Dhaka ০৬:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
সুনামগঞ্জে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা সম্পন্ন, সুরমা নদীতে প্রতিমা বিসর্জন রাঙ্গামাটিতে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে হাবীব আজম, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার আহ্বান নিরাপদ সড়ক চাইয়ের সংবাদ সম্মেলন:পাইকগাছায় এক বছরে ৬৩ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৮, আহত ৪৯ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে প্রটোকল ভঙ্গের অভিযোগ, রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ওএসডি পূর্বধলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে নারীকে মারধরের অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ ঠাকুরগাঁওয়ে ‘সহায়’-এর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ: ৫ টাকায় পূজার বাজার পেলেন ৩৫০ অসচ্ছল সনাতন ধর্মাবলম্বী ঠাকুরগাঁওয়ে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন মির্জা ফয়সল আমীন নজরুল বর্ষে আসছে জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক ও শিশুসাহিত্যিক তুলতুলের ‘ছোটদের নজরুল’ নবীনগরে সাংবাদিক রুহেলের ওপর কিশোর গ্যাংয়ের হামলা, গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকায় প্রেরণ ৩১ অক্টোবরের লংমার্চ উপলক্ষে ফুলতলা বাসস্ট্যান্ডের পথসভাকে জনসমুদ্রে পরিণত করতে হবে: অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ এমপি
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

“পীরগঞ্জে জমির দ্বৈত বিক্রি: ক্লাবের জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব ও মামলা”

 

সাকিব আহসান, প্রতিনিধি, পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও: পীরগঞ্জের একটি ঐতিহ্যবাহী সামাজিক প্রতিষ্ঠান গুডলাক ক্লাব আজ টিকে থাকার সংগ্রামে লিপ্ত। ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ক্লাব, যা ২০১১ সালে সরকারি নিবন্ধন লাভ করে, শুধু বিনোদন বা সভা নয় দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক বিকাশ, সমাজসেবা ও মানবিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু এখন এই ক্লাবের জমি ঘিরে চলছে এক ভয়াবহ বিরোধ।

 

 

পীরগঞ্জ পৌরশহরের ৭ নং ওয়ার্ড, গুয়াগাঁওয়ে অবস্থিত গুডলাক ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০০১–২০০২ সালে তারা ৮৪৬ দাগে ১.৫০ শতাংশ এবং ৮৪৭ দাগে ০.২৫ শতাংশ জমি বৈধভাবে ক্রয় করে। এই জমির উপরেই ক্লাবের স্থাপনা, বিভিন্ন জনসেবামূলক কার্যক্রম এবং স্থানীয় তরুণদের মিলনকেন্দ্র গড়ে ওঠে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে জমির কাগজে–কলমে নতুন মালিকের নাম ওঠাতে শুরু হয় বিশৃঙ্খলা। বিরোধীরা দাবি তোলে, ৮৪৭ দাগের অংশটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে ।

 

 

অথচ, মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বলে অন্য কথা।ওই অংশে আজও ক্লাবের সীমানা ও পুরনো স্থাপনার চিহ্ন দৃশ্যমান।বিতর্কের সূত্রপাত ২০০৯ সালে। জমির মূল মালিক জিয়াউর রহমান এক শতক জমি দেলোয়ার হোসেনের নিকট বিক্রি করেন। কিন্তু ২০২৫ সালে একই অবস্থান ও দাগ নম্বরের জমি পুনরায় বিক্রি করেন ফজলুর রহমানের কাছে। এই দ্বৈত বিক্রয় থেকেই সংঘাতের জন্ম। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয়।

 

 

পরিস্থিতি চরমে ওঠে ২০২৫ সালের ২১ অক্টোবর। জমি দখলের আশঙ্কায় ক্লাব কর্তৃপক্ষ আদালতের ১৪৪ ধারা জারির আদেশ নিয়ে আসে । কিন্তু ২৫ অক্টোবর মধ্যরাতে নেতৃত্বে একদল লোক আইন অমান্য করে ক্লাব প্রাঙ্গণে হামলার চেষ্টা চালায়। ক্লাবের সদস্যরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে তারা সরে যায়, কিন্তু পরদিনই শুরু হয় পাল্টা মামলা। দেলোয়ার হোসেনের পুত্র আফসান জানি হিমেল বাদি হয়ে আব্দুস সামাদ, মো. বাদশা, মমতাজ আলীসহ অজ্ঞাত ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

আরও পড়ুনঃ  শাহজালাল বিমানবন্দরের স্টোর ভবনে আগুনের খবর, ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস

 

 

এতেও থামেনি সহিংসতা। ঐ রাতেই ভোর চারটার দিকে ক্লাবে অগ্নিসংযোগ করা হয়,জ্বলে যায় নথিপত্র, ক্রীড়া উপকরণ ও আর্কাইভ। স্থানীয়দের মতে, এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত আগুন, যাতে প্রমাণ মুছে ফেলা যায়।ক্লাবের সভাপতি আব্দুস সামাদ বলেন, “প্রশাসনের সহযোগিতা পাচ্ছি না, নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। যারা আমাদের জমি দখল করতে চায়, তারা প্রভাবশালী; প্রশাসন নীরব।”

