Dhaka ১০:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
কুড়িগ্রামে ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ অনুষ্ঠিত শ্যামনগরে পাঁচ বছর বয়সে ছোটপর্দায় ম্যারাডোনার অভিষেক বুড়িচংয়ে তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ “মমতা’র আয়োজনে দেশি মুরগি পালন বিষয়ক ফলাফল প্রদর্শন ও প্রতিরূপায়ন সভা” অবশেষে উন্মুক্ত হলো কালিগঞ্জের মহেশ্বরপুর খাল, স্বস্তি ফিরেছে ১০ গ্রামের কৃষকের মাঝে চট্টগ্রামে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা এসপি মাসুদ আলমের মহেশপুরে মাদক সেবনের অপরাধে যুবকের ৩ মাসের কারাদণ্ড পোরশা সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১, আহত ৩ কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে কোনো অরাজকতা চলবে না : চসিক মেয়র বঙ্গবন্ধু পরিষদ নিউইয়র্ক চ্যাপ্টারের সভাপতি সাখাওয়াত আলী ও সাধারণ সম্পাদক সুব্রত তালুকদার নির্বাচিত
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

ঝিকরগাছায় অবৈধভাবে মাটি কাটা ও বিক্রি : প্রশাসনের পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়

  • Reporter Name
  • সময়: ১০:৪৯:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
  • ৯ Time View

 

আফজাল হোসেন চাঁদ, ঝিকরগাছা :


ফুলের রাজ্যখ্যাত যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা ও পৌর সদরজুড়ে দিন দিন বেড়েই চলেছে অবৈধভাবে মাটি কাটা ও বিক্রির দৌরাত্ম্য। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী কয়েকটি চক্র প্রশাসনের নাকের ডগায় থেকেই ফসলি জমি, খাল-বিল ও বিভিন্ন সরকারি জায়গা থেকে অবাধে মাটি কেটে বিক্রি করছে। এতে কৃষিজমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ ও গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থাও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে রাতের আঁধারে ভেকু ও ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে মাটি কাটা হচ্ছে। পরে এক হাজার থেকে এক হাজার পাঁচশত টাকা হারে ট্রাক, ট্রলি ও ডাম্পারযোগে বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার টাকার মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এ কর্মকাণ্ড চললেও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো অভিযান বা কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আগে প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতেন। অবৈধ মাটি কাটার দায়ে জরিমানা এবং মেশিন জব্দের ঘটনাও ঘটেছে। কিন্তু বর্তমানে প্রশাসনের তৎপরতা অনেকটাই কমে গেছে। ফলে মাটি খেকো চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

একাধিক কৃষক অভিযোগ করে বলেন, ফসলি জমির উর্বর উপরের স্তরের মাটি কেটে নেওয়ায় জমির উৎপাদন ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও গভীর গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে পানি জমে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা বাড়ছে। এতে কৃষিকাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলা ও পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় দিন-রাত ট্রাক্টর ও ট্রলিযোগে মাটি পরিবহন করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব মাটি ইটভাটা, রাস্তা-পুকুর ভরাট ও বিভিন্ন নির্মাণকাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে গ্রামীণ সড়ক দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। হালকা বৃষ্টিতেই সড়কের ওপর জমে থাকা মাটি পিছলে স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও মোটরসাইকেল আরোহীরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আরও পড়ুনঃ  পতেঙ্গায় বিপুল পরিমাণ ডিজেলসহ ২ অয়েল ট্যাঙ্কার জব্দ, আটক ৯

পরিবেশ সচেতন মহল বলছে, অবাধে মাটি কাটার ফলে এলাকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। কৃষি উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা, ভূমিক্ষয় এবং পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কাও বাড়ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জনপ্রতিনিধি বলেন, “আগে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে ছিল। এখন অভিযোগ দিয়েও অনেক সময় প্রতিকার পাওয়া যায় না। ফলে যারা অবৈধভাবে মাটি কাটছে তারা আরও উৎসাহ পাচ্ছে।”

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক সাফফাত আরা সাঈদ বলেন, অবৈধভাবে মাটি কাটার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এদিকে সচেতন নাগরিকরা দ্রুত নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ এবং কৃষিজমি রক্ষায় প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তাদের মতে, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ফুলের রাজ্যখ্যাত ঝিকরগাছা অঞ্চলের কৃষি ও পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

কুড়িগ্রামে ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ অনুষ্ঠিত

ঝিকরগাছায় অবৈধভাবে মাটি কাটা ও বিক্রি : প্রশাসনের পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়

সময়: ১০:৪৯:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

 

আফজাল হোসেন চাঁদ, ঝিকরগাছা :


ফুলের রাজ্যখ্যাত যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা ও পৌর সদরজুড়ে দিন দিন বেড়েই চলেছে অবৈধভাবে মাটি কাটা ও বিক্রির দৌরাত্ম্য। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী কয়েকটি চক্র প্রশাসনের নাকের ডগায় থেকেই ফসলি জমি, খাল-বিল ও বিভিন্ন সরকারি জায়গা থেকে অবাধে মাটি কেটে বিক্রি করছে। এতে কৃষিজমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ ও গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থাও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে রাতের আঁধারে ভেকু ও ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে মাটি কাটা হচ্ছে। পরে এক হাজার থেকে এক হাজার পাঁচশত টাকা হারে ট্রাক, ট্রলি ও ডাম্পারযোগে বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার টাকার মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এ কর্মকাণ্ড চললেও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো অভিযান বা কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আগে প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতেন। অবৈধ মাটি কাটার দায়ে জরিমানা এবং মেশিন জব্দের ঘটনাও ঘটেছে। কিন্তু বর্তমানে প্রশাসনের তৎপরতা অনেকটাই কমে গেছে। ফলে মাটি খেকো চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

একাধিক কৃষক অভিযোগ করে বলেন, ফসলি জমির উর্বর উপরের স্তরের মাটি কেটে নেওয়ায় জমির উৎপাদন ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও গভীর গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে পানি জমে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা বাড়ছে। এতে কৃষিকাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলা ও পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় দিন-রাত ট্রাক্টর ও ট্রলিযোগে মাটি পরিবহন করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব মাটি ইটভাটা, রাস্তা-পুকুর ভরাট ও বিভিন্ন নির্মাণকাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে গ্রামীণ সড়ক দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। হালকা বৃষ্টিতেই সড়কের ওপর জমে থাকা মাটি পিছলে স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও মোটরসাইকেল আরোহীরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আরও পড়ুনঃ  মহেশপুরে মাদক সেবনের অপরাধে যুবকের ৩ মাসের কারাদণ্ড

পরিবেশ সচেতন মহল বলছে, অবাধে মাটি কাটার ফলে এলাকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। কৃষি উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা, ভূমিক্ষয় এবং পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কাও বাড়ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জনপ্রতিনিধি বলেন, “আগে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে ছিল। এখন অভিযোগ দিয়েও অনেক সময় প্রতিকার পাওয়া যায় না। ফলে যারা অবৈধভাবে মাটি কাটছে তারা আরও উৎসাহ পাচ্ছে।”

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক সাফফাত আরা সাঈদ বলেন, অবৈধভাবে মাটি কাটার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এদিকে সচেতন নাগরিকরা দ্রুত নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ এবং কৃষিজমি রক্ষায় প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তাদের মতে, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ফুলের রাজ্যখ্যাত ঝিকরগাছা অঞ্চলের কৃষি ও পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।