
মোঃ জোনায়েদ হোসেন (জুয়েল), কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ
রাজনৈতিক প্রভাব ও গোষ্ঠীগত স্বার্থের বলি হলেন একজন সাহসী পুলিশ কর্মকর্তা।
যিনি ছিনতাই-জুয়া-মাদক দমনে রেকর্ড গড়লেন, বিশ্ব ইজতেমায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করলেন, সাংবাদিক হত্যার রহস্য উন্মোচন করলেন মাত্র ৩ দিনে—তিনিই এখন ‘ক্লোজড’।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ডিআইজি ড. মো. নাজমুল করিম খানকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। আদেশে আনুষ্ঠানিক কারণ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে “বাসা থেকে যাতায়াত”—কিন্তু বাস্তবতা আরও জটিল, আরও রাজনৈতিক।
পেশাদারিত্বই তার অপরাধ?
ড. নাজমুল করিম পুলিশ ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের সদস্য। জাপানে পিএইচডি অর্জনকারী এ কর্মকর্তা ছাত্রজীবনে বিএনপির ছাত্রদল সংশ্লিষ্ট থাকলেও চাকরিজীবনে ছিলেন নিরপেক্ষ, দায়িত্বশীল ও কঠোর হাতে অপরাধ দমনকারী।
তবে এত যোগ্যতা ও সাফল্যও তাকে রক্ষা করতে পারেনি। বরং, শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর হওয়ার কারণে ক্ষমতাবান গোষ্ঠী ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তিনজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও একটি প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গ্রুপ তার অপসারণে সক্রিয় ভূমিকা নেয়।
বাসা ইস্যু? না কি অজুহাত?
আদেশে বলা হয়েছে, তিনি ঢাকায় থেকে অফিস করতেন। অথচ, জিএমপি প্রতিষ্ঠার পর সব কমিশনারই এমনভাবে যাতায়াত করতেন। সরকারি বাসা বরাদ্দ না থাকায় ঢাকায় থাকা ছিল বাস্তবতা।
তাহলে হঠাৎ এই অভিযোগ কেন?
কর্মকর্তারা বলছেন, এটি একটি “প্রশাসনিক নাটক”। মূল উদ্দেশ্য ছিল তাকে সরিয়ে দেওয়া—সততা, দক্ষতা, এবং রাজনৈতিক আনুগত্যহীনতার ‘মূল্য’ দিতে হয়েছে নাজমুল করিমকে।
সাফল্যের তালিকা দীর্ঘ, কিন্তু সহ্য হয়নি
ছয় মাসে ২,০০০+ ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার
হোটেলভিত্তিক দেহব্যবসা ও মাদক দমন
পোশাক খাতে অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণ
বিশ্ব ইজতেমায় সফল নিরাপত্তা
সাংবাদিক তুহিন হত্যা মামলায় ৩ দিনের মধ্যে ৯ জন আসামি গ্রেপ্তার
হানিট্র্যাপ ও ট্রাভেল ব্যাগে লাশ কাণ্ডে রহস্য উদঘাটনা
এই সাফল্যগুলো জনগণের প্রশংসা কুড়ালেও ভীত করেছে একশ্রেণির সুবিধাভোগী ও অপরাধ-রাজনীতির মদদদাতাদের।
একটি প্রশ্নের মুখে প্রশাসন
একজন পিএইচডি ধারী, অপরাধ দমনে সফল ও প্রমাণিত দক্ষ কর্মকর্তা কেন হঠাৎ করে ক্লোজড?
এটাই কি আমাদের রাষ্ট্রের বার্তা—“সৎ থেকো না, কাজ করো না, প্রশ্ন করো না”?
ডিআইজি ড. নাজমুল করিমের অপসারণ শুধু একজন কর্মকর্তার প্রতি অবিচার নয়—এটি সততা, পেশাদারিত্ব ও প্রশাসনিক স্বাধীনতার উপর সরাসরি আঘাত।
এই ঘটনা মনে করিয়ে দেয়—ক্ষমতা যদি বিবেকহীন হয়, তবে ন্যায়বিচারের জন্য যুদ্ধ করে যাওয়ার সাহসই সবচেয়ে বড় অপরাধ হয়ে দাঁড়ায়।
মোঃ জোনায়েদ হোসেন জুয়েল কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি 






















