
স্টাফ রিপোর্টার:
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের মিঠাপুর গ্রামে সরকারি খাল ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ দখল করে ক্রয়-বিক্রয়ের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী ভূমিদস্যু চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিবাদ করায় এক সাংবাদিক পরিবারের বিরুদ্ধে ডজনখানেক মামলা দায়েরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা যায়, মিঠাপুর গ্রামের একমাত্র পানি নিষ্কাশনের পথ, জানাজার জায়গা ও হিন্দু সম্প্রদায়ের শ্মশান যাওয়ার রাস্তা দখল করে একটি চক্র। এতে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়ে এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি ১নং খাস খতিয়ানের জমি দখল করে তা বিক্রি করা হচ্ছে এবং সেখানে ঘরবাড়ি নির্মাণ করা হচ্ছে।
অভিযোগে বলা হয়, মৃত ফটিক মিয়ার ছেলে নুরুল হোসেন ও তার ভাতিজা জুয়েলসহ একটি চক্র ওই জমি দখল করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিক্রি করছে। এরই ধারাবাহিকতায় রাতে টিনশেড ঘর নির্মাণের চেষ্টা করা হলে এলাকাবাসী বাধা দেয়। এ বিষয়ে গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আদালত ১৪৪ ধারা জারি করে স্থানীয় প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এ দখল-বাণিজ্যের ফলে এলাকার রাজখাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে গেছে এবং নৌকা চলাচলও বিঘ্নিত হচ্ছে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় সাংবাদিক বুলবুল আহমেদসহ গ্রামবাসী আন্দোলন করলে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সাংবাদিক বুলবুল আহমেদের দাবি, মিথ্যা ও হয়রানিমূলক এসব মামলার মাধ্যমে তাকে ও তার পরিবারকে চাপে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার সকালে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রুহুল আমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে খালের ওপর নির্মাণাধীন একটি পাকা ঘরের কাজ বন্ধ করে দেন এবং লাল নিশানা টানিয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। তিনি জানান, পরবর্তীতে সরকারি খাস জমি চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে এলাকাবাসী ও সচেতন মহল সরকারি সম্পদ রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তারা।
বুলবুল আহমেদ নবীগঞ্জ, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি 























