Dhaka ০১:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
সুনীল অর্থনীতিভিত্তিক নতুন বিশ্ববিদ্যালয়-অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান -ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়- বীরগঞ্জে কবিরাজহাট ভাবকি কেএফটি ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন পরিকল্পিত সন্ত্রাস-নৈরাজ্যের প্রতিবাদে পলাশবাড়ীতে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ সাংবাদিককে হত্যা মামলায় আসামি করার অভিযোগের প্রতিবাদ চেয়ারম্যানের পলাশবাড়ীতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বসতবাড়িতে হামলা-হুমকির অভিযোগ জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অপ্রতিমের নির্মম মৃত্যু: আইফোন হাতে বেরিয়ে আর ঘরে ফেরা হলো না অপ্রতিম হত্যা মামলায় আসামিদের পক্ষে আইনজীবী না দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত বাংলাদেশে নিজেকে নিরাপদ মনে করি না: তানজিন তিশা ফায়ার সার্ভিসের নতুন ডিজি সুলতানুল আফরীন জুনায়েদ
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

সুনীল অর্থনীতিভিত্তিক নতুন বিশ্ববিদ্যালয়-অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান -ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-

  • Reporter Name
  • সময়: ১১:২৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৭ Time View

 

গত ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী মহোদয় রাজধানী ঢাকাতে আয়োজিত এক সেমিনারে কক্সবাজারে “ইউনিভার্সিটি অব ব্লু ইকোনমি সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজি” (UBEST) নামে একটি নতুন বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সরকারি পরিকল্পনার কথা ব্যক্ত করেন। এই প্রকল্পে চীন সরকার সরাসরি অর্থায়ন ও কারিগরি সহযোগিতা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে নতুন আরেকটি স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল, সময়সাপেক্ষ এবং নতুন প্রশাসনিক জটিলতার জন্ম দেয়। বর্তমান প্রতিবেদনে বিদ্যমান দুটি শীর্ষস্থানীয় মেরিটাইম ও সমুদ্র গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা মূল্যায়ন করে তাদের একীভূতকরণের মাধ্যমে একটি সাশ্রয়ী, সমন্বিত ও আন্তর্জাতিক মানের মেগা-প্রকল্প বাস্তবায়নের বিকল্প প্রস্তাবনা চিন্তা করা যেতে পারে।
নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ব্যতিরেকে বিদ্যমান বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি (পূর্বতন নাম- ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি’) এবং ‘বাংলাদেশ ওশেনোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট (BORI)’-এর সমন্বয়ে চীনা সহযোগিতায় একটি বৈশ্বিক মানের ‘সুনীল অর্থনীতি উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা হাব’ গঠন সম্ভব ।

বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানসমূহের ইতিহাস ও বর্তমান অবস্থা
ক) বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি (পূর্ববর্তী নাম-বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি (BSMRMU)
ইতিহাস: এটি ২০১৩ সালের ২৬ অক্টোবর বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের একটি আইনের মাধ্যমে দেশের ১ম এবং এশিয়ার ৩য় বিশেষায়িত মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
বর্তমান অবস্থা: বর্তমানে ঢাকার মিরপুরে এর অস্থায়ী ক্যাম্পাসে ৫টি অনুষদের অধীনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। চট্টগ্রামের বাকলিয়ার হামিদচরে কর্ণফুলী নদীর তীরে ১০৬.৬৬ একর জমিতে এর অত্যাধুনিক স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণাধীন রয়েছে, যার পাইলিং ও অবকাঠামোগত কাজ ৯০%-এর বেশি সম্পন্ন এবং ২০২৬ সালের মধ্যে আংশিক স্থানান্তরের লক্ষ্য রয়েছে। এখানে সমুদ্রবিদ্যা, নৌ-স্থাপত্য, এবং পোর্ট ম্যানেজমেন্টের মতো টেকনিক্যাল বিষয়ে ১,০৫০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত।

