
বাদশা সেকেন্দার ভুট্টো
ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি:
ডিমলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সকল নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে বিপুল সংখ্যক দলিল সম্পাদনের অভিযোগ উঠেছে দায়িত্বপ্রাপ্ত সাব-রেজিস্টার আব্দুল্লাহ আল মাসুমের বিরুদ্ধে। সরকারি বিধি-বিধান অমান্য, কাগজপত্র যাচাই-বাছাই ছাড়াই দলিল নিবন্ধন, অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং জাল-ভুয়া কাগজে দলিল সম্পাদনের অভিযোগে উপজেলা জুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ডিমলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাব-রেজিস্টার একেএম সুজাউদ্দিন ট্রেনিংয়ে থাকার অনুপস্থিতিতে নীলফামারী সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাব-রেজিস্টার আব্দুল্লাহ আল মাসুমকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ৭ এপ্রিল থেকে ৯ জুন পর্যন্ত মাত্র সাত কর্মদিবসে তিনি ১ হাজার ৩৬৪টি দলিল সম্পাদন করেন বলে জানা গেছে অফিস সূত্রে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ত্রুটি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের অভাবে আটকে থাকা বহু দলিলও যাচাই-বাছাই ছাড়াই নিবন্ধন করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি খাসজমি, জাল দলিল, ভুয়া ভূমি উন্নয়ন করের কাগজ এবং ভুয়া মালিকানার কাগজ ব্যবহার করে দলিল সম্পাদনের অভিযোগও উঠেছে।
সবচেয়ে বেশি বিতর্কের জন্ম দেয় গত (৯ জুন ২০২৬) মঙ্গলবার ঘটনা। অভিযোগ রয়েছে, ওইদিন একদিনেই প্রায় ৩৯০টি দলিল সম্পাদন করা হয় এবং রাত গভীর পর্যন্ত নিবন্ধন কার্যক্রম চলে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এত বিপুল সংখ্যক দলিলের কাগজপত্র যথাযথভাবে যাচাই করা বাস্তবসম্মত নয়।
ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ক্রেতা-বিক্রেতা অভিযোগ করেন, দলিল সম্পাদনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সরকারি ফি ছাড়াও অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বহু দলিলের নথিপত্র যাচাই না করেই নিবন্ধন সম্পন্ন করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ শতাধিক ব্যক্তি গত ৯ জুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন এবং সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্টারকে মোবাইল ফোনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে দলিল সম্পাদন করতে বলেন।
তবে অভিযোগকারীদের দাবি, প্রশাসনের সতর্কতার পরও রাত পর্যন্ত নিবন্ধন কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়।
একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, পূর্বে দায়িত্বে থাকা সাব-রেজিস্টার বিভিন্ন ত্রুটির কারণে যেসব দলিল নিবন্ধন করেননি, সেগুলোর মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে দ্রুততার সঙ্গে সম্পাদন করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাব-রেজিস্টার আব্দুল্লাহ আল মাসুম বলেন, অতিরিক্ত সংখ্যক দলিল জমা হয়েছিল। কোনো দলিলের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে আমাকে জানানো হোক, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে দলিল বাতিলও করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইমরানুজ্জামান বলেন, অনেক লোকজন সাব-রেজিস্টারের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে আমার কাছে এসেছিলেন। আমি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি এবং দলিল সম্পাদনের আগে যথাযথ যাচাই-বাছাই করার আহ্বান জানিয়েছি। তবে সাব-রেজিস্ট্রি অফিস আইন মন্ত্রণালয়ের অধীন হওয়ায় আমার সরাসরি প্রশাসনিক ক্ষমতা সীমিত।
এদিকে এত অল্প সময়ে বিপুল সংখ্যক দলিল নিবন্ধন, জাল ও ভুয়া কাগজে দলিল সম্পাদনের অভিযোগ এবং সরকারি খাসজমি বেহাত হওয়ার আশঙ্কায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে ভূমি জালিয়াতি ও সরকারি সম্পত্তি দখলের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
ইউনিয়ন ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায় একই দিনে এত দলিল সম্পাদন করা হলো কিন্তু আমরা কোন ভূমিকর দিতে তেমন কোন জমি বিক্রেতার উপস্থিতি পেলাম না। তাতেই সরকারের লাখ লাখ টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হল। বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
Reporter Name 



























