Dhaka ১২:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটে সড়ক নিরাপত্তা কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ অপরিহার্য- লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল গাজীপুরে সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে দুইজন আটক পাবনায় চাটমোহর পৌরসভার প্রকৌশলীদের অনিয়মের প্রতিবাদে মানববন্ধন জামালগঞ্জে কারিতাসের উদ্যোগে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত জনগণের কল্যাণে জন্য কাজ করতে হবে,এলাকার উন্নয়ন করতে হবে এবং মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে একে এম ফজলুল হক মিলন, এমপি ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ ছয় হাজারের অধিক শিক্ষার্থীদের দিলো শিক্ষা উপকরণ মাধবপুরে গ্রাম আদালত বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বার্ষিক ক্যাম্পেইন কচুয়ায় ১০ পিছ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার টেকনাফে ২৭ কেজি গাঁজাসহ আটক ৩ টেকনাফে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ৪ কোটি টাকার ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

বিশ্বম্ভরপুরের পলাশ ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সহায়তার তালিকায় অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

  • Reporter Name
  • সময়: ০৭:২১:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
  • ১০ Time View

 

রজব আলী (সেলিম) সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:


সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার পলাশ ইউনিয়নে সম্প্রতি প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারি সহায়তার তালিকা প্রণয়নে ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বাদ দিয়ে জনপ্রতিনিধি ও যাচাই-বাছাই কমিটির আত্মীয়-স্বজনদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, চলতি মৌসুমে অকাল বন্যা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তাদের ধানক্ষেতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেক কৃষক ধান কাটার পর মাঠে স্তূপ করে রাখলেও আকস্মিক পানির চাপে সেই ধান নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরও তারা সরকারি সহায়তার তালিকায় স্থান পাননি। ধরেরপাড় গ্রামের কৃষক অজিত শর্মা অভিযোগ করে বলেন, “আমি ধান কাটার পরপরই হঠাৎ পানি এসে চাপ মারে। পরে ধান টেনে এনে যাম (স্তুপ) করে রাখি। কিন্তু পানিতে ভিজে ধানের মধ্যে গেরা (চারা গজিয়ে) আইয়া প্রায় অর্ধেক ধান নষ্ট হয়ে যায়। যে জমি থেকে সাধারণত ৭০ থেকে ৮০ মণ ধান পাওয়ার কথা, সেখানে ৬ কেয়ার জমি থেকে মাত্র ৩০ মণ ধান পেয়েছি। এবং কয়েকদিন আগে ৬০০ টাকা মণ দরে ধান বিক্রি করেছি । অথচ আমি কোনো সহায়তা পাইনি। যারা প্রকৃত পক্ষে কৃষক নয়, তারাই সরকারি সহায়তা পেয়েছে।” একই ধরনের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষক নিরমল, মহা রানী, নিবারণ দেবনাথ, অরফুনা রানী ও অবনী শর্মা। তারা জানান, তাদের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হলেও সরকারি সহায়তার তালিকায় তাদের নাম রাখা হয়নি। বরং একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ভাষ্যমতে, অনেক ক্ষেত্রে একটি বাড়ির চার থেকে পাঁচজন পর্যন্ত সরকারি সহায়তার তালিকায় স্থান পেয়েছেন। অথচ প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত অনেক কৃষক তালিকার বাইরে রয়ে গেছেন। তারা অভিযোগ করেন, তালিকা যাচাই-বাছাই কমিটির সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে—এমন ব্যক্তিদের নাম অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, সরকারি সহায়তা বণ্টনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা বঞ্চিত হয়েছেন এবং সরকারের মহৎ উদ্যোগ প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা উপজেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তারা দ্রুত অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা পুনরায় যাচাই এবং বঞ্চিত কৃষকদের সহায়তার আওতায় আনার আহ্বান জানান। পলাশ ইউনিয়ন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক তালিকার নাম সংগ্রহের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন আমরা চেষ্টা করেছি স্বচ্ছ ভাবে তালিকা করার জন্য। কিন্তু এমপি সাহেবের প্রতিনিধি’রা কিছু যোজন বিয়োজন করেছে সে ক্ষেত্রে কিছু ভুল ত্রুটি হতে পাড়ে। এদিকে বাছাই কমিটির আহ্বায়ক ইউনিয়ন পরিষদে প্যানেল চেয়ারম্যান স্বপন কুমার পাল উনার সাথে এ বিষয়ে কথা বললে,উনি জানান এমপি সাহেবর প্রতিনিধি এবং কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তা আমাকে যে তালিক দিয়েছে আমি তাই পাঠিয়ে দিয়েছি। এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেরিনা দেবনাথ উনার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে উনি বলে আমি তো তালিকা করার পড়ে এসেছি এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পাড়ি না।

