Dhaka ০৩:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
কলকাতা ইসকনের উদ্যোগে বাবুঘাট গঙ্গা তীর পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্নতার অভিযান চালালেন আত্রাই রেললাইনের পাশে পড়ে ছিল কলেজ অধ্যক্ষের মরদেহ!! হোয়াইক্যং আলহাজ্ব আলী আছিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হলেন জুনায়েদ আলী চৌধুরী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতি শিক্ষার্থীদের মেধা ও একাডেমিক সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরুপ মেডেল ও সম্মামনা প্রদান ‘লা পুলগা’ থেকে ‘দ্য গোট’ রেকর্ডের অপেক্ষায় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, পর্তুগালের মুখোমুখি হবে ডিআর কঙ্গো সংসদে বাজেটকে ‘চানাচুর মার্কা’ বললেন এমপি আমির হামজা সকল অপকর্মের সমাপ্তি চাই গফরগাঁওয়ে স্বামীকে বেঁধে গৃহবধূকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ মার্কিন-ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে ‘গেম চেঞ্জার’ বললেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

“কর সংস্কৃতির রূপান্তর: ই-রিটার্নে নতুন অর্থনৈতিক শৃঙ্খলার সূচনা”

অ্যাডভোকেট মোঃ কামরুজ্জামান ভূঁইয়া,

বাড়ল‌ সময়: ৩০ নভেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশ এখন এক নতুন অর্থনৈতিক শৃঙ্খলার পথে হাঁটছে — যেখানে কাগজের রিটার্ন নয়, ই-রিটার্নই হবে কর ব্যবস্থার মূল ভরকেন্দ্র।জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছে যে ৩০ নভেম্বর ২০২৫-এর মধ্যে সকল ব্যক্তি করদাতাকে ই-রিটার্ন দাখিল করতে হবে।এটি শুধু প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয় — এটি বাংলাদেশের অর্থনীতির ডিজিটাল রূপান্তরের এক যুগান্তকারী অধ্যায়।

 

প্রেক্ষাপট: দেশে বর্তমানে ১ কোটি ১২ লাখ টিআইএনধারী থাকলেও, প্রতিবছর মাত্র ৪০ লাখ করদাতা রিটার্ন জমা দেন। অর্থাৎ, ৭২ লাখের বেশি নাগরিক কর ব্যবস্থার বাইরে রয়েছেন।এই প্রেক্ষাপটে, এনবিআরের ই-রিটার্ন উদ্যোগটি করদাতাদের সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে কর প্রদানের সুযোগ করে দেবে।

 

 

২০২৫ সালের আগস্টে ই-রিটার্ন বাধ্যতামূলক হওয়ার পর থেকে ইতিমধ্যে ১০ লাখের বেশি করদাতা অনলাইনে রিটার্ন জমা দিয়েছেন, যা ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণে এক ইতিবাচক মাইলফলক।

নতুন ব্যবস্থার মূল বৈশিষ্ট্য:
১)সম্পূর্ণ অনলাইন প্রক্রিয়া: ঘরে বসেই করদাতা রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।
২)স্মার্ট যাচাইকরণ ব্যবস্থা: টিআইএন, এনআইডি ও ব্যাংক তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত।
৩)করদাতার সুরক্ষা: ভুল রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক সংশোধনের সুযোগ।
৪)প্রশাসনিক স্বচ্ছতা: দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর সম্পৃক্ততা কমে যাবে।

সমস্যা ও সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ:
তবে বাস্তবতা হলো, এখনো অনেক করদাতা প্রযুক্তি ব্যবহারে অনভ্যস্ত বা ই-রিটার্ন সিস্টেম সম্পর্কে যথেষ্ট অবহিত নন।

 

এছাড়া ইন্টারনেট সংযোগের সীমাবদ্ধতা, লগইন জটিলতা, এবং সার্ভারজনিত ত্রুটি অনেক সময় করদাতাকে বিপাকে ফেলে।

তাই এনবিআরের উচিত—
জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে “ই-রিটার্ন সহায়তা কেন্দ্র” গঠন,
ট্যাক্স আইনজীবী ও হিসাবরক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি,
এবং করদাতাদের মধ্যে জনসচেতনতা বৃদ্ধি।

