Dhaka ১০:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
নাগেশ্বরী অ্যাপোলো ক্লিনিকে সিজারের পর চিকিৎসায় অবহেলার মৃত্যুর অভিযোগ নির্বিঘ্ন দুর্গোৎসব নিশ্চিত করতে নগরীর পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন সিএমপি কমিশনার চরভদ্রাসনে ১৫ মণ্ডপে শুরু শারদীয় দুর্গাপূজা, চলবে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত তিন কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক শিবির নেতা সুমন গ্রেপ্তার চরভদ্রাসনে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় তৎপর পুলিশ, ১৫ পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ওসির বাঁশখালীতে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানো সংগঠন ও মানবতার ফেরিওয়ালাদের সংবর্ধনা দেবে প্রবাসী মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশন চন্দনাইশে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৩ পরিবারের বসতঘর ভস্মীভূত, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ডিমলায় প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা হচ্ছে গুজব সুনামগঞ্জে মাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, আটক ছেলে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে ভেঙ্গে দেওয়া হলো জামায়াতের কুমিল্লা মহানগর সংগঠন ও ইমারাত
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

সার ডিলারকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা

  • Reporter Name
  • সময়: ০৭:১৬:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ৮৪ Time View

মো. গোলাম কিবরিয়া,
রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি


কৃষকের জন্য সরকারি বরাদ্দের সার নির্ধারিত ব্যবস্থার বাইরে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগে রাজশাহীর পবা উপজেলার হরিয়ান বাজারে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে ১২ বস্তা রাসায়নিক সার জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মেসার্স সাইদুর ট্রেডার্সের মালিক ও সার ডিলার সাইদুর রহমানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হরিয়ান বাজারে মেসার্স সাইদুর ট্রেডার্সে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবনুল আবেদীন। সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬-এর ১২ ধারায় সাইদুর রহমানকে এ অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, বেশ কিছুদিন ধরে সরকারি সার কিনতে গিয়ে তাঁরা সমস্যার মুখে পড়ছিলেন। প্রয়োজনের সময় ডিলারের কাছে সার না পেয়ে অনেক কৃষককে অন্য স্থান থেকে বেশি দামে সার কিনতে হয়েছে। এতে তাঁদের উৎপাদন খরচ বেড়েছে বলে জানান কৃষকেরা।

এর মধ্যে সরকারি বরাদ্দের সার অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে স্থানীয় কৃষকেরা টিএসপি ও অন্যান্য রাসায়নিক সারসহ ১২ বস্তা সার আটক করে প্রশাসনকে খবর দেন।

খবর পেয়ে ইউএনও মো. ইবনুল আবেদীন ঘটনাস্থলে গিয়ে সারের মজুত, সংরক্ষণ ও সরবরাহের বিষয়ে খোঁজ নেন। অভিযানে সরকারি বরাদ্দের সার নির্ধারিত ব্যবস্থার বাইরে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। পরে ডিলার সাইদুর রহমানকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

ইউএনও মো. ইবনুল আবেদীন বলেন, “কৃষকের জন্য বরাদ্দ সরকারি সার কোনোভাবেই অবৈধভাবে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া বা নির্ধারিত ব্যবস্থার বাইরে বিক্রি করা যাবে না। সার বিতরণ ব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, “সরকারি সার পাচার, কালোবাজারি কিংবা কৃত্রিম সংকট তৈরির কোনো চেষ্টা প্রশাসন মেনে নেবে না। কৃষকের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি সার ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ঠেকাতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

আরও পড়ুনঃ  ভাঙ্গুড়ায় ২ লাখ ২৮ হাজার টাকার চায়না দুয়ারি জাল জব্দ, আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট

হরিয়ান ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বাদশা মিয়া বলেন, “কৃষকের জন্য বরাদ্দ সরকারি সার অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগের বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। সরকারি সার নির্ধারিত পথে না গেলে মাঠপর্যায়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয় এবং কৃষকের উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়।” তিনি ঘটনার তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, সরকারি সার বিতরণে অনিয়ম হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকেরা। তাঁদের অনেকের বেশি দামে সার কেনার সামর্থ্য নেই। তাই সরকারি বরাদ্দের সার কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী যথাসময়ে বিতরণ এবং ডিলারদের মজুত ও বিক্রির হিসাব নিয়মিত তদারকির দাবি জানান তাঁরা।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

নাগেশ্বরী অ্যাপোলো ক্লিনিকে সিজারের পর চিকিৎসায় অবহেলার মৃত্যুর অভিযোগ

সার ডিলারকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা

সময়: ০৭:১৬:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

মো. গোলাম কিবরিয়া,
রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি


কৃষকের জন্য সরকারি বরাদ্দের সার নির্ধারিত ব্যবস্থার বাইরে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগে রাজশাহীর পবা উপজেলার হরিয়ান বাজারে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে ১২ বস্তা রাসায়নিক সার জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মেসার্স সাইদুর ট্রেডার্সের মালিক ও সার ডিলার সাইদুর রহমানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হরিয়ান বাজারে মেসার্স সাইদুর ট্রেডার্সে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবনুল আবেদীন। সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬-এর ১২ ধারায় সাইদুর রহমানকে এ অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, বেশ কিছুদিন ধরে সরকারি সার কিনতে গিয়ে তাঁরা সমস্যার মুখে পড়ছিলেন। প্রয়োজনের সময় ডিলারের কাছে সার না পেয়ে অনেক কৃষককে অন্য স্থান থেকে বেশি দামে সার কিনতে হয়েছে। এতে তাঁদের উৎপাদন খরচ বেড়েছে বলে জানান কৃষকেরা।

এর মধ্যে সরকারি বরাদ্দের সার অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে স্থানীয় কৃষকেরা টিএসপি ও অন্যান্য রাসায়নিক সারসহ ১২ বস্তা সার আটক করে প্রশাসনকে খবর দেন।

খবর পেয়ে ইউএনও মো. ইবনুল আবেদীন ঘটনাস্থলে গিয়ে সারের মজুত, সংরক্ষণ ও সরবরাহের বিষয়ে খোঁজ নেন। অভিযানে সরকারি বরাদ্দের সার নির্ধারিত ব্যবস্থার বাইরে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। পরে ডিলার সাইদুর রহমানকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

ইউএনও মো. ইবনুল আবেদীন বলেন, “কৃষকের জন্য বরাদ্দ সরকারি সার কোনোভাবেই অবৈধভাবে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া বা নির্ধারিত ব্যবস্থার বাইরে বিক্রি করা যাবে না। সার বিতরণ ব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, “সরকারি সার পাচার, কালোবাজারি কিংবা কৃত্রিম সংকট তৈরির কোনো চেষ্টা প্রশাসন মেনে নেবে না। কৃষকের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি সার ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ঠেকাতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

আরও পড়ুনঃ  ভাঙ্গুড়ায় ২ লাখ ২৮ হাজার টাকার চায়না দুয়ারি জাল জব্দ, আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট

হরিয়ান ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বাদশা মিয়া বলেন, “কৃষকের জন্য বরাদ্দ সরকারি সার অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগের বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। সরকারি সার নির্ধারিত পথে না গেলে মাঠপর্যায়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয় এবং কৃষকের উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়।” তিনি ঘটনার তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, সরকারি সার বিতরণে অনিয়ম হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকেরা। তাঁদের অনেকের বেশি দামে সার কেনার সামর্থ্য নেই। তাই সরকারি বরাদ্দের সার কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী যথাসময়ে বিতরণ এবং ডিলারদের মজুত ও বিক্রির হিসাব নিয়মিত তদারকির দাবি জানান তাঁরা।