আরও পড়ুনঃ  ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ইতমিনান পরিচালক কর্মশালা সফলভাবে অনুষ্ঠিত
Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটে সড়ক নিরাপত্তা কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ অপরিহার্য- লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল

বিশ্বম্ভরপুরের পলাশ ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সহায়তার তালিকায় অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

সময়: ০৭:২১:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

 

রজব আলী (সেলিম) সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:


সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার পলাশ ইউনিয়নে সম্প্রতি প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারি সহায়তার তালিকা প্রণয়নে ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বাদ দিয়ে জনপ্রতিনিধি ও যাচাই-বাছাই কমিটির আত্মীয়-স্বজনদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, চলতি মৌসুমে অকাল বন্যা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তাদের ধানক্ষেতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেক কৃষক ধান কাটার পর মাঠে স্তূপ করে রাখলেও আকস্মিক পানির চাপে সেই ধান নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরও তারা সরকারি সহায়তার তালিকায় স্থান পাননি। ধরেরপাড় গ্রামের কৃষক অজিত শর্মা অভিযোগ করে বলেন, “আমি ধান কাটার পরপরই হঠাৎ পানি এসে চাপ মারে। পরে ধান টেনে এনে যাম (স্তুপ) করে রাখি। কিন্তু পানিতে ভিজে ধানের মধ্যে গেরা (চারা গজিয়ে) আইয়া প্রায় অর্ধেক ধান নষ্ট হয়ে যায়। যে জমি থেকে সাধারণত ৭০ থেকে ৮০ মণ ধান পাওয়ার কথা, সেখানে ৬ কেয়ার জমি থেকে মাত্র ৩০ মণ ধান পেয়েছি। এবং কয়েকদিন আগে ৬০০ টাকা মণ দরে ধান বিক্রি করেছি । অথচ আমি কোনো সহায়তা পাইনি। যারা প্রকৃত পক্ষে কৃষক নয়, তারাই সরকারি সহায়তা পেয়েছে।” একই ধরনের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষক নিরমল, মহা রানী, নিবারণ দেবনাথ, অরফুনা রানী ও অবনী শর্মা। তারা জানান, তাদের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হলেও সরকারি সহায়তার তালিকায় তাদের নাম রাখা হয়নি। বরং একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ভাষ্যমতে, অনেক ক্ষেত্রে একটি বাড়ির চার থেকে পাঁচজন পর্যন্ত সরকারি সহায়তার তালিকায় স্থান পেয়েছেন। অথচ প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত অনেক কৃষক তালিকার বাইরে রয়ে গেছেন। তারা অভিযোগ করেন, তালিকা যাচাই-বাছাই কমিটির সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে—এমন ব্যক্তিদের নাম অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, সরকারি সহায়তা বণ্টনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা বঞ্চিত হয়েছেন এবং সরকারের মহৎ উদ্যোগ প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা উপজেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তারা দ্রুত অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা পুনরায় যাচাই এবং বঞ্চিত কৃষকদের সহায়তার আওতায় আনার আহ্বান জানান। পলাশ ইউনিয়ন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক তালিকার নাম সংগ্রহের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন আমরা চেষ্টা করেছি স্বচ্ছ ভাবে তালিকা করার জন্য। কিন্তু এমপি সাহেবের প্রতিনিধি’রা কিছু যোজন বিয়োজন করেছে সে ক্ষেত্রে কিছু ভুল ত্রুটি হতে পাড়ে। এদিকে বাছাই কমিটির আহ্বায়ক ইউনিয়ন পরিষদে প্যানেল চেয়ারম্যান স্বপন কুমার পাল উনার সাথে এ বিষয়ে কথা বললে,উনি জানান এমপি সাহেবর প্রতিনিধি এবং কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তা আমাকে যে তালিক দিয়েছে আমি তাই পাঠিয়ে দিয়েছি। এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেরিনা দেবনাথ উনার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে উনি বলে আমি তো তালিকা করার পড়ে এসেছি এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পাড়ি না।

আরও পড়ুনঃ  দীপেন দেওয়ানকে পার্বত্য মন্ত্রী পূনর্বহালের দাবীতে রাঙ্গামাটিতে কর্মসূচীর ঘোষণা