Dhaka ০৯:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
বীরগঞ্জে ধানক্ষেত থেকে কিশোরের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার নবীনগরে সুরসম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর ১৬৪তম জন্মবার্ষিকী আজ কালীগঞ্জে দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত শিবপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, দুই মিষ্টান্ন ভান্ডারকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা মধ্যরাত থেকে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা, সাগর ছাড়ছেন জেলেরা তাহিরপুরে ক্রিকেটের বল নিয়ে ৫ গ্রামের সংঘর্ষ, আহত ২০, বাড়িতে অগ্নিসংযোগ চন্দনাইশে ইউপি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী যাচাই-বাছাই কমিটির জরুরি সভা ও সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত কেশবপুরে পৃথক অভিযানে ৫ পিস ইয়াবাসহ দুই যুবক গ্রেপ্তার ডিমলায় আগাম আমন ধান ঘরে তোলার উৎসব পাইকগাছায় জমজমাট গদাইপুরের চারার হাট
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

বাংলাদেশ সোসাইটির তহবিলে ৯ লাখ ১৯ হাজার ডলার, আত্মসাতের অভিযোগ নাকচ

 

হাকিকুল ইসলাম খোকন, বাপসনিউজ


যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহৎ সামাজিক সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটির আর্থিক হিসাব, ব্যয় ও সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের জবাব দিয়েছে বর্তমান কার্যকরী পরিষদ। ২৮ সেপ্টেম্বর আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা দাবি করেন, অর্থ আত্মসাৎ বা ৭ লাখ ২৫ হাজার ডলার অপচয়ের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত হিসাব অনুযায়ী, বর্তমান পরিষদ দায়িত্ব নেওয়ার সময় সোসাইটির নিট আর্থিক স্থিতি ছিল প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজার ডলার। গত ২০ মাসে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা ও তহবিল সংগ্রহের পর বর্তমানে ব্যাংকে সোসাইটির গচ্ছিত অর্থের পরিমাণ ৯ লাখ ১৯ হাজার ডলার বলে দাবি করেন তারা।

নেতৃবৃন্দ জানান, সংগঠনের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, বাংলাদেশ সেন্টার কেনার উদ্যোগ, ভবনের বকেয়া ভায়োলেশন জরিমানা, ইফতার মাহফিলের ব্যয় এবং কর্মকর্তাদের নামে ইস্যু করা চেক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন প্রশ্ন ওঠায় এসব বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। তাদের দাবি, আয়-ব্যয় ও সংশ্লিষ্ট লেনদেনের পক্ষে প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও ব্যাংক স্টেটমেন্ট রয়েছে।

৭ লাখ ২৫ হাজার ডলার ব্যয়ের অভিযোগ নাকচ

বর্তমান কার্যকরী পরিষদের বিরুদ্ধে ৭ লাখ ২৫ হাজার ডলার আত্মসাৎ বা অপচয়ের যে অভিযোগ উঠেছে, তা প্রত্যাখ্যান করেন সোসাইটির নেতারা। তাদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, গত ২০ মাসে নিয়মিত পরিচালনা ও বিভিন্ন কার্যক্রমে মোট ব্যয় হয়েছে ৫ লাখ ২১ হাজার ৮৬৫ ডলার।

নেতৃবৃন্দের দাবি, এসব ব্যয়ের পক্ষে প্রয়োজনীয় দালিলিক প্রমাণ ও ব্যাংক স্টেটমেন্ট রয়েছে। তাদের মতে, ব্যয়ের হিসাব মূল্যায়নের ক্ষেত্রে পরিচালন ব্যয়, সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মসূচির খরচ এবং তহবিলে অবশিষ্ট অর্থ—সবকিছু বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

তবে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত আর্থিক তথ্যের স্বাধীন নিরীক্ষা প্রতিবেদন বা পূর্ণাঙ্গ আয়-ব্যয়ের বিবরণ জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ সেন্টারের ২ লাখ ডলার ফেরত

নিউইয়র্কের জ্যামাইকা এলাকায় বাংলাদেশ সেন্টার কেনার উদ্যোগ নিয়েও সংবাদ সম্মেলনে ব্যাখ্যা দেন নেতারা। তারা জানান, ভবনটি কেনার জন্য প্রাথমিক চুক্তির আওতায় ২ লাখ ডলার ডিপোজিট দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ভবনটির কিছু আইনি জটিলতা ও বিক্রেতার নির্ধারিত শর্ত পূরণ না হওয়ায় চুক্তিটি বাতিল করা হয়।

