
নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর উপজেলার বালিচাঁদা কোনাপাড়া গ্রামের মৃত শরাফত আলীর ছেলে মোঃ আশরাফুল আলম বাবুলকে বিদেশ পাঠানোর নামে প্রায় ৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। একই ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের মৃত তালেব হোসেনের ছেলে মোঃ ছায়েদ মিয়ার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী।
জানা যায়, গত আওয়ামী সরকারের আমলে ছায়েদ মিয়া বাবুল মিয়াকে ভ্রমণ ভিসায় প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে পাঠান। তিনি আশ্বাস দেন, সেখানে পৌঁছানোর পর আকামা (কাজের অনুমতি) করে দেওয়া হবে। কিন্তু বিদেশে যাওয়ার পর থেকেই বাবুল মিয়ার ওপর বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তিনি পরিবারের সহযোগিতায় কোনোভাবে দেশে ফিরে আসেন।
পরে বাবুল মিয়া তার টাকা ফেরত চাইলে ছায়েদ মিয়া সময়ক্ষেপণ করে টাকা ফেরতের আশ্বাস দেন। এ অবস্থায় বাবুল মিয়া ও তার পরিবার তার ওপর ভরসা রাখেন। গত ২৩-০৩-২০২৬ তারিখে কিছু টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে ছায়েদ মিয়া ও তার ছেলে মোঃ সুহেল মিয়া বাবুল মিয়াকে ডেকে নেন। ওইদিন বিকালে টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।
এর জের ধরে গভীর রাতে ছায়েদ মিয়ার বসতঘরে ডাকাতির অভিযোগ তুলে বাবুল মিয়াসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি করে।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত একটি জাতীয় দৈনিকের সাংবাদিকরা সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে স্থানীয়রা অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে জানান, পাওনা টাকা না দেওয়ার জন্যই বাবুল মিয়াকে ফাঁসাতে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন ডাকাতির অভিযোগ সাজানো হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, বাবুল মিয়ার বাড়ি থেকে ঘটনাস্থলে যেতে বড় একটি নদী রয়েছে, যা নৌকা ছাড়া অতিক্রম করা সম্ভব নয়—তাই তার ডাকাতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ অবাস্তব।
এ ঘটনায় মোঃ সুহেল মিয়া বাদী হয়ে নেত্রকোনা বিজ্ঞ আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন (দ্রুত বিচার) ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় মোঃ আশরাফুল আলম বাবুলসহ ৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৭/৮ জনকে আসামি করা হয়। যার দ্রুত বিচার মোকাদ্দমা নং ৯(১)/২৬। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এদিকে, পাওনা টাকা ফেরত না পেয়ে ও মিথ্যা মামলার অভিযোগ তুলে ভুক্তভোগী বাবুল মিয়া গত ২১-০৪-২০২৬ তারিখে নেত্রকোনা জেলা পুলিশ সুপারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী জেলা প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং মামলার বিচারকের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
প্রতিবেদন: মোশাররফ হোসেন জসিম পাঠান ও নাছিমা খাতুন সুলতানা, নেত্রকোনা:
Reporter Name 






