খ) বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট (BORI)
ইতিহাস: সমুদ্র সম্পদ অনুসন্ধান ও গবেষণার জন্য ২০১৫ সালে কক্সবাজারের রামুতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেশের একমাত্র জাতীয় সমুদ্র গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ‘BORI’ যাত্রা শুরু করে।
বর্তমান অবস্থা: এটি বর্তমানে আধুনিক ল্যাবরেটরি, গভীর সমুদ্র গবেষণার বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি এবং ডেটা অ্যানালিটিক্স সুবিধায় সমৃদ্ধ। এখানে ওশেনোগ্রাফি, সামুদ্রিক জীববিদ্যা, খনিজ সম্পদ এবং জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে সরাসরি মাঠপর্যায়ে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা কার্যক্রম চলমান।
পৃথক নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ
একটি সম্পূর্ণ নতুন বিশ্ববিদ্যালয় (UBEST) স্থাপন করতে গেলে রাষ্ট্রকে নিম্নেবর্ণিত চ্যালেঞ্জসমূহের মুখোমুখি হতে হবে:
১. বিপুল আর্থিক ব্যয়: নতুন করে শত একর ভূমি অধিগ্রহণ, একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন, উপাচার্য ভবন, আবাসিক হল এবং ল্যাবরেটরি নির্মাণে কয়েক হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত বাজেটের প্রয়োজন হবে।
২. আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রিতা: নতুন উপাচার্য, সিন্ডিকেট, ইউজিসি (UGC) অনুমোদন এবং সম্পূর্ণ নতুন ক্যাডারের জনবল নিয়োগ দিতে অন্তত ৩ থেকে ৫ বছর সময় অপচয় হবে।
৩. দক্ষ শিক্ষকের অভাব: বাংলাদেশে সমুদ্রবিজ্ঞান ও ব্লু-ইকোনমি খাতে উচ্চতর ডক্টরেটধারী শিক্ষকের সংখ্যা সীমিত। নতুন আরেকটি বিশ্ববিদ্যালয় হলে শিক্ষক সংকট তীব্র আকার ধারণ করবে। তাছাড়া বাংলাদেশে যে হারে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পরিচালনার জন্য উপযুক্ত উপাচার্য পাওয়া প্রায় অসম্ভব ।

আরও পড়ুনঃ  জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি: জনজীবনে নতুন সংকট সৃষ্টি করবে—জেএসএফ-বাংলাদেশ

নতুন আরেকটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার চ্যালেঞ্জ বিবেচনা করলে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় না করে “বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি”-এর প্রাতিষ্ঠানিক আমব্রেলা বা কাঠামোর অধীনেই চীনা সহযোগিতা সফলভাবে কাজে লাগানো সম্ভব। এক্ষেত্রে ‘সাংহাই ওশান ইউনিভার্সিটি’র অভিজ্ঞতা সবচেয়ে বেশি কাজে আসতে পারে ।
প্রস্তাবনার পক্ষে যুক্তি
* বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের চট্টগ্রামের স্থায়ী ক্যাম্পাস (শিক্ষা ও প্রশাসন) এবং কক্সবাজারের BORI ল্যাব (ব্যবহারিক গবেষণা)—এই দুইয়ের ভৌগোলিক দূরত্ব খুবই কম। চট্টগ্রামের থিওরিটিক্যাল ক্লাস শেষে শিক্ষার্থীরা কক্সবাজারের ল্যাবে সরাসরি ইন্টার্নশিপ ও ইন্টারঅ্যাক্টিভ গবেষণা করতে পারবে।

* চীন সরকার যে অর্থ ও প্রযুক্তি দিতে ইচ্ছুক, তা নতুন ভবন নির্মাণে অপচয় না করে সরাসরি বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়-এর অধীনে একটি অত্যাধুনিক “ইনষ্টিটিউট অব ব্লু ইকোনমি অ্যান্ড সার্কুলার সায়েন্সেস” প্রতিষ্ঠায় ব্যবহার করা যাবে। এতে সাশ্রয়কৃত টাকা দিয়ে গভীর সমুদ্র গবেষণার জন্য একটি অত্যাধুনিক ‘রিসার্চ ভেসেল’ (গবেষণা জাহাজ) ক্রয় করা সম্ভব।

• শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি যৌথ ‘ইনস্টিটিউশনাল কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিল’ গঠনের মাধ্যমে BORI-এর ল্যাবকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত ও যৌথ ব্যবহারের আইনি কাঠামো প্রদান করা সম্ভব। এর সবচেয়ে ভালো বিকল্প হতে পারে ওশেনোগ্রাফি ইনস্টিটিউটকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকট হস্তান্তর করা।

* একটি টেকসই সার্কুলার ইকোনমি গড়ে তোলার মূল শর্তই হলো বিদ্যমান সম্পদের অপচয় রোধ করা। নতুন একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে নতুন প্রশাসনিক কাঠামো দাঁড় করানোর চেয়ে, বিদ্যমান মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং এবং ওশানোগ্রাফিক ইনস্টিটিউটের ভৌত ল্যাবরেটরি সুযোগ-সুবিধাকে একীভূত করাই হবে সবচেয়ে দূরদর্শী সিদ্ধান্ত।

