Dhaka ০৯:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
চট্টগ্রামের রাজনীতিতে সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্ব: বাস্তবতা, প্রত্যাশা ও সাংগঠনিক সমীকরণ জাহাজভাঙা শিল্পে নিরাপত্তাহীনতা রয়ে গেছে ‘শিক্ষার জয়যাত্রা ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা-২০২৬’ অনুষ্ঠিত, সহযোগিতায় জাস ফাউন্ডেশন শহীদ জিয়াউর রহমানের গুণাবলীর সঙ্গে মানসিক সংযোগ স্থাপন করতে হবে শিক্ষা, সমাজসেবা ও নেতৃত্বে এক অনন্য পথিকৃৎ: হাফেজ মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ মুসা খান চট্টগ্রামে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম মেডিকেলে সাধারণ রোগীদের দালালের হাতে জিন্মি 🌙 মানব জীবন পত্রিকার পক্ষ থেকে পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক 🌙 সমাজসেবায় বিশেষ অবদানের জন্য অপরাজয়ের সংগঠনকে সম্মাননা প্রদান সমাজ ও মানবসেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে “ইসলামিক সেবক সম্মাননা” পেলেন মাওলানা মুহাম্মদ রজীবুল হক
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

১২ কোটির বিনিময়ে এমপি পদ বিস্ফোরক অভিযোগ চট্টগ্রামের বিএনপি নেএীর

  • Reporter Name
  • সময়: ১১:৩৬:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
  • ১১২ Time View

 

মো: মারুফ, চট্টগ্রাম সিটি রির্পোটার:

ফটো চিএে, আপোষ জয়ধর,


চট্টগ্রামের রাজনীতিতে হঠাৎই আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে এক বিস্ফোরক অভিযোগে। জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক ফাতেমা বাদশা দাবি করেছেন, সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন নিশ্চিত করতে তাঁর কাছে ১২ কোটি টাকা দাবি করা হয়েছিল। বিষয়টি তিনি ঢাকা ভিত্তিক ইংরেজি দৈনিক ‘টাইমস অব বাংলাদেশ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তুলে ধরেন, যা সরকারি দলের মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় টাকার প্রভাব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

চট্টগ্রাম নগরের ডবলমুরিং থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত বাদশা মিয়ার স্ত্রী ফাতেমা বাদশা ‘টাইমস অব বাংলাদেশ’-কে বলেন, ঢাকা থেকে একটি দল মাইক্রোবাসে করে চট্টগ্রামে এসে সরাসরি তাঁর সঙ্গে দেখা করে। ওই বৈঠকে তাঁকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়, ১২ কোটি টাকা দিলে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন এবং পরবর্তী সময়ে সংসদ সদস্য হওয়া নিশ্চিত করা হবে। তবে তিনি জানান, প্রস্তাবটি এখানেই শেষ হয়নি।

ফাতেমা বাদশা দাবি করেছেন, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে বিকল্প একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়। সেই প্রস্তাব অনুযায়ী, তিনি এমপি হতে পারবেন ঠিকই, তবে আগেভাগে এমন কিছু নথিতে স্বাক্ষর করতে হবে, যেখানে তাঁর নামে বরাদ্দ হওয়া উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা ব্যবহারের অনুমোদন থাকবে। বাস্তবে ওই টাকার নিয়ন্ত্রণ থাকবে ওই গোষ্ঠীর হাতে, যার মাধ্যমে তারা প্রকল্প থেকে অর্থ তুলে নিতে পারবে।

ফাতেমা বাদশা বলেন, ‘তাহলে আমি পুতুল ছাড়া কিছুই থাকতাম না। আমার হাত-পা বাঁধা থাকত। রাজনীতিতে আসার উদ্দেশ্য এটা নয়।’ তিনি জানান, দুই প্রস্তাবই তিনি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

প্রায় চার দশক ধরে রাজনীতিতে সক্রিয় ফাতেমা বাদশা চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) সংসদীয় আসনে বিএনপি থেকে নির্বাচন করতে মনোনয়ন চেয়েছিলেন।

চট্টগ্রাম বিভাগের আটটি জেলায় তিনি নিয়মিত সফর করেছেন বলেও জানান তিনি। নিজের টাকা খরচ করে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে কাজ করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কোনো ব্যক্তিগত লাভের আশায় কাজ করিনি। কিন্তু আজ সেই ত্যাগের কোনো স্বীকৃতি নেই।’

