Dhaka ০১:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
সবার আগে বাংলাদেশ এবং সবার জন্য বাংলাদেশ—এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাতক্ষীরায় জামায়াতের ইউনিয়ন দায়িত্বশীল সমাবেশ ও শিক্ষা বৈঠক অনুষ্ঠিত চরভদ্রাসনে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে ৫৩টি চায়না দুয়ারি জাল জব্দ ও বিনষ্ট থানায় আপস, তবুও জমি দখলের তাণ্ডব! ফরিদগঞ্জে বিরোধপূর্ণ জমিতে ইট ফেলার অভিযোগ, নিরাপত্তাহীনতায় ৭৪ বছরের বৃদ্ধ সান্তাহারে তিন শতাধিক বিএনপির কারা নির্যাতিত নেতা-কর্মীদের বিশাল সংবর্ধনা প্রদান কালিয়াকৈরে ওষুধ কারখানায় আগুন, আহত ১ কালীগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ৬০ হাজার ৩০০ টাকা জরিমানা ডিমলায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা শুরু বালিয়াকান্দিতে ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত প্রবাসী সমাজকল্যাণ ও উন্নয়ন সংস্থার বর্ষপূর্তি উদযাপন, সহায়তা পেয়েছেন ৯৪৬ জন অসহায় মানুষ
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

নরসিংদীর গর্ব হাতবিহীন “দুঃখু মিয়া ” অদম্য মনোবলে জ্বালিয়েছেন শিক্ষার আলো”

  • Reporter Name
  • সময়: ০৮:০৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ২১ Time View

আবুনাঈম রিপন :নরসিংদী থেকে :


নরসিংদী সহ সারা বাংলাদেশের মানুষ ও দেশের প্রধানমন্ত্রী দৃষ্টি গোচর হওয়াতে ভাগ্যের চাকা খুলে গেল, যার জন্ম থেকেই দুই হাত নেই। তবু শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে জয় করে অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও আত্মবিশ্বাসের বলিয়ান, পা দিয়ে লিখে পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন নরসিংদীর আলতাফ হোসেন, যিনি সবার কাছে পরিচিত ‘দুঃখু মিয়া’ নামে। চাকরি না পেয়ে থেমে যাননি তিনি; নিজের পৈতৃক জমিতে প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন’। তাঁর এই উদ্যোগে আজ শিশুরা পাচ্ছে শিক্ষার সুযোগ, দেখছে সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন।

হাতবিহীন,দুঃখু মিয়ার এই জীবনসংগ্রাম ও মহতী উদ্যোগের প্রতি সহমর্মিতা ও অনুপ্রেরণা জানিয়েছেন গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান এমপি। তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রধানমন্ত্রী তাঁর উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দেন। প্রধানমন্ত্রীর এই আন্তরিকতা দুঃখু মিয়ার স্বপ্নপূরণের পথে নিঃসন্দেহে এক অনন্য প্রেরণার উৎস।

গত ১২ অক্টোবর ২০২৬ সকালে নরসিংদী সদর উপজেলার নগর পাঁচদোনা এলাকায় অবস্থিত বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট,ইসরাত জাহান কেয়া। এ সময় তিনি বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পরিবেশ এবং দুঃখু মিয়ার জীবনসংগ্রাম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

পরিদর্শনকালে সরকারের পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিদ্যালয়ের ১৪৫ জন শিক্ষার্থীর প্রত্যেকের হাতে একটি করে গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুলব্যাগ, খেলার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিদ্যালয়টির জন্য আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়। বিদ্যালয়টির পাঠদানের অনুমতি এবং নিবন্ধন প্রাপ্তির লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় উদ্যোগও গ্রহণ করেছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, “আলতাফ হোসেন দুঃখু মিয়া শুধু নরসিংদীর গর্ব নন, তিনি সারা দেশের গর্ব। তাঁর অদম্য মনোবল আমাদের সকলের জন্য অনুপ্রেরণার।” বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত ও শিক্ষাগত উন্নয়ন এবং ভবিষ্যতে এটিকে উচ্চবিদ্যালয়ে রূপান্তরের সম্ভাবনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাসও তিনি প্রদান করেন।

আরও পড়ুনঃ  সুনামগঞ্জে মাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, আটক ছেলে

দুঃখু মিয়ার এই উদ্যোগ কেবল একজন মানুষের ব্যক্তিগত স্বপ্ন নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ১৪৫টি শিশুর শিক্ষাজীবন, তাদের পরিবারের প্রত্যাশা এবং একটি এলাকার সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ। প্রয়োজন যথাযথ সহযোগিতা, পরিকল্পিত উদ্যোগ ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা—যাতে এই ছোট্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি একদিন আরও বৃহৎ পরিসরে শিক্ষার আলো ছড়াতে পারে।

দুঃখু মিয়ার জীবন আমাদের শেখায়—শারীরিক সীমাবদ্ধতা স্বপ্নের সীমা হতে পারে না; প্রতিকূলতা কখনোই অদম্য ইচ্ছাশক্তির চেয়ে বড় নয়। আসুন, তাঁর পাশে দাঁড়াই, শিশুদের শিক্ষার পথ সুগম করি এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গড়ে তুলি একটি মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শিক্ষাবান্ধব বাংলাদেশ।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

সবার আগে বাংলাদেশ এবং সবার জন্য বাংলাদেশ—এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নরসিংদীর গর্ব হাতবিহীন “দুঃখু মিয়া ” অদম্য মনোবলে জ্বালিয়েছেন শিক্ষার আলো”

সময়: ০৮:০৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

আবুনাঈম রিপন :নরসিংদী থেকে :


নরসিংদী সহ সারা বাংলাদেশের মানুষ ও দেশের প্রধানমন্ত্রী দৃষ্টি গোচর হওয়াতে ভাগ্যের চাকা খুলে গেল, যার জন্ম থেকেই দুই হাত নেই। তবু শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে জয় করে অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও আত্মবিশ্বাসের বলিয়ান, পা দিয়ে লিখে পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন নরসিংদীর আলতাফ হোসেন, যিনি সবার কাছে পরিচিত ‘দুঃখু মিয়া’ নামে। চাকরি না পেয়ে থেমে যাননি তিনি; নিজের পৈতৃক জমিতে প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন’। তাঁর এই উদ্যোগে আজ শিশুরা পাচ্ছে শিক্ষার সুযোগ, দেখছে সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন।

হাতবিহীন,দুঃখু মিয়ার এই জীবনসংগ্রাম ও মহতী উদ্যোগের প্রতি সহমর্মিতা ও অনুপ্রেরণা জানিয়েছেন গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান এমপি। তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রধানমন্ত্রী তাঁর উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দেন। প্রধানমন্ত্রীর এই আন্তরিকতা দুঃখু মিয়ার স্বপ্নপূরণের পথে নিঃসন্দেহে এক অনন্য প্রেরণার উৎস।

গত ১২ অক্টোবর ২০২৬ সকালে নরসিংদী সদর উপজেলার নগর পাঁচদোনা এলাকায় অবস্থিত বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট,ইসরাত জাহান কেয়া। এ সময় তিনি বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পরিবেশ এবং দুঃখু মিয়ার জীবনসংগ্রাম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

পরিদর্শনকালে সরকারের পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিদ্যালয়ের ১৪৫ জন শিক্ষার্থীর প্রত্যেকের হাতে একটি করে গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুলব্যাগ, খেলার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিদ্যালয়টির জন্য আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়। বিদ্যালয়টির পাঠদানের অনুমতি এবং নিবন্ধন প্রাপ্তির লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় উদ্যোগও গ্রহণ করেছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, “আলতাফ হোসেন দুঃখু মিয়া শুধু নরসিংদীর গর্ব নন, তিনি সারা দেশের গর্ব। তাঁর অদম্য মনোবল আমাদের সকলের জন্য অনুপ্রেরণার।” বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত ও শিক্ষাগত উন্নয়ন এবং ভবিষ্যতে এটিকে উচ্চবিদ্যালয়ে রূপান্তরের সম্ভাবনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাসও তিনি প্রদান করেন।

আরও পড়ুনঃ  হরিণাকুণ্ডুতে ‘এক দেশ, এক লেনদেন—ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত

দুঃখু মিয়ার এই উদ্যোগ কেবল একজন মানুষের ব্যক্তিগত স্বপ্ন নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ১৪৫টি শিশুর শিক্ষাজীবন, তাদের পরিবারের প্রত্যাশা এবং একটি এলাকার সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ। প্রয়োজন যথাযথ সহযোগিতা, পরিকল্পিত উদ্যোগ ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা—যাতে এই ছোট্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি একদিন আরও বৃহৎ পরিসরে শিক্ষার আলো ছড়াতে পারে।

দুঃখু মিয়ার জীবন আমাদের শেখায়—শারীরিক সীমাবদ্ধতা স্বপ্নের সীমা হতে পারে না; প্রতিকূলতা কখনোই অদম্য ইচ্ছাশক্তির চেয়ে বড় নয়। আসুন, তাঁর পাশে দাঁড়াই, শিশুদের শিক্ষার পথ সুগম করি এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গড়ে তুলি একটি মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শিক্ষাবান্ধব বাংলাদেশ।