সুপারিশসমূহ:
১. প্রস্তাবিত নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটটি সরাসরি বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়-এর চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের যৌথ ল্যাব উন্নয়নে ডাইভার্ট করা হোক।
২. চীনের সাথে দ্বিপাক্ষিক চুক্তিটি ‘বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়’-এর অধীনে স্পেশাল উইং হিসেবে বাস্তবায়ন করা হোক।
৩. দ্রুত একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় টাস্কফোর্স গঠন করে BORI এবং বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়-এর রিসোর্স শেয়ারিং নীতিমালা চূড়ান্ত করা হোক।

আরও পড়ুনঃ  জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি: জনজীবনে নতুন সংকট সৃষ্টি করবে—জেএসএফ-বাংলাদেশ
Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

সুনীল অর্থনীতিভিত্তিক নতুন বিশ্ববিদ্যালয়-অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান -ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-

সুনীল অর্থনীতিভিত্তিক নতুন বিশ্ববিদ্যালয়-অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান -ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-

সময়: ১১:২৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

গত ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী মহোদয় রাজধানী ঢাকাতে আয়োজিত এক সেমিনারে কক্সবাজারে “ইউনিভার্সিটি অব ব্লু ইকোনমি সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজি” (UBEST) নামে একটি নতুন বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সরকারি পরিকল্পনার কথা ব্যক্ত করেন। এই প্রকল্পে চীন সরকার সরাসরি অর্থায়ন ও কারিগরি সহযোগিতা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে নতুন আরেকটি স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল, সময়সাপেক্ষ এবং নতুন প্রশাসনিক জটিলতার জন্ম দেয়। বর্তমান প্রতিবেদনে বিদ্যমান দুটি শীর্ষস্থানীয় মেরিটাইম ও সমুদ্র গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা মূল্যায়ন করে তাদের একীভূতকরণের মাধ্যমে একটি সাশ্রয়ী, সমন্বিত ও আন্তর্জাতিক মানের মেগা-প্রকল্প বাস্তবায়নের বিকল্প প্রস্তাবনা চিন্তা করা যেতে পারে।
নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ব্যতিরেকে বিদ্যমান বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি (পূর্বতন নাম- ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি’) এবং ‘বাংলাদেশ ওশেনোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট (BORI)’-এর সমন্বয়ে চীনা সহযোগিতায় একটি বৈশ্বিক মানের ‘সুনীল অর্থনীতি উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা হাব’ গঠন সম্ভব ।

বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানসমূহের ইতিহাস ও বর্তমান অবস্থা
ক) বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি (পূর্ববর্তী নাম-বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি (BSMRMU)
ইতিহাস: এটি ২০১৩ সালের ২৬ অক্টোবর বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের একটি আইনের মাধ্যমে দেশের ১ম এবং এশিয়ার ৩য় বিশেষায়িত মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
বর্তমান অবস্থা: বর্তমানে ঢাকার মিরপুরে এর অস্থায়ী ক্যাম্পাসে ৫টি অনুষদের অধীনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। চট্টগ্রামের বাকলিয়ার হামিদচরে কর্ণফুলী নদীর তীরে ১০৬.৬৬ একর জমিতে এর অত্যাধুনিক স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণাধীন রয়েছে, যার পাইলিং ও অবকাঠামোগত কাজ ৯০%-এর বেশি সম্পন্ন এবং ২০২৬ সালের মধ্যে আংশিক স্থানান্তরের লক্ষ্য রয়েছে। এখানে সমুদ্রবিদ্যা, নৌ-স্থাপত্য, এবং পোর্ট ম্যানেজমেন্টের মতো টেকনিক্যাল বিষয়ে ১,০৫০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত।

খ) বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট (BORI)
ইতিহাস: সমুদ্র সম্পদ অনুসন্ধান ও গবেষণার জন্য ২০১৫ সালে কক্সবাজারের রামুতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেশের একমাত্র জাতীয় সমুদ্র গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ‘BORI’ যাত্রা শুরু করে।
বর্তমান অবস্থা: এটি বর্তমানে আধুনিক ল্যাবরেটরি, গভীর সমুদ্র গবেষণার বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি এবং ডেটা অ্যানালিটিক্স সুবিধায় সমৃদ্ধ। এখানে ওশেনোগ্রাফি, সামুদ্রিক জীববিদ্যা, খনিজ সম্পদ এবং জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে সরাসরি মাঠপর্যায়ে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা কার্যক্রম চলমান।
পৃথক নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ
একটি সম্পূর্ণ নতুন বিশ্ববিদ্যালয় (UBEST) স্থাপন করতে গেলে রাষ্ট্রকে নিম্নেবর্ণিত চ্যালেঞ্জসমূহের মুখোমুখি হতে হবে:
১. বিপুল আর্থিক ব্যয়: নতুন করে শত একর ভূমি অধিগ্রহণ, একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন, উপাচার্য ভবন, আবাসিক হল এবং ল্যাবরেটরি নির্মাণে কয়েক হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত বাজেটের প্রয়োজন হবে।
২. আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রিতা: নতুন উপাচার্য, সিন্ডিকেট, ইউজিসি (UGC) অনুমোদন এবং সম্পূর্ণ নতুন ক্যাডারের জনবল নিয়োগ দিতে অন্তত ৩ থেকে ৫ বছর সময় অপচয় হবে।
৩. দক্ষ শিক্ষকের অভাব: বাংলাদেশে সমুদ্রবিজ্ঞান ও ব্লু-ইকোনমি খাতে উচ্চতর ডক্টরেটধারী শিক্ষকের সংখ্যা সীমিত। নতুন আরেকটি বিশ্ববিদ্যালয় হলে শিক্ষক সংকট তীব্র আকার ধারণ করবে। তাছাড়া বাংলাদেশে যে হারে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পরিচালনার জন্য উপযুক্ত উপাচার্য পাওয়া প্রায় অসম্ভব ।

