Dhaka ১১:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
জার্মানির একাদশে নয়্যার, নেই রুডিগার বিশ্বকাপে না থাকলেও পারিশ্রমিক পাবেন সোমালিয়ার রেফারি ওমর আরতান ২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়াকে হারানোই বড় অর্জন: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী দিনদুপুরে পথরোধ করে সাংবাদিকের গাড়ি, নগদ টাকা ও ক্যামেরা ছিনতাই কৃষি জমিতে অবৈধ পুকুর খননে বিক্ষোভে উত্তাল মনিরামপুর, তদন্তে সহকারী কমিশনার ভূমি উদ্বোধনের এক বছরেও চালু হয়নি বংশীকুণ্ডা উত্তর ইউনিয়ন ভূমি অফিস টেকনাফে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ১০ গ্রেনেড, ২৮ রাউন্ড গুলি ও ২ কেজি গাঁজা উদ্ধার জনবল ও অ্যাম্বুলেন্স সংকটে গোদাগাড়ী ৩১ শয্যা হাসপাতাল চরম দুর্ভোগে রোগীরা ডুমুরিয়ার চুকনগর হাটে ঝাঁকি জালের ধুম, মৎস্য ঘের ও বর্ষার আমেজে জমজমাট বেচাকেনা দেয়াল নির্মাণে বাধা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ, ৯৯৯-এ কল করে সহায়তা নিলেন জমির মালিক
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

​হামে শিশুমৃত্যুর নৈতিক দায়: ইউনূস সরকারের বিচার দাবি শেখ হাসিনার

  • Reporter Name
  • সময়: ১০:০২:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
  • ৫ Time View

xমানিক লাল ঘোষ


​শিশু হত্যার দায়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে একজন সংসদ সদস্যের করা মামলার আবেদন খারিজ হওয়ার ঘটনা দেশের বিবেকবান মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। যখন হামে শিশুমৃত্যুর ঘটনায় বিচার দাবিতে বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন, সামাজিক সংস্থা এবং সন্তান হারানো শোকার্ত অভিভাবকরা রাজপথে মানববন্ধন ও প্রতিবাদে ফেটে পড়ছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও যখন ড. ইউনূসের ফাঁসির দাবি তুঙ্গে—ঠিক সেই সময়েই এই ন্যায়সঙ্গত দাবির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতের গণমাধ্যম ‘এই সময়’-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এই ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং সরাসরি ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের চরম ব্যর্থতাকে দায়ী করেছেন।

​সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা ইউনূস সরকারের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বলেন, “শুধু টিকাদান কর্মসূচি বন্ধই নয়, পুরো স্বাস্থ্য খাতকেই ইউনূস সরকার ধ্বংস করেছে। শিশুদের নিয়মিত ভিটামিন-এ ক্যাপসুল পর্যন্ত দেওয়া হয়নি এবং সরকারি হাসপাতালগুলোতে জরুরি চিকিৎসা সামগ্রীর সরবরাহ নেই।”

​তিনি এই বিপর্যয়ের ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, “এই কারণেই মহামারী হিসেবে হাম ছড়িয়ে পড়েছে, লক্ষাধিক শিশু তাতে আক্রান্ত হয়েছে, সরকারি হিসেবেই মারা গিয়েছে সাড়ে ছ’শো।”

​হামে শিশুমৃত্যুর ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “আমি দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, হামে শিশুমৃত্যুর জন্য দায়ী প্রতিটি ব্যক্তিকে বিচারের আওতায় আনতে হবে! যাঁরা টিকাকরণ বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যাঁরা ‘হু’-র সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছেন, যাঁরা টিকা সরবরাহ ব্যাহত করেছেন, তাঁদের জবাব দিতেই হবে। স্বাধীন তদন্ত করতে হবে। যাঁদের বিরুদ্ধে অবহেলা, দুর্নীতি বা ক্ষমতার অপব্যবহার প্রমাণিত হবে, তাঁদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে।”

​তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক হলো—এই শিশুরা এমন একটা রোগে মারা যাচ্ছে, যা আমরা প্রায় নির্মূল করার পর্যায়ে ছিলাম এবং সব ঠিক থাকলে ২০২৬-এই আমরা বাংলাদেশকে হাম-মুক্ত দেশ হিসেবে ঘোষণা করতাম।”

আরও পড়ুনঃ  ফেসবুক ও মেসেঞ্জারের হঠাৎ সার্ভার ডাউন, ভোগান্তিতে লাখো ব্যবহারকারী

​ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নোবেল শান্তি পুরস্কার কেড়ে নেওয়া উচিত কি না—এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “পুরস্কার কেড়ে নেওয়ার বিষয়টি নোবেল কমিটির এক্তিয়ার। সে বিষয়ে আমি মন্তব্য করব না। কিন্তু নৈতিক প্রশ্ন তো উঠবেই। যে ব্যক্তির স্বার্থান্বেষী সিদ্ধান্তের কারণে প্রতিরোধযোগ্য রোগে শত শত শিশু মারা যায়, তার ‘নোবেল শান্তি’ পরিচয়ের অর্থ কী? তা হলে স্বাস্থ্য খাতের বাজেটের ৪২ হাজার কোটি টাকা গেল কোথায়?”

​বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে শেখ হাসিনার স্পষ্ট ভাষ্য, “বর্তমান সরকারও এসবের তদন্ত না করে আওয়ামী লীগকে দোষারোপের মিথ্যাচারে ব্যস্ত।”
​আজকের এই সংকটময় প্রেক্ষাপটে, যেখানে দেশ একটি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায় পার করছে, সেখানে জনস্বাস্থ্য খাতকে ঢেলে সাজানো এবং শিশুদের জীবন নিশ্চিত করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। শেখ হাসিনার অভিযোগ ও ইউনূস সরকারের আমলের এই ব্যর্থতা প্রমাণ করে যে, রাজনৈতিক অস্থিরতার চেয়েও জনস্বার্থের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই রাষ্ট্র পরিচালনার আসল পরীক্ষা। শিশুমৃত্যুর দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই, আর এই ব্যর্থতার পূর্ণ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই এখন দেশের সাধারণ মানুষের একমাত্র প্রত্যাশা।

​(মানিক লাল ঘোষ : সাংবাদিক ও কলামিস্ট, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সহ-সভাপতি)

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

জার্মানির একাদশে নয়্যার, নেই রুডিগার

​হামে শিশুমৃত্যুর নৈতিক দায়: ইউনূস সরকারের বিচার দাবি শেখ হাসিনার

সময়: ১০:০২:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

xমানিক লাল ঘোষ


​শিশু হত্যার দায়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে একজন সংসদ সদস্যের করা মামলার আবেদন খারিজ হওয়ার ঘটনা দেশের বিবেকবান মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। যখন হামে শিশুমৃত্যুর ঘটনায় বিচার দাবিতে বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন, সামাজিক সংস্থা এবং সন্তান হারানো শোকার্ত অভিভাবকরা রাজপথে মানববন্ধন ও প্রতিবাদে ফেটে পড়ছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও যখন ড. ইউনূসের ফাঁসির দাবি তুঙ্গে—ঠিক সেই সময়েই এই ন্যায়সঙ্গত দাবির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতের গণমাধ্যম ‘এই সময়’-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এই ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং সরাসরি ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের চরম ব্যর্থতাকে দায়ী করেছেন।

​সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা ইউনূস সরকারের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বলেন, “শুধু টিকাদান কর্মসূচি বন্ধই নয়, পুরো স্বাস্থ্য খাতকেই ইউনূস সরকার ধ্বংস করেছে। শিশুদের নিয়মিত ভিটামিন-এ ক্যাপসুল পর্যন্ত দেওয়া হয়নি এবং সরকারি হাসপাতালগুলোতে জরুরি চিকিৎসা সামগ্রীর সরবরাহ নেই।”

​তিনি এই বিপর্যয়ের ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, “এই কারণেই মহামারী হিসেবে হাম ছড়িয়ে পড়েছে, লক্ষাধিক শিশু তাতে আক্রান্ত হয়েছে, সরকারি হিসেবেই মারা গিয়েছে সাড়ে ছ’শো।”

​হামে শিশুমৃত্যুর ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “আমি দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, হামে শিশুমৃত্যুর জন্য দায়ী প্রতিটি ব্যক্তিকে বিচারের আওতায় আনতে হবে! যাঁরা টিকাকরণ বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যাঁরা ‘হু’-র সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছেন, যাঁরা টিকা সরবরাহ ব্যাহত করেছেন, তাঁদের জবাব দিতেই হবে। স্বাধীন তদন্ত করতে হবে। যাঁদের বিরুদ্ধে অবহেলা, দুর্নীতি বা ক্ষমতার অপব্যবহার প্রমাণিত হবে, তাঁদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে।”

​তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক হলো—এই শিশুরা এমন একটা রোগে মারা যাচ্ছে, যা আমরা প্রায় নির্মূল করার পর্যায়ে ছিলাম এবং সব ঠিক থাকলে ২০২৬-এই আমরা বাংলাদেশকে হাম-মুক্ত দেশ হিসেবে ঘোষণা করতাম।”

আরও পড়ুনঃ  শিকলে বাঁধা আইনের শাষণ প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

​ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নোবেল শান্তি পুরস্কার কেড়ে নেওয়া উচিত কি না—এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “পুরস্কার কেড়ে নেওয়ার বিষয়টি নোবেল কমিটির এক্তিয়ার। সে বিষয়ে আমি মন্তব্য করব না। কিন্তু নৈতিক প্রশ্ন তো উঠবেই। যে ব্যক্তির স্বার্থান্বেষী সিদ্ধান্তের কারণে প্রতিরোধযোগ্য রোগে শত শত শিশু মারা যায়, তার ‘নোবেল শান্তি’ পরিচয়ের অর্থ কী? তা হলে স্বাস্থ্য খাতের বাজেটের ৪২ হাজার কোটি টাকা গেল কোথায়?”

​বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে শেখ হাসিনার স্পষ্ট ভাষ্য, “বর্তমান সরকারও এসবের তদন্ত না করে আওয়ামী লীগকে দোষারোপের মিথ্যাচারে ব্যস্ত।”
​আজকের এই সংকটময় প্রেক্ষাপটে, যেখানে দেশ একটি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায় পার করছে, সেখানে জনস্বাস্থ্য খাতকে ঢেলে সাজানো এবং শিশুদের জীবন নিশ্চিত করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। শেখ হাসিনার অভিযোগ ও ইউনূস সরকারের আমলের এই ব্যর্থতা প্রমাণ করে যে, রাজনৈতিক অস্থিরতার চেয়েও জনস্বার্থের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই রাষ্ট্র পরিচালনার আসল পরীক্ষা। শিশুমৃত্যুর দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই, আর এই ব্যর্থতার পূর্ণ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই এখন দেশের সাধারণ মানুষের একমাত্র প্রত্যাশা।

​(মানিক লাল ঘোষ : সাংবাদিক ও কলামিস্ট, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সহ-সভাপতি)