Dhaka ০৫:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় গোমস্তাপুরে প্রতিবাদ সভা “ডুমুরিয়ায় ‘রাজা মানিক’ গরু পালন করে স্বাবলম্বী মিনু সাহা” নড়াইলে ঘুমন্ত অবস্থায় স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, স্বামী গ্রেপ্তার বীরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রী কলেজ পরিদর্শনে আলহাজ্ব মনজুরুল ইসলাম মঞ্জু _এমপি চট্টগ্রামে অ্যাম্বুলেন্সে রোগী নয়, পাওয়া গেল ৪ কোটি টাকার ইয়াবা অস্থায়ীভাবে নতুন ঠিকানায় চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস জাতীয় সংসদকে বিএনপির পরিবারতন্ত্র সংসদ বানিয়েছে জেএসএফ বাংলাদেশ ডুমুরিয়ায় উপজেলায় সরকারিভাবে অভ্যন্তরীণ বোরো ধান সংগ্রহের উদ্বোধন দেশবন্ধু রেমিটেন্স যোদ্ধা সংসদের প্রতারিত ও নির্যাতিতদের সহায়তার উদ্যোগ পশ্চিমবঙ্গে ” জয় শ্রীরাম ” কৌশলে জিতে গেল বিজেপি
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

একা চিকিৎসা নিতে গিয়ে সিসিইউ না থাকায় মৃত্যু, অবশেষে পরিচয় সনাক্ত

  • Reporter Name
  • সময়: ১০:২৯:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
  • ৮ Time View

 

মোঃ মাইদুল ইসলাম


কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতাল-এ করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) না থাকায় একা চিকিৎসা নিতে গিয়ে মারা যাওয়া অজ্ঞাত যুবকের পরিচয় অবশেষে শনাক্ত হয়েছে। তার নাম রবিউল ইসলাম মুকুল।

হাসপাতাল ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তিনি নাগেশ্বরী উপজেলা-এর বলদীটারী এলাকার বাসিন্দা এবং লেবার অফিসের সাবেক সভাপতি ইসমাইল হোসেনের জ্যেষ্ঠ পুত্র। সকালে (৫ মার্চ) হৃদরোগজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে তিনি একাই কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। প্রয়োজনীয় উন্নত চিকিৎসা সুবিধা না থাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

ভর্তির সময় পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা না থাকা এবং সঙ্গে কোনো স্বজন না থাকায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ‘বেওয়ারিশ’ হিসেবে শনাক্ত করে মরদেহ হিমাগারে সংরক্ষণ করে। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ছবি ছড়িয়ে পড়লে এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে শনাক্ত করেন। বর্তমানে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সুপারিটেনডেন্ট ডাঃ নুর নেওয়াজ আহমেদ জানান, আমি ছুটিতে আছি। আজ সকালে তিনি একাই এমআই আক্রান্ত হয়ে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। তার সঙ্গে কেউ আসেনি। ইতিপূর্বেও তিনি এভাবে একা চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। কুড়িগ্রাম হাসপাতালে এমআই রোগীদের চিকিৎসা যন্ত্র ও করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) না থাকায় চিকিৎসা করা যায় না। চাহিদা পাঠানো হয়েছে কি না—এ বিষয়ে তিনি বলেন, চাহিদা দিলে হবে না, এটার জন্য মেডিকেল কলেজের মতো সেটআপ লাগে।

জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, প্রতিটি সদর হাসপাতালে কার্ডিওলজি বিভাগ রয়েছে, তবে এমআই-এর বিভিন্ন ধাপ রয়েছে। এখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে মেডিকেল কলেজে রেফার্ড করা যেত। তবে এ বিষয়ে তদন্ত করে কোনো ত্রুটি থাকলে তা বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পাঠানো হবে।

বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডাঃ গাউসুল আজম চৌধুরী বলেন, ৩০ এপ্রিল পিআরএল-এ এসেছি। তবে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে এটুকু বলবো, একজন হার্ট অ্যাটাকের রোগী জেলা পর্যায়ে চিকিৎসা পেলে অনেক ভোগান্তি কমে যাবে। বিভিন্ন সময়ে জেলা হাসপাতালগুলোতে সিসিইউ স্থাপনের জন্য সরকারিভাবে মন্ত্রণালয়ে আলোচনা হয়েছে, সরকার এ বিষয়ে আন্তরিক।

আরও পড়ুনঃ  কুষ্টিয়ায় হামের উপসর্গে নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু, মোট মৃত্যূ-০৯

কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য ডাঃ আতিক মুজাহিদ বলেন, কোনো ব্যক্তি যেন বিনা চিকিৎসায় মারা না যায়, এটা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। যে মারা গেছেন তার পরিবারের সঙ্গে সমবেদনা জানাচ্ছি। স্বাস্থ্য বিষয়ে প্রতি মাসে একটি স্বাস্থ্যসেবা মুক্ত আলোচনার আয়োজন করেছি। সমস্যাগুলো শুনে যত দ্রুত সম্ভব সমাধান করার চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় গোমস্তাপুরে প্রতিবাদ সভা

একা চিকিৎসা নিতে গিয়ে সিসিইউ না থাকায় মৃত্যু, অবশেষে পরিচয় সনাক্ত

সময়: ১০:২৯:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

 

মোঃ মাইদুল ইসলাম


কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতাল-এ করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) না থাকায় একা চিকিৎসা নিতে গিয়ে মারা যাওয়া অজ্ঞাত যুবকের পরিচয় অবশেষে শনাক্ত হয়েছে। তার নাম রবিউল ইসলাম মুকুল।

হাসপাতাল ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তিনি নাগেশ্বরী উপজেলা-এর বলদীটারী এলাকার বাসিন্দা এবং লেবার অফিসের সাবেক সভাপতি ইসমাইল হোসেনের জ্যেষ্ঠ পুত্র। সকালে (৫ মার্চ) হৃদরোগজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে তিনি একাই কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। প্রয়োজনীয় উন্নত চিকিৎসা সুবিধা না থাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

ভর্তির সময় পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা না থাকা এবং সঙ্গে কোনো স্বজন না থাকায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ‘বেওয়ারিশ’ হিসেবে শনাক্ত করে মরদেহ হিমাগারে সংরক্ষণ করে। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ছবি ছড়িয়ে পড়লে এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে শনাক্ত করেন। বর্তমানে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সুপারিটেনডেন্ট ডাঃ নুর নেওয়াজ আহমেদ জানান, আমি ছুটিতে আছি। আজ সকালে তিনি একাই এমআই আক্রান্ত হয়ে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। তার সঙ্গে কেউ আসেনি। ইতিপূর্বেও তিনি এভাবে একা চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। কুড়িগ্রাম হাসপাতালে এমআই রোগীদের চিকিৎসা যন্ত্র ও করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) না থাকায় চিকিৎসা করা যায় না। চাহিদা পাঠানো হয়েছে কি না—এ বিষয়ে তিনি বলেন, চাহিদা দিলে হবে না, এটার জন্য মেডিকেল কলেজের মতো সেটআপ লাগে।

জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, প্রতিটি সদর হাসপাতালে কার্ডিওলজি বিভাগ রয়েছে, তবে এমআই-এর বিভিন্ন ধাপ রয়েছে। এখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে মেডিকেল কলেজে রেফার্ড করা যেত। তবে এ বিষয়ে তদন্ত করে কোনো ত্রুটি থাকলে তা বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পাঠানো হবে।

বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডাঃ গাউসুল আজম চৌধুরী বলেন, ৩০ এপ্রিল পিআরএল-এ এসেছি। তবে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে এটুকু বলবো, একজন হার্ট অ্যাটাকের রোগী জেলা পর্যায়ে চিকিৎসা পেলে অনেক ভোগান্তি কমে যাবে। বিভিন্ন সময়ে জেলা হাসপাতালগুলোতে সিসিইউ স্থাপনের জন্য সরকারিভাবে মন্ত্রণালয়ে আলোচনা হয়েছে, সরকার এ বিষয়ে আন্তরিক।

আরও পড়ুনঃ  কালিয়াকৈরে পল্লী মঙ্গল কর্মসূচীর ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, ৫ শতাধিক অসহায় মানুষের সেবা গ্রহণ

কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য ডাঃ আতিক মুজাহিদ বলেন, কোনো ব্যক্তি যেন বিনা চিকিৎসায় মারা না যায়, এটা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। যে মারা গেছেন তার পরিবারের সঙ্গে সমবেদনা জানাচ্ছি। স্বাস্থ্য বিষয়ে প্রতি মাসে একটি স্বাস্থ্যসেবা মুক্ত আলোচনার আয়োজন করেছি। সমস্যাগুলো শুনে যত দ্রুত সম্ভব সমাধান করার চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ।