Dhaka ১২:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
বীরগঞ্জে মাদক সেবনের অপরাধে ৪ জনের কারাদণ্ড, জেলহাজতে প্রেরণ মণিরামপুরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় কেশবপুরের যুবক নিহত, গুরুতর আহত ২ কালীগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: এক লাখ টাকা জরিমানা ও ১ মাসের কারাদণ্ড দিনাজপুর সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ এর বাছাই পর্ব অনুষ্ঠিত শাহমাহমুদপুরে বিশ্ব খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়নে ইউএনও’র সরেজমিন পরিদর্শন নরসিংদীর শিবপুরে কলেজের বাস ও পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষ ভাঙ্গুড়ায় দুর্নীতি বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত ঝিকরগাছায় স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা ও নানা অপকর্মের অভিযোগ: গ্রন্থাগারিক সবুজের বহিষ্কার দাবি উখিয়ায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে ৫০ কেজি গাঁজা জব্দ, আটক ১ লালপুর গ্রামের রাস্তায় জলবদ্ধতা নিরসনে মানববন্ধন
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

সাবধান! কামরাঙ্গীরচরের ডলফিন হাসপাতালের সেবার নামে চরম অবহেলা ও অদক্ষতা

  • Reporter Name
  • সময়: ০৯:৪৭:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ১১ Time View

ফারজানা ইসলাম: ভূক্তভোগী:

আমি আমার ১৫ মাসের অসুস্থ শিশুকে নিয়ে কামরাঙ্গীরচরের ‘ডলফিন হাসপাতাল অ্যান্ড ইনফার্টিলিটি সেন্টার’-এ যে ভয়াবহ ও অমানবিক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছি, তা সচেতন অভিভাবকদের সতর্ক করার জন্য শেয়ার করছি।
​ঘটনার প্রেক্ষাপট:
শুরুতেই তাদের অদক্ষতার চরম নিদর্শন পাওয়া যায়। বাচ্চার হাতে ক্যানোলা (Cannula) স্থাপন করতে তারা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয় এবং নিরুপায় হয়ে আমাদের রিলিজ দিয়ে দেয়। আমরা সারারাত হন্যে হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে একটি সিটের জন্য ছোটাছুটি করি, কিন্তু কোথাও সিট ম্যানেজ করতে পারিনি। শেষমেশ যে ডাক্তারকে দেখিয়েছিলাম, তাকে ফোন করলে তিনি পাশের ডলফিন হাসপাতালেই ইমার্জেন্সিতে ভর্তি করার পরামর্শ দেন। এরপর আমরা অনেক কষ্টে পিজি (PG) হাসপাতাল থেকে বাচ্চার ক্যানোলা করিয়ে এনে পুনরায় ডলফিন হাসপাতালে ভর্তি করাই। কিন্তু সেখান থেকেই শুরু হয় তাদের চরম অবহেলা ও অমানবিক আচরণ।