আরও পড়ুনঃ  চট্টগ্রামের রাজনীতিতে সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্ব: বাস্তবতা, প্রত্যাশা ও সাংগঠনিক সমীকরণ

একই সঙ্গে তিনি দীর্ঘদিনের বঞ্চনার কথাও তুলে ধরেন। তাঁর ভাষ্য, একটি ‘অদৃশ্য শক্তি’ রয়েছে, যারা দলীয় স্বীকৃতি প্রাপ্তির পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, ‘কারা তারা, জানি না। কিন্তু সবকিছু তাদের নিয়ন্ত্রণে। যোগ্যতা ও নিষ্ঠার আর কোনো মূল্য নেই।’

তবে যারা তাঁর কাছে এই প্রস্তাব নিয়ে এসেছিলেন, তাঁদের নাম-পরিচয় ও ফোন নম্বর তাঁর কাছে রয়েছে বলে দাবি করলেও তিনি সেটা প্রকাশ করতে রাজি হননি। ফলে অভিযোগটি ‘টাইমস অব বাংলাদেশ’ স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

এই অভিযোগের বাইরে দলীয় কাঠামোর ভেতরের আরেকটি প্রবণতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। চট্টগ্রামের রাজনীতিতে বাইরের জেলার নেতাদের প্রভাব বাড়ছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘অন্য জেলা থেকে লোক এনে যদি চট্টগ্রাম চালানো হয়, তাহলে স্থানীয় নেতাদের ভূমিকা কোথায়?’

চট্টগ্রামে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা বিষয়টি থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছেন। কোনো ধরনের অভ্যন্তরীণ তদন্তের ইঙ্গিতও পাওয়া যায়নি।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে কিছু জানেন না। বর্তমানে ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে অবস্থান করছেন চট্টগ্রাম-৮ আসন থেকে নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য।

মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কোনো তথ্য নেই। কেউ আমার কাছে এ ধরনের কিছু নিয়ে আসেনি।’ তিনি আরও বলেন, দায়িত্বশীল পদে থাকা কারও এভাবে প্রকাশ্যে অভিযোগ তোলা কতটা সমীচীন, সেটিও বিবেচনার বিষয়।

অভিযোগের আর্থিক দিক নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নাজিমুর রহমান। তাঁর ভাষ্য, একজন সংসদ সদস্যের সরকারি আয়ে এত বড় বিনিয়োগের যৌক্তিকতা নেই।

বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, বিষয়টি তাঁর দায়িত্বের আওতায় পড়ে না।

Tag :

চট্টগ্রামের রাজনীতিতে সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্ব: বাস্তবতা, প্রত্যাশা ও সাংগঠনিক সমীকরণ

১২ কোটির বিনিময়ে এমপি পদ বিস্ফোরক অভিযোগ চট্টগ্রামের বিএনপি নেএীর

সময়: ১১:৩৬:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

 

মো: মারুফ, চট্টগ্রাম সিটি রির্পোটার:

ফটো চিএে, আপোষ জয়ধর,


চট্টগ্রামের রাজনীতিতে হঠাৎই আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে এক বিস্ফোরক অভিযোগে। জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক ফাতেমা বাদশা দাবি করেছেন, সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন নিশ্চিত করতে তাঁর কাছে ১২ কোটি টাকা দাবি করা হয়েছিল। বিষয়টি তিনি ঢাকা ভিত্তিক ইংরেজি দৈনিক ‘টাইমস অব বাংলাদেশ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তুলে ধরেন, যা সরকারি দলের মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় টাকার প্রভাব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

চট্টগ্রাম নগরের ডবলমুরিং থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত বাদশা মিয়ার স্ত্রী ফাতেমা বাদশা ‘টাইমস অব বাংলাদেশ’-কে বলেন, ঢাকা থেকে একটি দল মাইক্রোবাসে করে চট্টগ্রামে এসে সরাসরি তাঁর সঙ্গে দেখা করে। ওই বৈঠকে তাঁকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়, ১২ কোটি টাকা দিলে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন এবং পরবর্তী সময়ে সংসদ সদস্য হওয়া নিশ্চিত করা হবে। তবে তিনি জানান, প্রস্তাবটি এখানেই শেষ হয়নি।