পরে ডিপোজিটের পুরো ২ লাখ ডলার সোসাইটির কাছে ফেরত এসেছে বলে দাবি করেন তারা। সম্ভাব্য আইনি ও আর্থিক ঝুঁকি বিবেচনায় সদস্যদের অর্থের নিরাপত্তার স্বার্থেই চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

৮২ হাজার ডলারের জরিমানা কমে ৩১ হাজার

বাংলাদেশ সোসাইটির ভবনের ভায়োলেশন ও জরিমানার বিষয়েও বিস্তারিত তুলে ধরেন নেতৃবৃন্দ। তাদের দাবি, পূর্ববর্তী কার্যকরী পরিষদের সময় থেকে চলে আসা প্রায় ৮২ হাজার ডলারের জরিমানা নিষ্পত্তির জন্য একটি পেশাদার প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে।

ইতিমধ্যে জরিমানার পরিমাণ কমিয়ে প্রায় ৩১ হাজার ডলারে আনা সম্ভব হয়েছে বলে তারা জানান। অবশিষ্ট অর্থ আরও কমানো বা মওকুফের জন্য আলোচনা চলছে বলেও জানান নেতারা।

আটটি ইফতার মাহফিলে ব্যয় ৮৯ হাজার ডলার

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত দুই বছরে সোসাইটির উদ্যোগে চারটি অঞ্চলে মোট আটটি ইফতার মাহফিল আয়োজন করা হয়েছে। এসব আয়োজনে মোট ব্যয় হয়েছে ৮৯ হাজার ডলার। এর মধ্যে স্পন্সর ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে পাওয়া গেছে প্রায় ৪২ হাজার ৭৭০ ডলার।

নেতৃবৃন্দের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, স্পন্সরদের অর্থ বাদ দেওয়ার পর সোসাইটির নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় হয়েছে ৪৬ হাজার ৪৩০ ডলার। অর্থাৎ প্রতিটি ইফতার মাহফিলে সোসাইটির নিজস্ব তহবিল থেকে গড়ে ব্যয় হয়েছে ৫ হাজার ৮০৩ ডলার ৭৫ সেন্ট।

তাদের ভাষ্য, প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এসব আয়োজন করা হয়।

কর্মকর্তাদের নামে চেক ইস্যুর ব্যাখ্যা

সোসাইটির কর্মকর্তাদের নামে ইস্যু করা চেক নিয়েও ব্যাখ্যা দেন নেতারা। তারা জানান, বিভিন্ন জরুরি কেনাকাটা ও সাংগঠনিক প্রয়োজনে কোনো কর্মকর্তা ব্যক্তিগত অর্থ অগ্রিম ব্যয় করলে পরবর্তী সময়ে বৈধ ভাউচার ও সংশ্লিষ্ট হিসাব যাচাই করে সেই অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে। হিসাবরক্ষণে এ ধরনের অর্থ ফেরতকে রিইম্বার্সমেন্ট হিসেবে দেখানো হয়।

তাদের দাবি, ব্যক্তিগতভাবে অগ্রিম দেওয়া অর্থের বিপরীতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করেই এসব চেক ইস্যু করা হয়েছে। তবে লেনদেনগুলোর পূর্ণাঙ্গ হিসাব ও ভাউচার জনসমক্ষে প্রকাশ করা হলে বিষয়টি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে।

সদস্যসংখ্যা ১৮ হাজার থেকে বেড়ে ৩৫ হাজারের বেশি

সাংগঠনিক অগ্রগতির তথ্য তুলে ধরে নেতৃবৃন্দ জানান, বর্তমান কার্যকরী পরিষদ দায়িত্ব নেওয়ার সময় বাংলাদেশ সোসাইটির নিবন্ধিত সদস্যসংখ্যা ছিল প্রায় ১৮ হাজার। বর্তমানে তা বেড়ে ৩৫ হাজার ছাড়িয়েছে।

তাদের মতে, সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধি সংগঠনের প্রতি প্রবাসীদের আগ্রহ ও অংশগ্রহণের প্রতিফলন। বৃহত্তর বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে ঐক্য সুদৃঢ় করা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা তাদের অন্যতম লক্ষ্য।

বিভ্রান্তিকর তথ্য না ছড়ানোর আহ্বান

সংবাদ সম্মেলনের সমাপনী বক্তব্যে সংগঠনের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান শাহ নেওয়াজ, সভাপতি ও সেলিম-আলী পরিষদের সভাপতি পদপ্রার্থী আতাউর রহমান সেলিম এবং সাধারণ সম্পাদক ও একই পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মোহাম্মদ আলী বক্তব্য দেন।

তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য প্রচারের আগে তার সত্যতা যাচাই করার আহ্বান জানান। তাদের মতে, যাচাইবিহীন অভিযোগ ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংগঠনটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে। ব্যক্তিগত বিরোধ বা মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে সংগঠনের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপরও তারা গুরুত্বারোপ করেন।

নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশ সোসাইটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঐক্য, পরিচয় ও পারস্পরিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। সংগঠনকে আরও শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপযোগী করে গড়ে তুলতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য, সেলিম-আলী পরিষদের নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন পদপ্রার্থী, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

বীরগঞ্জে ধানক্ষেত থেকে কিশোরের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

বাংলাদেশ সোসাইটির তহবিলে ৯ লাখ ১৯ হাজার ডলার, আত্মসাতের অভিযোগ নাকচ

সময়: ০৫:৫৪:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

 

হাকিকুল ইসলাম খোকন, বাপসনিউজ


যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহৎ সামাজিক সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটির আর্থিক হিসাব, ব্যয় ও সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের জবাব দিয়েছে বর্তমান কার্যকরী পরিষদ। ২৮ সেপ্টেম্বর আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা দাবি করেন, অর্থ আত্মসাৎ বা ৭ লাখ ২৫ হাজার ডলার অপচয়ের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত হিসাব অনুযায়ী, বর্তমান পরিষদ দায়িত্ব নেওয়ার সময় সোসাইটির নিট আর্থিক স্থিতি ছিল প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজার ডলার। গত ২০ মাসে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা ও তহবিল সংগ্রহের পর বর্তমানে ব্যাংকে সোসাইটির গচ্ছিত অর্থের পরিমাণ ৯ লাখ ১৯ হাজার ডলার বলে দাবি করেন তারা।

নেতৃবৃন্দ জানান, সংগঠনের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, বাংলাদেশ সেন্টার কেনার উদ্যোগ, ভবনের বকেয়া ভায়োলেশন জরিমানা, ইফতার মাহফিলের ব্যয় এবং কর্মকর্তাদের নামে ইস্যু করা চেক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন প্রশ্ন ওঠায় এসব বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। তাদের দাবি, আয়-ব্যয় ও সংশ্লিষ্ট লেনদেনের পক্ষে প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও ব্যাংক স্টেটমেন্ট রয়েছে।

৭ লাখ ২৫ হাজার ডলার ব্যয়ের অভিযোগ নাকচ

বর্তমান কার্যকরী পরিষদের বিরুদ্ধে ৭ লাখ ২৫ হাজার ডলার আত্মসাৎ বা অপচয়ের যে অভিযোগ উঠেছে, তা প্রত্যাখ্যান করেন সোসাইটির নেতারা। তাদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, গত ২০ মাসে নিয়মিত পরিচালনা ও বিভিন্ন কার্যক্রমে মোট ব্যয় হয়েছে ৫ লাখ ২১ হাজার ৮৬৫ ডলার।

নেতৃবৃন্দের দাবি, এসব ব্যয়ের পক্ষে প্রয়োজনীয় দালিলিক প্রমাণ ও ব্যাংক স্টেটমেন্ট রয়েছে। তাদের মতে, ব্যয়ের হিসাব মূল্যায়নের ক্ষেত্রে পরিচালন ব্যয়, সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মসূচির খরচ এবং তহবিলে অবশিষ্ট অর্থ—সবকিছু বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

তবে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত আর্থিক তথ্যের স্বাধীন নিরীক্ষা প্রতিবেদন বা পূর্ণাঙ্গ আয়-ব্যয়ের বিবরণ জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ সেন্টারের ২ লাখ ডলার ফেরত

নিউইয়র্কের জ্যামাইকা এলাকায় বাংলাদেশ সেন্টার কেনার উদ্যোগ নিয়েও সংবাদ সম্মেলনে ব্যাখ্যা দেন নেতারা। তারা জানান, ভবনটি কেনার জন্য প্রাথমিক চুক্তির আওতায় ২ লাখ ডলার ডিপোজিট দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ভবনটির কিছু আইনি জটিলতা ও বিক্রেতার নির্ধারিত শর্ত পূরণ না হওয়ায় চুক্তিটি বাতিল করা হয়।

পরে ডিপোজিটের পুরো ২ লাখ ডলার সোসাইটির কাছে ফেরত এসেছে বলে দাবি করেন তারা। সম্ভাব্য আইনি ও আর্থিক ঝুঁকি বিবেচনায় সদস্যদের অর্থের নিরাপত্তার স্বার্থেই চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

৮২ হাজার ডলারের জরিমানা কমে ৩১ হাজার

বাংলাদেশ সোসাইটির ভবনের ভায়োলেশন ও জরিমানার বিষয়েও বিস্তারিত তুলে ধরেন নেতৃবৃন্দ। তাদের দাবি, পূর্ববর্তী কার্যকরী পরিষদের সময় থেকে চলে আসা প্রায় ৮২ হাজার ডলারের জরিমানা নিষ্পত্তির জন্য একটি পেশাদার প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে।

ইতিমধ্যে জরিমানার পরিমাণ কমিয়ে প্রায় ৩১ হাজার ডলারে আনা সম্ভব হয়েছে বলে তারা জানান। অবশিষ্ট অর্থ আরও কমানো বা মওকুফের জন্য আলোচনা চলছে বলেও জানান নেতারা।

আটটি ইফতার মাহফিলে ব্যয় ৮৯ হাজার ডলার

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত দুই বছরে সোসাইটির উদ্যোগে চারটি অঞ্চলে মোট আটটি ইফতার মাহফিল আয়োজন করা হয়েছে। এসব আয়োজনে মোট ব্যয় হয়েছে ৮৯ হাজার ডলার। এর মধ্যে স্পন্সর ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে পাওয়া গেছে প্রায় ৪২ হাজার ৭৭০ ডলার।

নেতৃবৃন্দের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, স্পন্সরদের অর্থ বাদ দেওয়ার পর সোসাইটির নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় হয়েছে ৪৬ হাজার ৪৩০ ডলার। অর্থাৎ প্রতিটি ইফতার মাহফিলে সোসাইটির নিজস্ব তহবিল থেকে গড়ে ব্যয় হয়েছে ৫ হাজার ৮০৩ ডলার ৭৫ সেন্ট।

তাদের ভাষ্য, প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এসব আয়োজন করা হয়।

কর্মকর্তাদের নামে চেক ইস্যুর ব্যাখ্যা

সোসাইটির কর্মকর্তাদের নামে ইস্যু করা চেক নিয়েও ব্যাখ্যা দেন নেতারা। তারা জানান, বিভিন্ন জরুরি কেনাকাটা ও সাংগঠনিক প্রয়োজনে কোনো কর্মকর্তা ব্যক্তিগত অর্থ অগ্রিম ব্যয় করলে পরবর্তী সময়ে বৈধ ভাউচার ও সংশ্লিষ্ট হিসাব যাচাই করে সেই অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে। হিসাবরক্ষণে এ ধরনের অর্থ ফেরতকে রিইম্বার্সমেন্ট হিসেবে দেখানো হয়।

তাদের দাবি, ব্যক্তিগতভাবে অগ্রিম দেওয়া অর্থের বিপরীতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করেই এসব চেক ইস্যু করা হয়েছে। তবে লেনদেনগুলোর পূর্ণাঙ্গ হিসাব ও ভাউচার জনসমক্ষে প্রকাশ করা হলে বিষয়টি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে।

সদস্যসংখ্যা ১৮ হাজার থেকে বেড়ে ৩৫ হাজারের বেশি

সাংগঠনিক অগ্রগতির তথ্য তুলে ধরে নেতৃবৃন্দ জানান, বর্তমান কার্যকরী পরিষদ দায়িত্ব নেওয়ার সময় বাংলাদেশ সোসাইটির নিবন্ধিত সদস্যসংখ্যা ছিল প্রায় ১৮ হাজার। বর্তমানে তা বেড়ে ৩৫ হাজার ছাড়িয়েছে।

তাদের মতে, সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধি সংগঠনের প্রতি প্রবাসীদের আগ্রহ ও অংশগ্রহণের প্রতিফলন। বৃহত্তর বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে ঐক্য সুদৃঢ় করা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা তাদের অন্যতম লক্ষ্য।

বিভ্রান্তিকর তথ্য না ছড়ানোর আহ্বান

সংবাদ সম্মেলনের সমাপনী বক্তব্যে সংগঠনের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান শাহ নেওয়াজ, সভাপতি ও সেলিম-আলী পরিষদের সভাপতি পদপ্রার্থী আতাউর রহমান সেলিম এবং সাধারণ সম্পাদক ও একই পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মোহাম্মদ আলী বক্তব্য দেন।

তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য প্রচারের আগে তার সত্যতা যাচাই করার আহ্বান জানান। তাদের মতে, যাচাইবিহীন অভিযোগ ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংগঠনটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে। ব্যক্তিগত বিরোধ বা মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে সংগঠনের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপরও তারা গুরুত্বারোপ করেন।

নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশ সোসাইটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঐক্য, পরিচয় ও পারস্পরিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। সংগঠনকে আরও শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপযোগী করে গড়ে তুলতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য, সেলিম-আলী পরিষদের নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন পদপ্রার্থী, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।