Dhaka ০৪:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
রাতের আঁধারে শিকল কেটে মহিন শেখের ভ্যানগাড়ি চুরি এক বছরের জন্য ৪০০ পরিবারের দায়িত্ব নিলেন রাশমিকা মান্দানা সমাজে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনকারীদের পাশে থাকার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর ‘অন্যের অপমান আর অসম্মান কবে থেকে উপার্জনের মাধ্যম হলো?’: মেহজাবীন ভোলাহাটে লাশ আটকে দেওয়া হলো বাবার : দলিল থেকে দাফন বিরোধ সবখানে রেললাইনের পাশে নবজাতকের মৃত দেহ বীরগঞ্জের সাহাডুবীতে দুর্গোৎসব ঘিরে উৎসবের আমেজ উপজেলা বিএনপির শীর্ষ দুই পদে প্রধান শিক্ষক বললেন, ‘আমরা সরকারি চাকরি ছেড়ে দেবো’ উপজেলা বিএনপির শীর্ষ দুই পদে প্রধান শিক্ষক বললেন, ‘আমরা সরকারি চাকরি ছেড়ে দেবো’ জঙ্গল সলিমপুরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের লক্ষ্যে সভা অনুষ্ঠিত
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

ধর্মপুর এডুকেশনাল এস্টেটের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগ

  • Reporter Name
  • সময়: ১২:২৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
  • ৭৩ Time View

 

মহিউদ্দিন মহি খন্দকার | ফেনী প্রতিনিধি


ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ধর্মপুর এডুকেশনাল এস্টেটের প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এসব অভিযোগের তদন্তে গিয়ে তদন্ত কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেননি তিনি।

জানা গেছে, গত ২২ জুলাই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সরেজমিনে বিদ্যালয়ে যান ফেনী জেলা শিক্ষা কার্যালয়ের সহকারী পরিদর্শক নাছির উদ্দীন আশরাফী। তিনি অভিযোগ করেন, তদন্ত চলাকালে প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানান। ফলে তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

ফেনী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ আগেই তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পূর্বের অভিযোগ ও নথিপত্র পুনরায় যাচাই-বাছাই করে অধিকতর তদন্তের জন্য একটি টিম গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু তদন্তে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না পাওয়ায় তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেন।

অভিযোগকারী শিক্ষক আবদুল লতিফ খোন্দকার বলেন, প্রধান শিক্ষকের দুর্নীতি আগেই প্রমাণিত হলেও একটি প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় তিনি রক্ষা পাচ্ছেন। এতে প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, আইনি জটিলতা সৃষ্টি করে এবং প্রভাব খাটিয়ে প্রধান শিক্ষক নিজেকে দায়মুক্ত রাখার চেষ্টা করছেন।

অন্যদিকে প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, একই তদন্ত কমিটি এর আগেও তদন্ত করেছে। তাই তিনি তদন্ত কমিটি পরিবর্তনের জন্য জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।

ধর্মপুর এডুকেশনাল এস্টেটের প্রাক্তন ছাত্র অ্যাডভোকেট মাহবুব মোশেদ বলেন, প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে। তিনি জানান, এর আগেও তিনি আইনি নোটিশ দিয়েছেন এবং প্রয়োজনে আবারও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে ফেনী জেলা শিক্ষা কার্যালয় প্রায় ৬০ লাখ টাকার অর্থ আত্মসাতের প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছিল বলে অভিযোগকারী পক্ষ দাবি করেছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত আইনি নিষ্পত্তি বা আদালতের কোনো রায় পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় ফুলগাজীসহ ফেনী জেলায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে স্থানীয়দের।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

রাতের আঁধারে শিকল কেটে মহিন শেখের ভ্যানগাড়ি চুরি

ধর্মপুর এডুকেশনাল এস্টেটের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগ

সময়: ১২:২৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

 

মহিউদ্দিন মহি খন্দকার | ফেনী প্রতিনিধি


ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ধর্মপুর এডুকেশনাল এস্টেটের প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এসব অভিযোগের তদন্তে গিয়ে তদন্ত কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেননি তিনি।

জানা গেছে, গত ২২ জুলাই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সরেজমিনে বিদ্যালয়ে যান ফেনী জেলা শিক্ষা কার্যালয়ের সহকারী পরিদর্শক নাছির উদ্দীন আশরাফী। তিনি অভিযোগ করেন, তদন্ত চলাকালে প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানান। ফলে তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

ফেনী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ আগেই তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পূর্বের অভিযোগ ও নথিপত্র পুনরায় যাচাই-বাছাই করে অধিকতর তদন্তের জন্য একটি টিম গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু তদন্তে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না পাওয়ায় তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেন।

অভিযোগকারী শিক্ষক আবদুল লতিফ খোন্দকার বলেন, প্রধান শিক্ষকের দুর্নীতি আগেই প্রমাণিত হলেও একটি প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় তিনি রক্ষা পাচ্ছেন। এতে প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, আইনি জটিলতা সৃষ্টি করে এবং প্রভাব খাটিয়ে প্রধান শিক্ষক নিজেকে দায়মুক্ত রাখার চেষ্টা করছেন।

অন্যদিকে প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, একই তদন্ত কমিটি এর আগেও তদন্ত করেছে। তাই তিনি তদন্ত কমিটি পরিবর্তনের জন্য জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।

ধর্মপুর এডুকেশনাল এস্টেটের প্রাক্তন ছাত্র অ্যাডভোকেট মাহবুব মোশেদ বলেন, প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে। তিনি জানান, এর আগেও তিনি আইনি নোটিশ দিয়েছেন এবং প্রয়োজনে আবারও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে ফেনী জেলা শিক্ষা কার্যালয় প্রায় ৬০ লাখ টাকার অর্থ আত্মসাতের প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছিল বলে অভিযোগকারী পক্ষ দাবি করেছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত আইনি নিষ্পত্তি বা আদালতের কোনো রায় পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় ফুলগাজীসহ ফেনী জেলায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে স্থানীয়দের।