ফাতেমা বাদশা দাবি করেছেন, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে বিকল্প একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়। সেই প্রস্তাব অনুযায়ী, তিনি এমপি হতে পারবেন ঠিকই, তবে আগেভাগে এমন কিছু নথিতে স্বাক্ষর করতে হবে, যেখানে তাঁর নামে বরাদ্দ হওয়া উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা ব্যবহারের অনুমোদন থাকবে। বাস্তবে ওই টাকার নিয়ন্ত্রণ থাকবে ওই গোষ্ঠীর হাতে, যার মাধ্যমে তারা প্রকল্প থেকে অর্থ তুলে নিতে পারবে।

ফাতেমা বাদশা বলেন, ‘তাহলে আমি পুতুল ছাড়া কিছুই থাকতাম না। আমার হাত-পা বাঁধা থাকত। রাজনীতিতে আসার উদ্দেশ্য এটা নয়।’ তিনি জানান, দুই প্রস্তাবই তিনি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

প্রায় চার দশক ধরে রাজনীতিতে সক্রিয় ফাতেমা বাদশা চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) সংসদীয় আসনে বিএনপি থেকে নির্বাচন করতে মনোনয়ন চেয়েছিলেন।

চট্টগ্রাম বিভাগের আটটি জেলায় তিনি নিয়মিত সফর করেছেন বলেও জানান তিনি। নিজের টাকা খরচ করে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে কাজ করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কোনো ব্যক্তিগত লাভের আশায় কাজ করিনি। কিন্তু আজ সেই ত্যাগের কোনো স্বীকৃতি নেই।’

আরও পড়ুনঃ  ‘শিক্ষার জয়যাত্রা ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা-২০২৬’ অনুষ্ঠিত, সহযোগিতায় জাস ফাউন্ডেশন

একই সঙ্গে তিনি দীর্ঘদিনের বঞ্চনার কথাও তুলে ধরেন। তাঁর ভাষ্য, একটি ‘অদৃশ্য শক্তি’ রয়েছে, যারা দলীয় স্বীকৃতি প্রাপ্তির পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, ‘কারা তারা, জানি না। কিন্তু সবকিছু তাদের নিয়ন্ত্রণে। যোগ্যতা ও নিষ্ঠার আর কোনো মূল্য নেই।’

তবে যারা তাঁর কাছে এই প্রস্তাব নিয়ে এসেছিলেন, তাঁদের নাম-পরিচয় ও ফোন নম্বর তাঁর কাছে রয়েছে বলে দাবি করলেও তিনি সেটা প্রকাশ করতে রাজি হননি। ফলে অভিযোগটি ‘টাইমস অব বাংলাদেশ’ স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

এই অভিযোগের বাইরে দলীয় কাঠামোর ভেতরের আরেকটি প্রবণতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। চট্টগ্রামের রাজনীতিতে বাইরের জেলার নেতাদের প্রভাব বাড়ছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘অন্য জেলা থেকে লোক এনে যদি চট্টগ্রাম চালানো হয়, তাহলে স্থানীয় নেতাদের ভূমিকা কোথায়?’

চট্টগ্রামে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা বিষয়টি থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছেন। কোনো ধরনের অভ্যন্তরীণ তদন্তের ইঙ্গিতও পাওয়া যায়নি।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে কিছু জানেন না। বর্তমানে ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে অবস্থান করছেন চট্টগ্রাম-৮ আসন থেকে নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য।

মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কোনো তথ্য নেই। কেউ আমার কাছে এ ধরনের কিছু নিয়ে আসেনি।’ তিনি আরও বলেন, দায়িত্বশীল পদে থাকা কারও এভাবে প্রকাশ্যে অভিযোগ তোলা কতটা সমীচীন, সেটিও বিবেচনার বিষয়।

অভিযোগের আর্থিক দিক নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নাজিমুর রহমান। তাঁর ভাষ্য, একজন সংসদ সদস্যের সরকারি আয়ে এত বড় বিনিয়োগের যৌক্তিকতা নেই।

বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, বিষয়টি তাঁর দায়িত্বের আওতায় পড়ে না।