Dhaka ০৩:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
ডুমুরিয়া উপজেলা এস ডিজি পরিকল্পনা কর্মশালা সিরাজদিখানে ইলিয়াছ মোল্লা হত্যা মামলায় মা-ছেলেসহ দুই আসামি গ্রেপ্তার চাকরিতে পুনর্বহাল সহ ১০ দফা দাবীতে চট্টগ্রামে পাঁচ ব্যাংকের চাকরিচ্যুতদের মানববন্ধন, স্মারকলিপি নড়াইলে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে গৃহবধূর আত্মহত্যা প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে পালিত হলো রেড রোডে- বিশ্ব যোগা দিবস নবীগঞ্জের প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা সরকারী তালিকা থেকে বাদ পড়লেন! ইউএনও বরাবরে লিখিত অভিযোগ৷ বসুন্দিয়ায় শিল্প বর্জ্যের বিষে জনজীবন অতিষ্ঠ; সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিকদের ভয়ভীতি বৃষ্টি ও উজানের ঢলে দুর্ভোগ বাড়ছে তাহিরপুরে কালীগঞ্জের আড়াই বছরের শিশুকে পানিতে চুবিয়ে হত্যা অভিযুক্ত কিশোরীর থানায় আত্মসমর্পণ পাহাড় ও বন রক্ষায় মানুষকে উদ্বুদ্ধ করবে গ্রীন রোড শো: থানজামা লুসাই
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

ডিমলায় ভুয়া দাতা ও জাল কাগজে বসতভিটা রেজিস্ট্রি: সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে অভিযোগ

  • Reporter Name
  • সময়: ০২:৪৭:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
  • ১১ Time View

 

বাদশা সেকেন্দার ভুট্টো
ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি:


নীলফামারীর ডিমলায় ভুয়া দাতা ও জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে এক অসহায় দিনমজুর দম্পতির বসতভিটার জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দায়িত্বপ্রাপ্ত সাব-রেজিস্ট্রার মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাসুমের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

২০ জুন (শনিবার) ভুক্তভোগী পরিবার বসতভিটা হারানোর আতঙ্কে মানবেতর জীবনযাপনের অভিযোগ করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ডিমলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাব-রেজিস্ট্রার কে এম সুজা উদ্দিন পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণে থাকায় গত ৭ এপ্রিল থেকে ৯ জুন পর্যন্ত চলতি দায়িত্ব পালন করেন নীলফামারী সদর সাব-রেজিস্ট্রার মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাসুম।

এ সময়ের মধ্যে গত ৯ জুন ডিমলা সদর ইউনিয়নের উত্তর তিতপাড়া গ্রামের ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা নুরেজা বেগম ও তার স্বামী সিরাজুল ইসলামের বসতভিটার ৭ শতক জমি জাল কাগজপত্র ও ভুয়া দাতার মাধ্যমে রেজিস্ট্রি করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। জমিটির হাল (বিএস) খতিয়ান নং-১৯৮৯ এবং দাগ নং-১২। অভিযোগ অনুযায়ী, একই গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে বাবুল হোসেন জাল দলিল ও ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে ২৬৬৩ নম্বর দলিলের মাধ্যমে জমিটি নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেন।

ভুক্তভোগীদের দাবি, দলিল রেজিস্ট্রেশনের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত সাব-রেজিস্ট্রার প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই না করেই দলিল সম্পাদন করেন। এতে প্রায় ২৫ বছর ধরে ভোগদখলে থাকা তাদের একমাত্র বসতভিটা নিয়ে অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী সিরাজুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “আমি প্রায় ২৫ বছর আগে জমিটি ক্রয় করে সেখানে বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছি। জমিটির হাল রেকর্ডও আমার স্ত্রী নুরেজা বেগমের নামে রয়েছে। অথচ ভুয়া ও জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে আমাদের বসতভিটা অন্যের নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা দাবি করছি।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “মোটা অঙ্কের উৎকোষের বিনিময়ে দলিল লেখক, সাব-রেজিস্টার কাগজপত্র যাচাই না করেই দলিল রেজিস্ট্রি:করেদেন।

