
আব্দুল জব্বার, ঠাকুরগাঁও:
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো থাকলেও গাইনি ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে প্রায় ৯ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে সিজারিয়ান (সিজার) সেবা। ফলে, সরকারী সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন গর্ভবতী মায়েরা, এবং বেসরকারি ক্লিনিকে তাদের চিকিৎসা নেওয়ার জন্য বাড়ছে আর্থিক চাপ।
স্বাভাবিক প্রসবের সেবা চালু থাকলেও জরুরি সিজারিয়ান অপারেশন দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, ওটি এবং এনেস্থেসিয়া সুবিধা থাকা সত্ত্বেও গাইনি বিশেষজ্ঞের অভাবে এটি চালু করা যাচ্ছে না। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ফিরোজ আলম জানান, “ওটি চালুর জন্য সব কিছু প্রস্তুত, তবে গাইনি বিশেষজ্ঞ না থাকায় অপারেশন সম্ভব হচ্ছে না।”
এদিকে, স্থানীয় বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে সিজারিয়ান অপারেশন চলছে, এবং মার্চ মাসে ২২০টি সিজার অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে। এতে বাড়ছে চিকিৎসা খরচ এবং বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। এক গর্ভবতী নারীর স্বজন জানান, “সরকারি হাসপাতালে সব ব্যবস্থা থাকার পরেও সিজার না হওয়ার কারণে সাধারণ মানুষের জন্য এটি অত্যন্ত কষ্টের। বেসরকারি ক্লিনিকের খরচ অনেক বেশি।”
প্রসূতি সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় স্থানীয়দের অভিযোগ, জরুরি রোগীদের অন্যত্র পাঠানোর কারণে মা ও নবজাতকের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল আহামেদ বলেন, “গাইনি বিশেষজ্ঞের পদ শূন্য থাকায় দ্রুত নিয়োগের মাধ্যমে সিজার সেবা চালু করা সম্ভব হবে।”
স্থানীয়দের আশ্বাস, গাইনি চিকিৎসক নিয়োগ হলে সিজার সেবা দ্রুত পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে, এবং সেবা গ্রহণের জন্য গর্ভবতী মায়েরা আর বেসরকারি ক্লিনিকের শরণাপন্ন হতে হবে না।
Reporter Name 
























