
মো: মারুফ, চট্টগ্রাম সিটি রির্পোটার || ফটো চিএে, আপোষ জয়ধর‚
চট্টগ্রাম মেডিকেলের বেডে শুয়ে শাহনাজ বেগম শেলী। তখনও অপারেশনের ধকল সামলাচ্ছে। পাশের ঘরেই তার সদ্য ভূমিষ্ঠ নবজাতক শিশু। কিন্তু যার হাত ধরে সংসার গড়েছিলো সে নেই। গেট পেরিয়ে উধাও পাষুন্ড স্বামী। কারণ একটাই – মেয়ে হয়েছে।
বিয়ের পর থেকেই স্বামী বেলাল আহমেদ বলে আসছিলো মেয়ে হলে সংসার করবে না। ১৬ এপ্রিল প্রসববেদনা উঠলে শাহনাজ একাই চট্টগ্রাম মেডিকেলে ভর্তি হয়। জটিলতায় সিজারিয়ান হলো, মেয়ের কান্না শোনা গেল আর বেলাল সরে পড়লেন। আর ফেরেননি।
এর মধ্যে ২০ এপ্রিল নবজাতকের শরীরে জন্ডিস ধরা পড়ে। শিশুটিকে এনআইসিইউতে নিয়ে ফোটোথেরাপি শুরু হয়। অসুস্থ মা, যন্ত্রের আলোর নিচে শিশু পাশে কেউ নেই।
খবর পৌঁছাল চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার কাছে। তিনি দেরি করলেন না। মঙ্গলবার সরাসরি হাসপাতালে গেলেন। শিশুর জন্য খাবার, পোশাক, ডায়াপার মায়ের জন্য পোশাক ও এক মাসের খাদ্যসামগ্রী তুলে দিলেন। নগদ সহায়তাও দিলেন। যাওয়ার আগে একজন কর্মচারীকে দায়িত্ব দিয়ে গেলেন নিয়মিত খোঁজ রাখতে।
শাহনাজ বললেন, ডিসি স্যার পাশে না দাঁড়ালে কী যে হতো জানি না।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুটি এখন সুস্থ। শিগগিরই মায়ের কোলে ফিরবে সে।
পরিশেষে, এই সমাজে অনেকের মত তারও বাবা নেই এখন। তবু এই মেয়ে একা নয়। বেলালের মত এমন পাষুন্ড স্বামী, নির্দয় বাবা সৃষ্টিকর্তা কারো জীবনে না দিক।
Reporter Name 
