 

 

এই নীরবতা এখন প্রশ্নের মুখে। একটি নিবন্ধিত সামাজিক প্রতিষ্ঠান যখন বৈধ মালিকানা সত্ত্বেও নিজ সম্পত্তিতে অনুপ্রবেশ, হামলা ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয় তখন সেটি কেবল জমি বিরোধ নয়, বরং রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার নৈতিক ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

সুনামগঞ্জে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা সম্পন্ন, সুরমা নদীতে প্রতিমা বিসর্জন

“পীরগঞ্জে জমির দ্বৈত বিক্রি: ক্লাবের জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব ও মামলা”

সময়: ০৮:১১:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ নভেম্বর ২০২৫

 

সাকিব আহসান, প্রতিনিধি, পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও: পীরগঞ্জের একটি ঐতিহ্যবাহী সামাজিক প্রতিষ্ঠান গুডলাক ক্লাব আজ টিকে থাকার সংগ্রামে লিপ্ত। ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ক্লাব, যা ২০১১ সালে সরকারি নিবন্ধন লাভ করে, শুধু বিনোদন বা সভা নয় দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক বিকাশ, সমাজসেবা ও মানবিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু এখন এই ক্লাবের জমি ঘিরে চলছে এক ভয়াবহ বিরোধ।

 

 

পীরগঞ্জ পৌরশহরের ৭ নং ওয়ার্ড, গুয়াগাঁওয়ে অবস্থিত গুডলাক ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০০১–২০০২ সালে তারা ৮৪৬ দাগে ১.৫০ শতাংশ এবং ৮৪৭ দাগে ০.২৫ শতাংশ জমি বৈধভাবে ক্রয় করে। এই জমির উপরেই ক্লাবের স্থাপনা, বিভিন্ন জনসেবামূলক কার্যক্রম এবং স্থানীয় তরুণদের মিলনকেন্দ্র গড়ে ওঠে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে জমির কাগজে–কলমে নতুন মালিকের নাম ওঠাতে শুরু হয় বিশৃঙ্খলা। বিরোধীরা দাবি তোলে, ৮৪৭ দাগের অংশটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে ।

 

 

অথচ, মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বলে অন্য কথা।ওই অংশে আজও ক্লাবের সীমানা ও পুরনো স্থাপনার চিহ্ন দৃশ্যমান।বিতর্কের সূত্রপাত ২০০৯ সালে। জমির মূল মালিক জিয়াউর রহমান এক শতক জমি দেলোয়ার হোসেনের নিকট বিক্রি করেন। কিন্তু ২০২৫ সালে একই অবস্থান ও দাগ নম্বরের জমি পুনরায় বিক্রি করেন ফজলুর রহমানের কাছে। এই দ্বৈত বিক্রয় থেকেই সংঘাতের জন্ম। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয়।

 

 

পরিস্থিতি চরমে ওঠে ২০২৫ সালের ২১ অক্টোবর। জমি দখলের আশঙ্কায় ক্লাব কর্তৃপক্ষ আদালতের ১৪৪ ধারা জারির আদেশ নিয়ে আসে । কিন্তু ২৫ অক্টোবর মধ্যরাতে নেতৃত্বে একদল লোক আইন অমান্য করে ক্লাব প্রাঙ্গণে হামলার চেষ্টা চালায়। ক্লাবের সদস্যরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে তারা সরে যায়, কিন্তু পরদিনই শুরু হয় পাল্টা মামলা। দেলোয়ার হোসেনের পুত্র আফসান জানি হিমেল বাদি হয়ে আব্দুস সামাদ, মো. বাদশা, মমতাজ আলীসহ অজ্ঞাত ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

আরও পড়ুনঃ  রংপুর ও রাজশাহী সফর শেষে চট্টগ্রামের পথে প্রধানমন্ত্রী

 

 

এতেও থামেনি সহিংসতা। ঐ রাতেই ভোর চারটার দিকে ক্লাবে অগ্নিসংযোগ করা হয়,জ্বলে যায় নথিপত্র, ক্রীড়া উপকরণ ও আর্কাইভ। স্থানীয়দের মতে, এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত আগুন, যাতে প্রমাণ মুছে ফেলা যায়।ক্লাবের সভাপতি আব্দুস সামাদ বলেন, “প্রশাসনের সহযোগিতা পাচ্ছি না, নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। যারা আমাদের জমি দখল করতে চায়, তারা প্রভাবশালী; প্রশাসন নীরব।”

 

 

এই নীরবতা এখন প্রশ্নের মুখে। একটি নিবন্ধিত সামাজিক প্রতিষ্ঠান যখন বৈধ মালিকানা সত্ত্বেও নিজ সম্পত্তিতে অনুপ্রবেশ, হামলা ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয় তখন সেটি কেবল জমি বিরোধ নয়, বরং রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার নৈতিক ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি।