
মোঃ শহিদুল ইসলাম, বিশেষ সংবাদদাতা:
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী স্বপন বলেছেন, “আপনারা স্থায়ী সরকার, আমরা নির্বাচিত হয়ে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য দায়িত্ব পালন করি। রাষ্ট্রের মালিক জনগণ; আমরা কেবল তাদের সেবক।” অতীত সরকারের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
বুধবার (৪ মার্চ) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ সম্মেলন কক্ষে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন। উপস্থিত ছিলেন গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুল জলিল, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
মন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য জনগণের ম্যান্ডেটের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে রাষ্ট্র পরিচালনা করা। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন—জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে সরকার পরিচালনা করতে হবে। নির্বাহী বিভাগকে দলীয়করণ বা অপব্যবহার থেকে বিরত রেখে একটি শক্তিশালী প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি সরকারের রয়েছে।
নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পাইলট প্রকল্প শুরু হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। পর্যায়ক্রমে দেশের ৪ কোটি ১০ লাখ পরিবারের মধ্যে অগ্রাধিকারভিত্তিতে কার্ড বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। ঈদের আগেই এ কার্যক্রমের দৃশ্যমান অগ্রগতি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ইউনিটগুলোকে আগাম প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানান।
কৃষক কার্ড কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষিযন্ত্র ও কৃষিঋণ সরাসরি কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে মধ্যস্বত্বভোগী ও দুর্নীতির সুযোগ না থাকে। কৃষিঋণের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ২৫ শতাংশ সুদ মওকুফের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পথেও রয়েছে বলে জানান তিনি।
এছাড়া মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের জন্য ভাতা প্রদান কর্মসূচি চালুর কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। এ ক্ষেত্রেও কার্ডভিত্তিক স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে বলে জানান তিনি।
এর আগে মন্ত্রী চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। সভার আয়োজন করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন।
বক্তব্যে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করাই সরকারের অঙ্গীকার। জনগণকে ক্ষমতায়িত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। তিনি উল্লেখ করেন, শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান উন্নয়নের অংশ হিসেবে প্রেসক্লাবের নামফলক স্থাপন করেছিলেন। সেটি পুনঃস্থাপনের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় প্রেসক্লাব সভাপতি হাসান হাফিজ, বিএফইউজে’র মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বেতার ও বিটিভির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
Reporter Name 


