আরও পড়ুনঃ  জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি: জনজীবনে নতুন সংকট সৃষ্টি করবে—জেএসএফ-বাংলাদেশ

নতুন আরেকটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার চ্যালেঞ্জ বিবেচনা করলে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় না করে “বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি”-এর প্রাতিষ্ঠানিক আমব্রেলা বা কাঠামোর অধীনেই চীনা সহযোগিতা সফলভাবে কাজে লাগানো সম্ভব। এক্ষেত্রে ‘সাংহাই ওশান ইউনিভার্সিটি’র অভিজ্ঞতা সবচেয়ে বেশি কাজে আসতে পারে ।
প্রস্তাবনার পক্ষে যুক্তি
* বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের চট্টগ্রামের স্থায়ী ক্যাম্পাস (শিক্ষা ও প্রশাসন) এবং কক্সবাজারের BORI ল্যাব (ব্যবহারিক গবেষণা)—এই দুইয়ের ভৌগোলিক দূরত্ব খুবই কম। চট্টগ্রামের থিওরিটিক্যাল ক্লাস শেষে শিক্ষার্থীরা কক্সবাজারের ল্যাবে সরাসরি ইন্টার্নশিপ ও ইন্টারঅ্যাক্টিভ গবেষণা করতে পারবে।

* চীন সরকার যে অর্থ ও প্রযুক্তি দিতে ইচ্ছুক, তা নতুন ভবন নির্মাণে অপচয় না করে সরাসরি বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়-এর অধীনে একটি অত্যাধুনিক “ইনষ্টিটিউট অব ব্লু ইকোনমি অ্যান্ড সার্কুলার সায়েন্সেস” প্রতিষ্ঠায় ব্যবহার করা যাবে। এতে সাশ্রয়কৃত টাকা দিয়ে গভীর সমুদ্র গবেষণার জন্য একটি অত্যাধুনিক ‘রিসার্চ ভেসেল’ (গবেষণা জাহাজ) ক্রয় করা সম্ভব।

• শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি যৌথ ‘ইনস্টিটিউশনাল কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিল’ গঠনের মাধ্যমে BORI-এর ল্যাবকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত ও যৌথ ব্যবহারের আইনি কাঠামো প্রদান করা সম্ভব। এর সবচেয়ে ভালো বিকল্প হতে পারে ওশেনোগ্রাফি ইনস্টিটিউটকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকট হস্তান্তর করা।

* একটি টেকসই সার্কুলার ইকোনমি গড়ে তোলার মূল শর্তই হলো বিদ্যমান সম্পদের অপচয় রোধ করা। নতুন একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে নতুন প্রশাসনিক কাঠামো দাঁড় করানোর চেয়ে, বিদ্যমান মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং এবং ওশানোগ্রাফিক ইনস্টিটিউটের ভৌত ল্যাবরেটরি সুযোগ-সুবিধাকে একীভূত করাই হবে সবচেয়ে দূরদর্শী সিদ্ধান্ত।

সুপারিশসমূহ:
১. প্রস্তাবিত নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটটি সরাসরি বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়-এর চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের যৌথ ল্যাব উন্নয়নে ডাইভার্ট করা হোক।
২. চীনের সাথে দ্বিপাক্ষিক চুক্তিটি ‘বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়’-এর অধীনে স্পেশাল উইং হিসেবে বাস্তবায়ন করা হোক।
৩. দ্রুত একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় টাস্কফোর্স গঠন করে BORI এবং বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়-এর রিসোর্স শেয়ারিং নীতিমালা চূড়ান্ত করা হোক।

আরও পড়ুনঃ  জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি: জনজীবনে নতুন সংকট সৃষ্টি করবে—জেএসএফ-বাংলাদেশ