আরও পড়ুনঃ  সাপাহারে পূর্ব শত্রুতার জেরে দম্পতির ওপর হামলা, গুরুতর আহত

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাব-রেজিস্ট্রার মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাসুমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “যদি সত্যিই এ ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকে, তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে দলিল বাতিলের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ ইমরানুজ্জামান বলেন, তবে গত ৯ জুন স্থানীয় লোকজন সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে আমার কার্যালয়ে আসেন। বিষয়টি আমি তাৎক্ষণিকভাবে জেলা প্রশাসক মহোদয়কে অবহিত করেছি।
স্থানীয়দের দাবি, জালিয়াতির মাধ্যমে বসতভিটা রেজিস্ট্রির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের প্রতারণার শিকার না হন।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

ডুমুরিয়া উপজেলা এস ডিজি পরিকল্পনা কর্মশালা

ডিমলায় ভুয়া দাতা ও জাল কাগজে বসতভিটা রেজিস্ট্রি: সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে অভিযোগ

সময়: ০২:৪৭:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

 

বাদশা সেকেন্দার ভুট্টো
ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি:


নীলফামারীর ডিমলায় ভুয়া দাতা ও জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে এক অসহায় দিনমজুর দম্পতির বসতভিটার জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দায়িত্বপ্রাপ্ত সাব-রেজিস্ট্রার মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাসুমের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

২০ জুন (শনিবার) ভুক্তভোগী পরিবার বসতভিটা হারানোর আতঙ্কে মানবেতর জীবনযাপনের অভিযোগ করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ডিমলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাব-রেজিস্ট্রার কে এম সুজা উদ্দিন পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণে থাকায় গত ৭ এপ্রিল থেকে ৯ জুন পর্যন্ত চলতি দায়িত্ব পালন করেন নীলফামারী সদর সাব-রেজিস্ট্রার মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাসুম।

এ সময়ের মধ্যে গত ৯ জুন ডিমলা সদর ইউনিয়নের উত্তর তিতপাড়া গ্রামের ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা নুরেজা বেগম ও তার স্বামী সিরাজুল ইসলামের বসতভিটার ৭ শতক জমি জাল কাগজপত্র ও ভুয়া দাতার মাধ্যমে রেজিস্ট্রি করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। জমিটির হাল (বিএস) খতিয়ান নং-১৯৮৯ এবং দাগ নং-১২। অভিযোগ অনুযায়ী, একই গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে বাবুল হোসেন জাল দলিল ও ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে ২৬৬৩ নম্বর দলিলের মাধ্যমে জমিটি নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেন।

ভুক্তভোগীদের দাবি, দলিল রেজিস্ট্রেশনের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত সাব-রেজিস্ট্রার প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই না করেই দলিল সম্পাদন করেন। এতে প্রায় ২৫ বছর ধরে ভোগদখলে থাকা তাদের একমাত্র বসতভিটা নিয়ে অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী সিরাজুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “আমি প্রায় ২৫ বছর আগে জমিটি ক্রয় করে সেখানে বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছি। জমিটির হাল রেকর্ডও আমার স্ত্রী নুরেজা বেগমের নামে রয়েছে। অথচ ভুয়া ও জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে আমাদের বসতভিটা অন্যের নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা দাবি করছি।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “মোটা অঙ্কের উৎকোষের বিনিময়ে দলিল লেখক, সাব-রেজিস্টার কাগজপত্র যাচাই না করেই দলিল রেজিস্ট্রি:করেদেন।

আরও পড়ুনঃ  গোদাগাড়ীতে ফেসবুকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ, শ্রী সুমন সরদার আটক

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাব-রেজিস্ট্রার মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাসুমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “যদি সত্যিই এ ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকে, তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে দলিল বাতিলের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ ইমরানুজ্জামান বলেন, তবে গত ৯ জুন স্থানীয় লোকজন সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে আমার কার্যালয়ে আসেন। বিষয়টি আমি তাৎক্ষণিকভাবে জেলা প্রশাসক মহোদয়কে অবহিত করেছি।
স্থানীয়দের দাবি, জালিয়াতির মাধ্যমে বসতভিটা রেজিস্ট্রির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের প্রতারণার শিকার না হন।