Dhaka ০৭:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হলেন হাজী জসিম উদ্দিন এমপি সুনামগঞ্জে ২ দিন ব্যাপী নৃত্য কর্মশালার শুভ উদ্বোধন গৌরীপুরের আজিজুল হক গংদের হাত থেকে পৈতৃক সম্পত্তি উদ্ধার চায় মিজানুর রহমান গংরা গোদাগাড়ী পৌরসভার সার্ভেয়ার কবিরের বিরুদ্ধে সরকারি খাস জমি দখল ফাইল গায়েব ও টাকার বিনিময়ে জমি কম বেশি করার গুরুতর অভিযোগ নড়াইলের লোহাগড়া আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কুপিয়ে হত্যা ছাত্রীকে নিয়ে উধাও শিক্ষক সুনামগঞ্জে জাতীয় পার্টির মতবিনিময় সভা, তৃণমূলকে শক্তিশালী করে সরকার গঠনের আহ্বান শামীম হায়দার পাটোয়ারী দিনাজপুর বীরগঞ্জে নবনির্মিত মৈত্রী সেতুর উদ্বোধন খুলে গেল যোগাযোগের নতুন দুয়ার. ধর্মপাশায় পাইকুরাটি ইউনিয়ন বিএনপির দ্বী- বার্ষিক সম্মেলনে সভাপতি মোহাম্মাদ আলী, সাধারণ সম্পাদক জিয়া উদ্দিন জিয়া মাদ্রাসার হাফেজা কিশোরী ধর্ষন : আলামত নষ্ট করতে ১০ দিনেও মামলা নেয়নি ওসি
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

বগুড়াতে হিজড়া সম্প্রদায়কে ঘিরে চাঁদাবাজির অভিযোগ ও জনভোগান্তি: বাস্তবতা, আইন ও করণীয়

  • Reporter Name
  • সময়: ১০:১৬:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২২ Time View

 

মিরু হাসান, বগুড়া প্রতিনিধি:


বগুড়ার বিভিন্ন শহর, বাস টার্মিনাল, মহাসড়ক, বাজার ও জনবহুল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কিছু হিজড়া সদস্যের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক অর্থ আদায়, যাত্রী ও পথচারীদের হয়রানি এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠে আসছে। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে বগুড়াসহ বিভিন্ন জেলায় এ ধরনের অভিযোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। তবে বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় অভিযোগগুলোর ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত ও সুনির্দিষ্ট তথ্য যাচাই গুরুত্বপূর্ণ।

বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বাসস্ট্যান্ড, ট্রাফিক সিগন্যাল, নবজাতকের বাড়ি কিংবা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে কিছু ব্যক্তি অর্থ দাবি করার অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান পরিচালনা করেছে। বাংলাদেশ পুলিশ অতীতে এ ধরনের জনভোগান্তির অভিযোগের প্রেক্ষিতে সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছিল, জনস্বার্থবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ড আইন অনুযায়ী দমন করা হবে।

অন্যদিকে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেশব্যাপী চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের কথা জানিয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনার কথাও প্রকাশ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরো হিজড়া সম্প্রদায়কে কোনো অভিযোগের সঙ্গে একীভূত করে দেখা উচিত নয়। কারণ বগুড়ার হিজড়া জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ সামাজিক বৈষম্য, কর্মসংস্থানের সংকট এবং দীর্ঘদিনের বঞ্চনার শিকার। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, হিজড়া জনগোষ্ঠীর অনেক সদস্যই বৈষম্য ও সহিংসতার শিকার হন এবং তাদের জন্য টেকসই কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বগুড়ার বিভিন্ন এলাকায় যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী জোরপূর্বক অর্থ আদায়, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত থাকে, তাহলে তা ব্যক্তি বা অপরাধী চক্রের দায় হিসেবে বিবেচনা করা উচিত—কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপরাধীর পরিচয় নয়, অপরাধই হওয়া উচিত আইনের মূল বিবেচ্য বিষয়।

