মো. গোলাম কিবরিয়া, রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি
পূজার দাওয়াত খেয়ে ক্যাম্পাসে ফেরার পথে ট্রাকের ধাক্কায় গুরুতর আহত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থী চেসি ত্রিপুরা মারা গেছেন। রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে চেসি ত্রিপুরার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এএইচএম খুরশীদ আলম। তিনি জানান, রাত ১১টা ৭ মিনিটে চিকিৎসকেরা চেসির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
চেসি ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গায়।
যেভাবে দুর্ঘটনার শিকার হন চেসি
গত ১৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় রাজশাহীর বাঘমারা থেকে ক্যাম্পাসে ফেরার পথে অটোরিকশার সঙ্গে ট্রাকের সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন চেসি ত্রিপুরা। এতে তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হয়।
দুর্ঘটনার পর তাঁকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে তাঁকে ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মস্তিষ্কের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
উপাচার্যের শোক প্রকাশ
চেসি ত্রিপুরার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম।
বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘চেসিকে বাঁচাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। এর বাইরেও কিছু করার সুযোগ থাকলে আমরা অবশ্যই করতাম।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্য আরও বলেন, ‘আমার শিক্ষার্থীদের প্রতি অনুরোধ, আপনারা সবাই সাবধানে চলাফেরা করবেন। নিজেদের খেয়াল রাখবেন, নিরাপদে থাকবেন। দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে আমরা সবসময় শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে এবং নিজেদের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে চেষ্টা করতে প্রস্তুত।’
সহপাঠীদের স্মৃতিতে চেসি
চেসি ত্রিপুরার মৃত্যুতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহপাঠী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাঁকে স্মরণ করে আবেগঘন বার্তা দিচ্ছেন।
তাঁর সহপাঠী রবিউল আলম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘বোন আমার, আর কোনো দিন দেখা হবে না। এক করিডরে হাঁটা হবে না। ল্যাবে কাজ করা হবে না। পাহাড়ি খাবার খাওয়া হবে না। ভালো থাকিস ওপারে বোন আমার।’
আরেক শিক্ষার্থী শোক প্রকাশ করে লিখেছেন, চেসিকে বাঁচানোর আশায় যাঁরা অপেক্ষা করছিলেন, তাঁদের এই অপূরণীয় ক্ষতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।
চেসি ত্রিপুরার মৃত্যুতে তাঁর পরিবার, স্বজন, সহপাঠী ও বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন সহপাঠী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
Reporter Name 




