কেন ই-রিটার্ন গুরুত্বপূর্ণ:
কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়।সরকারের রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পায়, যা উন্নয়ন প্রকল্পে সরাসরি প্রভাব ফেলে।করদাতা–রাষ্ট্র সম্পর্কের আস্থা বাড়ে।ঘুষ, দালালি, ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাস পায়একটি আধুনিক রাষ্ট্রে কর প্রদান শুধু দায়িত্ব নয়, বরং নাগরিক মর্যাদার প্রতীক।ডিজিটাল রিটার্ন সেই মর্যাদাকে প্রযুক্তির মাধ্যমে নতুন মাত্রা দিচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  প্রত্যাশার বাংলাদেশ গঠনের পথে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের প্রথম ১০০ দিনের মূল্যায়ন

আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে:
ইনকাম ট্যাক্স অর্ডিন্যান্স, ১৯৮৪ এর ধারা ৭৫ ও ৭৫এ অনুসারে, প্রত্যেক ব্যক্তি করদাতাকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক।ই-রিটার্ন প্রক্রিয়া এই আইনি বাধ্যবাধকতাকে সহজ ও বাস্তবায়নযোগ্য করে তুলছে।
এছাড়া, ডিজিটাল সিগনেচার ও ট্যাক্সপেয়ার আইডি সিস্টেম করদাতার নিরাপত্তা ও প্রমাণীকরণে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

নাগরিক বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ:বাংলাদেশের অর্থনীতিতে স্বচ্ছ করনীতি ছাড়া টেকসই প্রবৃদ্ধি সম্ভব নয়।
যত বেশি নাগরিক কর প্রদান করবে, তত দ্রুত রাষ্ট্রের উন্নয়ন বাজেট, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো সম্ভব হবে।

 

ই-রিটার্নের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংস্কৃতিতে শুরু হয়েছে এক নতুন নাগরিক দায়িত্ববোধের যুগ, যেখানে করদাতা আর ভীত নয়—বরং গর্বিত একজন অংশীদার।“ই-রিটার্ন” কেবল প্রযুক্তির প্রয়োগ নয়, এটি একটি মানসিক পরিবর্তনের সূচনা।

যেখানে স্বচ্ছতা, দায়িত্ববোধ ও নাগরিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমরা পৌঁছাতে পারি আত্মনির্ভর ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রে।আজকের করদাতা যদি সময়মতো ই-রিটার্ন দাখিল করেন,তাহলে আগামী দিনের বাংলাদেশ হবে স্বচ্ছ, শক্তিশালী ও ন্যায্য অর্থনীতির বাংলাদেশ।

 

 

 

 

 

অ্যাডভোকেট মোঃ কামরুজ্জামান ভূঁইয়া
লেখক, আইনজীবী ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষক

 

 

দৈনিক মানবজীবন পত্রিকা

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

কলকাতা ইসকনের উদ্যোগে বাবুঘাট গঙ্গা তীর পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্নতার অভিযান চালালেন

“কর সংস্কৃতির রূপান্তর: ই-রিটার্নে নতুন অর্থনৈতিক শৃঙ্খলার সূচনা”

সময়: ১১:২১:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫

অ্যাডভোকেট মোঃ কামরুজ্জামান ভূঁইয়া,

বাড়ল‌ সময়: ৩০ নভেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশ এখন এক নতুন অর্থনৈতিক শৃঙ্খলার পথে হাঁটছে — যেখানে কাগজের রিটার্ন নয়, ই-রিটার্নই হবে কর ব্যবস্থার মূল ভরকেন্দ্র।জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছে যে ৩০ নভেম্বর ২০২৫-এর মধ্যে সকল ব্যক্তি করদাতাকে ই-রিটার্ন দাখিল করতে হবে।এটি শুধু প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয় — এটি বাংলাদেশের অর্থনীতির ডিজিটাল রূপান্তরের এক যুগান্তকারী অধ্যায়।

 

প্রেক্ষাপট: দেশে বর্তমানে ১ কোটি ১২ লাখ টিআইএনধারী থাকলেও, প্রতিবছর মাত্র ৪০ লাখ করদাতা রিটার্ন জমা দেন। অর্থাৎ, ৭২ লাখের বেশি নাগরিক কর ব্যবস্থার বাইরে রয়েছেন।এই প্রেক্ষাপটে, এনবিআরের ই-রিটার্ন উদ্যোগটি করদাতাদের সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে কর প্রদানের সুযোগ করে দেবে।

 

 

২০২৫ সালের আগস্টে ই-রিটার্ন বাধ্যতামূলক হওয়ার পর থেকে ইতিমধ্যে ১০ লাখের বেশি করদাতা অনলাইনে রিটার্ন জমা দিয়েছেন, যা ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণে এক ইতিবাচক মাইলফলক।

নতুন ব্যবস্থার মূল বৈশিষ্ট্য:
১)সম্পূর্ণ অনলাইন প্রক্রিয়া: ঘরে বসেই করদাতা রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।
২)স্মার্ট যাচাইকরণ ব্যবস্থা: টিআইএন, এনআইডি ও ব্যাংক তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত।
৩)করদাতার সুরক্ষা: ভুল রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক সংশোধনের সুযোগ।
৪)প্রশাসনিক স্বচ্ছতা: দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর সম্পৃক্ততা কমে যাবে।

সমস্যা ও সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ:
তবে বাস্তবতা হলো, এখনো অনেক করদাতা প্রযুক্তি ব্যবহারে অনভ্যস্ত বা ই-রিটার্ন সিস্টেম সম্পর্কে যথেষ্ট অবহিত নন।

 

এছাড়া ইন্টারনেট সংযোগের সীমাবদ্ধতা, লগইন জটিলতা, এবং সার্ভারজনিত ত্রুটি অনেক সময় করদাতাকে বিপাকে ফেলে।

তাই এনবিআরের উচিত—
জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে “ই-রিটার্ন সহায়তা কেন্দ্র” গঠন,
ট্যাক্স আইনজীবী ও হিসাবরক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি,
এবং করদাতাদের মধ্যে জনসচেতনতা বৃদ্ধি।

কেন ই-রিটার্ন গুরুত্বপূর্ণ:
কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়।সরকারের রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পায়, যা উন্নয়ন প্রকল্পে সরাসরি প্রভাব ফেলে।করদাতা–রাষ্ট্র সম্পর্কের আস্থা বাড়ে।ঘুষ, দালালি, ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাস পায়একটি আধুনিক রাষ্ট্রে কর প্রদান শুধু দায়িত্ব নয়, বরং নাগরিক মর্যাদার প্রতীক।ডিজিটাল রিটার্ন সেই মর্যাদাকে প্রযুক্তির মাধ্যমে নতুন মাত্রা দিচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  সাবেক এমপি অধ্যক্ষ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর ইন্তেকাল, দুধরচকীর শোক প্রকাশ

আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে:
ইনকাম ট্যাক্স অর্ডিন্যান্স, ১৯৮৪ এর ধারা ৭৫ ও ৭৫এ অনুসারে, প্রত্যেক ব্যক্তি করদাতাকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক।ই-রিটার্ন প্রক্রিয়া এই আইনি বাধ্যবাধকতাকে সহজ ও বাস্তবায়নযোগ্য করে তুলছে।
এছাড়া, ডিজিটাল সিগনেচার ও ট্যাক্সপেয়ার আইডি সিস্টেম করদাতার নিরাপত্তা ও প্রমাণীকরণে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

নাগরিক বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ:বাংলাদেশের অর্থনীতিতে স্বচ্ছ করনীতি ছাড়া টেকসই প্রবৃদ্ধি সম্ভব নয়।
যত বেশি নাগরিক কর প্রদান করবে, তত দ্রুত রাষ্ট্রের উন্নয়ন বাজেট, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো সম্ভব হবে।

 

ই-রিটার্নের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংস্কৃতিতে শুরু হয়েছে এক নতুন নাগরিক দায়িত্ববোধের যুগ, যেখানে করদাতা আর ভীত নয়—বরং গর্বিত একজন অংশীদার।“ই-রিটার্ন” কেবল প্রযুক্তির প্রয়োগ নয়, এটি একটি মানসিক পরিবর্তনের সূচনা।

যেখানে স্বচ্ছতা, দায়িত্ববোধ ও নাগরিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমরা পৌঁছাতে পারি আত্মনির্ভর ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রে।আজকের করদাতা যদি সময়মতো ই-রিটার্ন দাখিল করেন,তাহলে আগামী দিনের বাংলাদেশ হবে স্বচ্ছ, শক্তিশালী ও ন্যায্য অর্থনীতির বাংলাদেশ।

 

 

 

 

 

অ্যাডভোকেট মোঃ কামরুজ্জামান ভূঁইয়া
লেখক, আইনজীবী ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষক

 

 

দৈনিক মানবজীবন পত্রিকা