আরও পড়ুনঃ  উঠানের সবজি বিক্রিই ভরসা লাইলী বেগমের

সচেতন মহলের দাবি, জনভোগান্তি দূর করতে একদিকে যেমন চাঁদাবাজি ও হয়রানির বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ প্রয়োজন, অন্যদিকে বগুড়ার হিজড়া জনগোষ্ঠীর জন্য শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির কার্যকর উদ্যোগও জরুরি। এতে যেমন সাধারণ মানুষ স্বস্তি পাবে, তেমনি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষও সম্মানজনক জীবনের সুযোগ পাবে।

বিশ্লেষকদের মতে, আইনের সমান প্রয়োগ, জনসচেতনতা এবং সামাজিক সহমর্মিতার সমন্বয়েই বগুড়ায় এই ধরনের সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হলেন হাজী জসিম উদ্দিন এমপি

বগুড়াতে হিজড়া সম্প্রদায়কে ঘিরে চাঁদাবাজির অভিযোগ ও জনভোগান্তি: বাস্তবতা, আইন ও করণীয়

সময়: ১০:১৬:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

মিরু হাসান, বগুড়া প্রতিনিধি:


বগুড়ার বিভিন্ন শহর, বাস টার্মিনাল, মহাসড়ক, বাজার ও জনবহুল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কিছু হিজড়া সদস্যের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক অর্থ আদায়, যাত্রী ও পথচারীদের হয়রানি এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠে আসছে। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে বগুড়াসহ বিভিন্ন জেলায় এ ধরনের অভিযোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। তবে বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় অভিযোগগুলোর ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত ও সুনির্দিষ্ট তথ্য যাচাই গুরুত্বপূর্ণ।

বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বাসস্ট্যান্ড, ট্রাফিক সিগন্যাল, নবজাতকের বাড়ি কিংবা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে কিছু ব্যক্তি অর্থ দাবি করার অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান পরিচালনা করেছে। বাংলাদেশ পুলিশ অতীতে এ ধরনের জনভোগান্তির অভিযোগের প্রেক্ষিতে সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছিল, জনস্বার্থবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ড আইন অনুযায়ী দমন করা হবে।

অন্যদিকে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেশব্যাপী চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের কথা জানিয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনার কথাও প্রকাশ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরো হিজড়া সম্প্রদায়কে কোনো অভিযোগের সঙ্গে একীভূত করে দেখা উচিত নয়। কারণ বগুড়ার হিজড়া জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ সামাজিক বৈষম্য, কর্মসংস্থানের সংকট এবং দীর্ঘদিনের বঞ্চনার শিকার। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, হিজড়া জনগোষ্ঠীর অনেক সদস্যই বৈষম্য ও সহিংসতার শিকার হন এবং তাদের জন্য টেকসই কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বগুড়ার বিভিন্ন এলাকায় যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী জোরপূর্বক অর্থ আদায়, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত থাকে, তাহলে তা ব্যক্তি বা অপরাধী চক্রের দায় হিসেবে বিবেচনা করা উচিত—কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপরাধীর পরিচয় নয়, অপরাধই হওয়া উচিত আইনের মূল বিবেচ্য বিষয়।

আরও পড়ুনঃ  ইউএনও অফিসের হিসাব সহকারীর ওপর হামলার অভিযোগ মুক্তিযোদ্ধা আলমের বিরুদ্ধে

সচেতন মহলের দাবি, জনভোগান্তি দূর করতে একদিকে যেমন চাঁদাবাজি ও হয়রানির বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ প্রয়োজন, অন্যদিকে বগুড়ার হিজড়া জনগোষ্ঠীর জন্য শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির কার্যকর উদ্যোগও জরুরি। এতে যেমন সাধারণ মানুষ স্বস্তি পাবে, তেমনি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষও সম্মানজনক জীবনের সুযোগ পাবে।

বিশ্লেষকদের মতে, আইনের সমান প্রয়োগ, জনসচেতনতা এবং সামাজিক সহমর্মিতার সমন্বয়েই বগুড়ায় এই ধরনের সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব।