Dhaka ০৫:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
বাংলা প্রেসক্লাব বার্মিংহাম, মিডল্যান্ডসের কার্যকরী পরিষদ এর দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত বিএনপির চক্রান্ত ফাঁস, দাম বাড়াতেই তেল ছাড়ছিল না সরকার! সেবা, নাকি প্রহসন? জ্বালানি তেলের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি: জনজীবন যখন দিশেহারা ইবিতে খালেদা জিয়াকে অবমাননার অভিযোগ: শিক্ষার্থীদের দুঃখপ্রকাশ রাজশাহীতে আমের বাম্পার ফলনের আশা কৃষকের ওয়াইফাই সার্ভিসে অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎপৃষ্টে তরুণের মৃত্যু অনুমতি ছাড়া বিদেশে চিকিৎসক, ব্যাহত স্বাস্থ্যসেবা কাপনা মাদ্রাসার শিক্ষক লতিফকে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে আদালত বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ ফাউন্ডেশন রাঙ্গামাটি জেলার আয়োজনে শাহাদাত বার্ষিকী আলোচনা মিলাদ অনুষ্ঠিত হয়েছে
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

বোয়ালমারীতে সালিশি বসার আগেই দোকানে তালা

  • Reporter Name
  • সময়: ০২:৫০:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
  • ২১ Time View

 

মো:মিজানুর রহমান (মিজান মৃধা),
ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি:


ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের কমলেশ্বরদী গ্রামে মাওলানা বিল্লাল হোসেন ও জব্বার আলীর মধ্যে জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। বিরোধ মেটাতে গত শুক্রবার সকালে এক সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টায় সালিশ হওয়ার কথা থাকলেও বিল্লাল হোসেনের লোকজন সাড়ে ৮টায় সালিশ বৈঠকে হাজির হয়। এ দিকে বিল্লাল হোসেনের লোকজন জব্বার হোসেনের লোকজনের দোকান ঘরে তালা মেরে দেয়। প্রতিপক্ষ সময় মতো এসে দেখে তাদের ১০/১২ টি দোকান ঘরে তালা দেওয়া। সালিশ পক্ষের লোকজনের সাথে যোগাযোগ করে তালা দেওয়ার কারণ জানতে চেষ্টা করে এবং তালা খুলে দেয়ার অনুরোধ জানায়। ঘটনার একদিন অতিবাহিত হওয়ার পরও তালা খুলে না দেওয়ায় পরের দিন ১৮ এপ্রিল সন্ধ্যায় ঘর মালিকরা তালা খুলে দোকানদারি শুরু করেন।

তালা খুলার খবর পেয়ে বিল্লাল হোসেনের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দোকান ঘরে আক্রমণ করে। এ সময় দোকানদাররা বাধা দিতে গেলে রিমন হোসেন, আরিফ খালাসী, হামজা চৌধুরী, চয়ন মোল্যা, ইদ্রিস শেখ সহ আরো অনেকরেই বেধড়ক মারপিট করে আহত করে। আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এসে ভর্তি করে। অবস্থা বেগতিক দেখে বিল্লাল গংরা পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে ষড়যন্ত্র করে।সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান মো: মোশারফ হোসেনকে দোষারোপ করে আওয়ামী লীগ তকমা লাগিয়ে বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে ভাংচুর করে বিল্লাল গংরা। তারা নিজেরা অফিস ভাঙচুর করে, অফিস ভাঙচুরের প্রচারণা চালায় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে এমন কৌশল অবলম্বন করছে বলে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান।

অবশ্য বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, বিগত সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলামের পক্ষে চেয়ারম্যান মেম্বাররা ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নিয়ে তার পক্ষে কাজ করেন। এলাকাবাসী জানায়, জমিজমা বিরোধকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে আওয়ামী বিএনপি দ্বন্দ্বের তকমা দিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে অপপ্রচার ছড়াচ্ছে। তবে মারামারির সময় ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোশারফ হোসেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না।জব্বার আলী জানান, বিল্লালের লোকজন আমাদের দোকান ঘরে তালা দিয়েছিল। ঘর মালিকরা তালা খুলে দেওয়ায় তাদের উপরে হামলা করে তাদের আহত করে। এ সময় তাদের সাথে হাতাহাতি মারামারি হয়। বিল্লালের লোকজনরা আমাদের ফাঁসাতে বিএনপির অফিস ভাঙচুর করে আমাদের নামে প্রচারণা চালায়। আমাদের লোকজনরা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। এদিকে বিল্লাল হোসেন জানায়, প্রতিপক্ষের লোকজন আমাদের লোকজনকে বেদম প্রহর করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  বুড়িচংয়ে অবৈধ মজুদ করা ২৫০০ লিটার তেল জব্দ; নিলামে বিক্রি