​আমাদের তিক্ত অভিজ্ঞতাগুলো নিচে তুলে ধরছি:
​১. রাতভর বাচ্চার সাথে নিষ্ঠুরতা: ভর্তি হওয়ার পর রাত ১২টার দিকে ক্যানোলাটি নষ্ট হয়ে যায়। তারা এটি খুলে না ফেলে উল্টো রাত ১২টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত দীর্ঘ ৯ ঘণ্টা বাচ্চার হাতেই আটকে রাখে! এই সময়ের মধ্যে তারা বারবার ক্যানোলা ঠিক করার নামে জোরজবরদস্তি করেছে। বাচ্চার হাত ফুলে নীল হয়ে গিয়েছিল এবং সে ব্যথায় সারা রাত চিৎকার করেছে। একজন ১৫ মাসের শিশুর ওপর এমন নিষ্ঠুরতা কল্পনা করা যায় না।
​২. নার্সদের দায়িত্বহীনতা ও বিলাসিতা: একজন নার্সকে ৫-৬ বার ডাকার পরও তারা আসত না। আমরা যখন আমাদের অসুস্থ বাচ্চা নিয়ে দিশেহারা, তখন দেখেছি নার্সরা কাজ ফেলে বসে বসে ফোন টিপছে অথবা আইসক্রিম খাচ্ছে। তাদের কাছে রোগীর কষ্টের চেয়ে নিজের বিনোদনই যেন বড় ছিল। শেষ পর্যন্ত আমরা নিজেরা গিয়ে অনেক ঝগড়া-বিবাদ করার পর সকাল ৯টা-১০টার দিকে সেই নষ্ট ক্যানোলাটি খোলাতে সক্ষম হই।
​৩. অদক্ষতা ও ব্যবসায়িক হয়রানি: টেস্টের স্যাম্পল নেওয়ার সময় দক্ষ লোক না থাকায় বাচ্চাকে বারবার প্রিক (সুঁই ফোটানো) করা হয়েছে। এছাড়া তারা বাইরের ফার্মেসি থেকে ওষুধ নিতে দেয় না, শুধুমাত্র তাদের ভেতরের ফার্মেসি থেকেই নিতে বাধ্য করে—যা সাধারণ মানুষের পকেট কাটার একটি অপকৌশল মাত্র।
​৪. রিপোর্ট নিয়ে টালবাহানা: ২৬ তারিখে টেস্ট দেওয়া সত্ত্বেও ২৮ তারিখে রিপোর্ট চাইলে তারা বারবার তারিখ পরিবর্তন করছে। অথচ সিবিসি বা ইউরিনের মতো সাধারণ রিপোর্টগুলো খুব দ্রুত পাওয়ার কথা।
​৫. আচরণ ও বিশৃঙ্খলা: স্টাফ, নার্স এবং রিসিপশনিস্টদের ব্যবহার অত্যন্ত উদ্ধত। কোনো অভিযোগ নিয়ে গেলে তারা একে অপরের ওপর দায় চাপিয়ে রোগীদের ‘লাট সাহেবের মতো’ ঘোরায়। কেউ কোনো সমস্যার দায় নিতে চায় না।
​বর্তমান অবস্থা:
ডলফিন হাসপাতালের এমন ভয়াবহ অবস্থা দেখে আমরা সেখান থেকে বাচ্চাকে নিয়ে চলে আসি। পরবর্তীতে মহাখালী DNCC হাসপাতালে সিট ম্যানেজ করে সেখানে ভর্তি করি। আমাদের বাচ্চা এখনও সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  বগুড়ায় তীব্র বজ্রপাত ও বিদ্যুৎ চমক, সতর্ক থাকার আহ্বান

মতামতের জন্য কর্তৃপক্ষে দায়ী নয়। তবে সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে মানবজীবন অনুসন্ধানের ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট প্রকাশের অভিপ্রায় রয়েছে।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

বীরগঞ্জে মাদক সেবনের অপরাধে ৪ জনের কারাদণ্ড, জেলহাজতে প্রেরণ

সাবধান! কামরাঙ্গীরচরের ডলফিন হাসপাতালের সেবার নামে চরম অবহেলা ও অদক্ষতা

সময়: ০৯:৪৭:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

ফারজানা ইসলাম: ভূক্তভোগী:

আমি আমার ১৫ মাসের অসুস্থ শিশুকে নিয়ে কামরাঙ্গীরচরের ‘ডলফিন হাসপাতাল অ্যান্ড ইনফার্টিলিটি সেন্টার’-এ যে ভয়াবহ ও অমানবিক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছি, তা সচেতন অভিভাবকদের সতর্ক করার জন্য শেয়ার করছি।
​ঘটনার প্রেক্ষাপট:
শুরুতেই তাদের অদক্ষতার চরম নিদর্শন পাওয়া যায়। বাচ্চার হাতে ক্যানোলা (Cannula) স্থাপন করতে তারা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয় এবং নিরুপায় হয়ে আমাদের রিলিজ দিয়ে দেয়। আমরা সারারাত হন্যে হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে একটি সিটের জন্য ছোটাছুটি করি, কিন্তু কোথাও সিট ম্যানেজ করতে পারিনি। শেষমেশ যে ডাক্তারকে দেখিয়েছিলাম, তাকে ফোন করলে তিনি পাশের ডলফিন হাসপাতালেই ইমার্জেন্সিতে ভর্তি করার পরামর্শ দেন। এরপর আমরা অনেক কষ্টে পিজি (PG) হাসপাতাল থেকে বাচ্চার ক্যানোলা করিয়ে এনে পুনরায় ডলফিন হাসপাতালে ভর্তি করাই। কিন্তু সেখান থেকেই শুরু হয় তাদের চরম অবহেলা ও অমানবিক আচরণ।


