়া ফেসবুক স্ক্রিনশট।