বোয়ালমারী থানা অফিসার ইনচার্জ মো: আনোয়ার হোসেন বলেন, জমিজমা নিয়ে মারামারি হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করেছেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

বাংলা প্রেসক্লাব বার্মিংহাম, মিডল্যান্ডসের কার্যকরী পরিষদ এর দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত

বোয়ালমারীতে সালিশি বসার আগেই দোকানে তালা

সময়: ০২:৫০:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

 

মো:মিজানুর রহমান (মিজান মৃধা),
ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি:


ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের কমলেশ্বরদী গ্রামে মাওলানা বিল্লাল হোসেন ও জব্বার আলীর মধ্যে জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। বিরোধ মেটাতে গত শুক্রবার সকালে এক সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টায় সালিশ হওয়ার কথা থাকলেও বিল্লাল হোসেনের লোকজন সাড়ে ৮টায় সালিশ বৈঠকে হাজির হয়। এ দিকে বিল্লাল হোসেনের লোকজন জব্বার হোসেনের লোকজনের দোকান ঘরে তালা মেরে দেয়। প্রতিপক্ষ সময় মতো এসে দেখে তাদের ১০/১২ টি দোকান ঘরে তালা দেওয়া। সালিশ পক্ষের লোকজনের সাথে যোগাযোগ করে তালা দেওয়ার কারণ জানতে চেষ্টা করে এবং তালা খুলে দেয়ার অনুরোধ জানায়। ঘটনার একদিন অতিবাহিত হওয়ার পরও তালা খুলে না দেওয়ায় পরের দিন ১৮ এপ্রিল সন্ধ্যায় ঘর মালিকরা তালা খুলে দোকানদারি শুরু করেন।

তালা খুলার খবর পেয়ে বিল্লাল হোসেনের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দোকান ঘরে আক্রমণ করে। এ সময় দোকানদাররা বাধা দিতে গেলে রিমন হোসেন, আরিফ খালাসী, হামজা চৌধুরী, চয়ন মোল্যা, ইদ্রিস শেখ সহ আরো অনেকরেই বেধড়ক মারপিট করে আহত করে। আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এসে ভর্তি করে। অবস্থা বেগতিক দেখে বিল্লাল গংরা পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে ষড়যন্ত্র করে।সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান মো: মোশারফ হোসেনকে দোষারোপ করে আওয়ামী লীগ তকমা লাগিয়ে বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে ভাংচুর করে বিল্লাল গংরা। তারা নিজেরা অফিস ভাঙচুর করে, অফিস ভাঙচুরের প্রচারণা চালায় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে এমন কৌশল অবলম্বন করছে বলে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান।

অবশ্য বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, বিগত সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলামের পক্ষে চেয়ারম্যান মেম্বাররা ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নিয়ে তার পক্ষে কাজ করেন। এলাকাবাসী জানায়, জমিজমা বিরোধকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে আওয়ামী বিএনপি দ্বন্দ্বের তকমা দিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে অপপ্রচার ছড়াচ্ছে। তবে মারামারির সময় ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোশারফ হোসেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না।জব্বার আলী জানান, বিল্লালের লোকজন আমাদের দোকান ঘরে তালা দিয়েছিল। ঘর মালিকরা তালা খুলে দেওয়ায় তাদের উপরে হামলা করে তাদের আহত করে। এ সময় তাদের সাথে হাতাহাতি মারামারি হয়। বিল্লালের লোকজনরা আমাদের ফাঁসাতে বিএনপির অফিস ভাঙচুর করে আমাদের নামে প্রচারণা চালায়। আমাদের লোকজনরা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। এদিকে বিল্লাল হোসেন জানায়, প্রতিপক্ষের লোকজন আমাদের লোকজনকে বেদম প্রহর করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  বুড়িচংয়ে অবৈধ মজুদ করা ২৫০০ লিটার তেল জব্দ; নিলামে বিক্রি

বোয়ালমারী থানা অফিসার ইনচার্জ মো: আনোয়ার হোসেন বলেন, জমিজমা নিয়ে মারামারি হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করেছেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।