
দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও শোকের জন্ম দিয়েছে ছোট্ট শিশু রামিসাকে ঘিরে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড। মানবিকতা, বিশ্বাস ও সামাজিক নিরাপত্তাবোধ—সবকিছুকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে এই ঘটনা।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সকালে অভিযুক্ত সোহেল পরিকল্পিতভাবে শিশুটিকে বাসার ভেতরে নিয়ে যায়। এ সময় তার সঙ্গে আরও একজন সহযোগী ছিল বলে জানা গেছে। শিশুটি চিৎকার করলে তার মুখ বেঁধে ফেলা হয়। পরে তাকে একটি বাথরুমে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে শিশুটি অচেতন হয়ে পড়লে তাকে হত্যা করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

জিজ্ঞাসাবাদকারী তদন্ত কর্মকর্তা অহিদুজ্জামান ভূঁইয়া রিপনের ভাষ্যমতে, ঘটনার সময় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না পাশের একটি কক্ষে ছিলেন। পরে স্থানীয়দের সন্দেহ ও হৈচৈ শুরু হলে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্তরা পালিয়ে যাওয়ার সময় তাদের সহায়তা করা হয়।
ঘটনার পর মরদেহ গুম করার চেষ্টার অভিযোগও উঠে এসেছে। স্থানীয়রা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে অভিযুক্তরা জানালার গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে। পরে বাসার ভেতর থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এই ঘটনার নৃশংসতা পুরো সমাজকে আতঙ্কিত করে তুলেছে। বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে অভিভাবকদের মধ্যে। পরিচিত মানুষ, প্রতিবেশী কিংবা আত্মীয়—কারও ওপর অন্ধ বিশ্বাস কতটা ভয়াবহ হতে পারে, সেটিও আবার সামনে চলে এসেছে।

শিশু নিরাপত্তায় যা জরুরি
শিশুদের একা কোথাও যেতে না দেওয়া
পরিচিত হলেও সতর্ক থাকা
সন্তান কার সঙ্গে মিশছে সেদিকে নজর রাখা
সন্দেহজনক আচরণ দেখলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো
শিশুদের “সেফ টাচ” ও “আনসেফ টাচ” সম্পর্কে সচেতন করা
একটি সভ্য সমাজে কোনো শিশুর এমন নির্মম পরিণতি মেনে নেওয়া যায় না। রামিসার জন্য বিচার এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা—এটাই এখন সবার দাবি।
Reporter Name 






