​আমাদের তিক্ত অভিজ্ঞতাগুলো নিচে তুলে ধরছি:
​১. রাতভর বাচ্চার সাথে নিষ্ঠুরতা: ভর্তি হওয়ার পর রাত ১২টার দিকে ক্যানোলাটি নষ্ট হয়ে যায়। তারা এটি খুলে না ফেলে উল্টো রাত ১২টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত দীর্ঘ ৯ ঘণ্টা বাচ্চার হাতেই আটকে রাখে! এই সময়ের মধ্যে তারা বারবার ক্যানোলা ঠিক করার নামে জোরজবরদস্তি করেছে। বাচ্চার হাত ফুলে নীল হয়ে গিয়েছিল এবং সে ব্যথায় সারা রাত চিৎকার করেছে। একজন ১৫ মাসের শিশুর ওপর এমন নিষ্ঠুরতা কল্পনা করা যায় না।
​২. নার্সদের দায়িত্বহীনতা ও বিলাসিতা: একজন নার্সকে ৫-৬ বার ডাকার পরও তারা আসত না। আমরা যখন আমাদের অসুস্থ বাচ্চা নিয়ে দিশেহারা, তখন দেখেছি নার্সরা কাজ ফেলে বসে বসে ফোন টিপছে অথবা আইসক্রিম খাচ্ছে। তাদের কাছে রোগীর কষ্টের চেয়ে নিজের বিনোদনই যেন বড় ছিল। শেষ পর্যন্ত আমরা নিজেরা গিয়ে অনেক ঝগড়া-বিবাদ করার পর সকাল ৯টা-১০টার দিকে সেই নষ্ট ক্যানোলাটি খোলাতে সক্ষম হই।
​৩. অদক্ষতা ও ব্যবসায়িক হয়রানি: টেস্টের স্যাম্পল নেওয়ার সময় দক্ষ লোক না থাকায় বাচ্চাকে বারবার প্রিক (সুঁই ফোটানো) করা হয়েছে। এছাড়া তারা বাইরের ফার্মেসি থেকে ওষুধ নিতে দেয় না, শুধুমাত্র তাদের ভেতরের ফার্মেসি থেকেই নিতে বাধ্য করে—যা সাধারণ মানুষের পকেট কাটার একটি অপকৌশল মাত্র।
​৪. রিপোর্ট নিয়ে টালবাহানা: ২৬ তারিখে টেস্ট দেওয়া সত্ত্বেও ২৮ তারিখে রিপোর্ট চাইলে তারা বারবার তারিখ পরিবর্তন করছে। অথচ সিবিসি বা ইউরিনের মতো সাধারণ রিপোর্টগুলো খুব দ্রুত পাওয়ার কথা।
​৫. আচরণ ও বিশৃঙ্খলা: স্টাফ, নার্স এবং রিসিপশনিস্টদের ব্যবহার অত্যন্ত উদ্ধত। কোনো অভিযোগ নিয়ে গেলে তারা একে অপরের ওপর দায় চাপিয়ে রোগীদের ‘লাট সাহেবের মতো’ ঘোরায়। কেউ কোনো সমস্যার দায় নিতে চায় না।
​বর্তমান অবস্থা:
ডলফিন হাসপাতালের এমন ভয়াবহ অবস্থা দেখে আমরা সেখান থেকে বাচ্চাকে নিয়ে চলে আসি। পরবর্তীতে মহাখালী DNCC হাসপাতালে সিট ম্যানেজ করে সেখানে ভর্তি করি। আমাদের বাচ্চা এখনও সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  বরখাস্ত প্রত্যাহার হলেও মব তৈরি করে সুপারকে অবরুদ্ধ, লাঞ্ছিত; পুলিশি সহযোগিতায় উদ্ধার

মতামতের জন্য কর্তৃপক্ষে দায়ী নয়। তবে সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে মানবজীবন অনুসন্ধানের ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট প্রকাশের অভিপ্রায় রয়েছে।